Falta By Election Result: ডায়মন্ড হারবারে সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে বড় সাফল্যের দাবি উঠলেও ফলতা উপনির্বাচনের ফল যেন উল্টো বার্তাই দিল। বিজেপির বিপুল লিড, তৃণমূলের চতুর্থ স্থান এবং পোস্টাল ব্যালটের ফল ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-র উদ্যোগে এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সহায়তায় আয়োজিত “সেবাশ্রয়” প্রকল্পকে ঘিরে একসময় তৈরি হয়েছিল বড়সড় সাফল্যের ছবি। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ, গুরুতর রোগীদের বিশেষ চিকিৎসার জন্য রেফার—সব মিলিয়ে এই স্বাস্থ্য শিবিরকে “ডায়মন্ড হারবার মডেল” হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। দাবি করা হয়েছিল, কয়েক লক্ষাধিক মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। এত বড় সামাজিক উদ্যোগ, এত প্রচার, এত জনসংযোগ—তার প্রভাব ভোটবাক্সে দেখা গেল না কেন? ফলতা উপনির্বাচনের ফলাফল যেন সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করে তুলছে।
ষষ্ঠ রাউন্ডের গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন প্রায় উনিশ হাজার সাতশো এক ভোটে। বিজেপি পেয়েছে ৩৭ হাজার ৪৭৪ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম, তাদের প্রাপ্ত ভোট ১৭ হাজার ৭৭৩। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস, প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৭৮৪। আর সবথেকে বড় ধাক্কা—তৃণমূল কংগ্রেস নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে। তাদের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ১ হাজার ৯০৪ ভোট।
এই ফলাফলের আরও চমকপ্রদ দিক হল পোস্টাল ব্যালটের ফল। সাধারণত প্রশাসনিক স্তরে শাসকদলের প্রভাব নিয়ে নানা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হয়। কিন্তু ফলতায় পোস্টাল ব্যালটেও বিজেপির এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের একদিন আগেই কার্যত নিজেকে সরিয়ে নেন তৃণমূল প্রার্থী Jahangir Khan। যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের তালিকায় তাঁর নাম থেকেই যায়। তারপর থেকেই তিনি আরও বেশি করে বিতর্ক এবং আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন।
এলাকায় একসময় ‘ক্রাশ’ ইমেজ তৈরি করা জাহাঙ্গীর খান নিজেকে প্রায় ‘এলাকার বস’ হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু ভোটের ময়দানে সেই প্রভাবের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। বরং রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তাঁর সরে দাঁড়ানো কার্যত বিজেপিকে “ওয়াকওভার” দিয়েছে।
সব মিলিয়ে এখন বড় প্রশ্ন—ডায়মন্ড হারবারের বহু চর্চিত “সেবাশ্রয়” প্রকল্প কি তবে রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ? যে প্রকল্পকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন জনসমর্থন আরও শক্ত হবে, সেই প্রকল্প কি শেষ পর্যন্ত ভোটের অঙ্কে কোনও প্রভাবই ফেলতে পারল না?
ফলতার এই ফলাফল এখন শুধু একটি উপনির্বাচনের ফল নয়, বরং তা হয়ে উঠছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা। কারণ, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ইতিমধ্যেই ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলতায় জয় নিশ্চিত হলে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২০৮। আর সেই পরিস্থিতিতে ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—“সেবাশ্রয়ের নৌকা কি তবে মাঝগঙ্গাতেই ডুবল?”
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে থেকে?

