নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট—এই ঠিকানাই দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। আর সেই ঠিকানাতেই সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে সিআইডি তল্লাশি চালাচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয়েও তদন্তকারীরা পৌঁছন। শুধু মূল ভবনই নয়, বাড়ির বিপরীতে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ও সিআইডি ঘিরে ফেলে এবং সেখানে তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও বিধায়ক মদন মিত্র এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে তাঁরা কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলেও তদন্তকারী সংস্থা তাঁদের অনুমতি দেয়নি বলে দলীয় সূত্রে দাবি। যদিও দলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছু সময়ের জন্য ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে খবর।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ছিলেন না। তিনি বর্তমানে দিল্লিতে জোটের বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
সই জালিয়াতি মামলাতেই তল্লাশি
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সই জালিয়াতি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। মামলার সঙ্গে যুক্ত কিছু নথি ও তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তদন্তকারীরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, এটি তদন্তের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে চাপে ফেলতেই তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। দলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, বিজেপির নির্দেশেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হয়েছে।
তৃণমূলের বক্তব্য, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, কিন্তু তদন্তের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে শুভ নয়।
অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তল্লাশি নিয়ে বিস্তারিত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ফলে ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সিআইডির এই অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত কতদূর গড়ায় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
তল্লাশি অভিযান শেষে সিআইডি আধিকারিকরা কোনও জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। তবে তৃণমূল সূত্রের দাবি, তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনও সামগ্রী নিয়ে যাননি। অভিযানের শেষে তাঁরা শুধুমাত্র একটি সিজার লিস্ট বা জব্দতালিকার নথি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতা শুভাশিস চক্রবর্তীর হাতে তুলে দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
তৃণমূলের দাবি, দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পরও তদন্তকারীরা উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্ধার করতে পারেননি। যদিও সিআইডির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি, রাজনৈতিক তরজা এবং প্রবল চাঞ্চল্যের পর শেষ পর্যন্ত সিআইডি আধিকারিকরা স্থান ছাড়েন। তৃণমূল সূত্রের দাবি, তদন্তকারীরা কোনও সামগ্রী উদ্ধার না করেই শুধু একটি সিজার লিস্ট শুভাশিস চক্রবর্তীর হাতে তুলে দিয়ে চলে যান। এরপরই শাসকদল প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, এত বড় অভিযানের পর তদন্তকারীরা আসলে কী পেলেন?
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

