EVM Strong Room Security: ভোটযন্ত্রর কড়া নিরাপত্তা, দ্বৈত তালা ও সার্বক্ষণিক পাহারার মধ্যে কীভাবে সংরক্ষিত থাকে প্রতিটি ভোট—তা নিয়েই বাড়ছে কৌতূহল, বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তাপ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতি যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা, বিতর্ক এবং কৌতূহল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন এর ভোটের শেষে ফলাফল বেরনোর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি যে দাবি করেছেন—“২২৬-র বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠন করব”—তা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন ফেলেছে। এর সঙ্গে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, বিরোধীরা নাকি “এজেন্সি ব্যবহার করে ভুয়ো Exit Poll” ছড়াচ্ছে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। এই পরিস্থিতিতে তিনি দলীয় কর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন—EVM রাখা Strong Room পাহারা দিতে হবে শেষ ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই Strong Room আসলে কী? সেখানে কীভাবে রাখা হয় EVM? কতটা নিরাপত্তা থাকে? সাধারণ ভোটারদের অনেকের কাছেই এই বিষয়টা এখনও রহস্যময়। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা খুঁজে দেখব সেই অন্দরমহলের বাস্তব চিত্র—যেখানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কয়েকদিনের জন্য “লক” হয়ে থাকে।
ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—ভোটযন্ত্রের নিরাপত্তা। সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকা এই প্রক্রিয়াই আসলে নির্ধারণ করে গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা অটুট থাকবে।
নিরাপত্তা সুরক্ষা
ভোটযন্ত্র শক্তকক্ষে রাখার সময় অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দ্বৈত তালা ব্যবস্থা।
শক্তকক্ষে দুটি আলাদা তালা থাকে—
- প্রথম তালার চাবি থাকে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে
- দ্বিতীয় তালার চাবি থাকে উপ-জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে
এই দুই আধিকারিকের সম্মতি ছাড়া কোনোভাবেই দরজা খোলা সম্ভব নয়। ফলে এককভাবে কেউ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
এর পাশাপাশি শক্তকক্ষের করিডর ও প্রবেশদ্বার সারাক্ষণ নজরদারি ক্যামেরার আওতায় থাকে। দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা এই নজরদারি চলতে থাকে, যাতে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা
প্রতিটি শক্তকক্ষে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন থাকে। সাধারণত প্রতি শক্তকক্ষে ১২ থেকে ১৮ জন জওয়ান দায়িত্ব পালন করেন।
এই বাহিনীর মধ্যে থাকতে পারে—
- কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী
- সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী
- ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ
- সশস্ত্র সীমা বল
সারা দেশে প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটযন্ত্র, শক্তকক্ষ এবং গণনাকেন্দ্র পাহারায় নিয়োজিত থাকে। এই বাহিনীগুলি শুধুমাত্র বাহ্যিক নিরাপত্তাই দেয় না, বরং কোনো অননুমোদিত প্রবেশ বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ রুখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক দলের নজরদারি
শুধু প্রশাসন নয়, রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের তরফে শক্তকক্ষের ওপর নজরদারি চালায়। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেসের মতো দলগুলি নিজেদের কর্মী মোতায়েন করে শক্তকক্ষের চারপাশে অবস্থান করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থাও ব্যবহার করে, যাতে কোনো সন্দেহজনক ঘটনা চোখ এড়িয়ে না যায়।
এই প্রেক্ষাপটে মমতা ব্যানার্জি তাঁর দলীয় কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একদিকে যেমন সতর্কতা, তেমনি কর্মীদের সক্রিয় রাখার কৌশলও।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ভোটযন্ত্র ও ভোট যাচাই যন্ত্র সংগ্রহ করা হয়। প্রথমে এগুলি পুলিশ পাহারায় গ্রহণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে নির্দিষ্ট শক্তকক্ষে পাঠানো হয় বিশেষ যানবাহনে, যেগুলিতে অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয়। প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ভোটযন্ত্র শক্তকক্ষে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, প্রার্থীরা নিজেরাও শক্তকক্ষের দরজায় সিল লাগাতে পারেন, যাতে পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তন হলে তা সহজেই বোঝা যায়।
গণনার দিন
গণনার দিন শক্তকক্ষ খোলার প্রক্রিয়াও অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। প্রার্থী, তাঁদের প্রতিনিধি এবং নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভিডিও ধারণের মধ্যেই শক্তকক্ষ খোলা হয়। এর আগে দরজার সিল পরীক্ষা করা হয়। যদি কোনো অসঙ্গতি দেখা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে তবেই ভোটযন্ত্র বের করে গণনা শুরু হয়। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হল মানুষের আস্থা—আর সেই আস্থা রক্ষার জন্যই এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বিজেপিতে যোগ দিয়েই সোজা ভবানীপুরে রাঘব? মমতার গড়েই কি বড় চমকের প্রস্তুতি?
- ভোট দিতে গিয়ে ছবি তুলবেন? ভোটের বুথে এবার দেখা মিলবে বিশেষ চরিত্রের, জানুন কেন এই নতুন ব্যবস্থা
- ৬ সাংসদকে নিয়ে হঠাৎ বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা! জাতীয় রাজনীতিতে এ কোন বড় পালাবদলের ইঙ্গিত?
- নস্টালজিয়ার টানে ভিড় শহরে! কেন সবাই ছুটছে আইকনিক সেটে ছবি তুলতে? জানুন বিস্তারিত
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নামী কলেজে কমছে আসন! কোন বিষয়ের দিকে ঝুঁকছে এখন ছাত্রছাত্রীরা?

