Kunal Ghosh Contempt of Court: কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভে উস্কানির অভিযোগে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত কুণাল ঘোষ। একই মামলায় সাতজন চাকরিপ্রার্থীকেও জরিমানা করেছে আদালত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ এবং আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় তৃণমূলের মুখপাত্র ও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই মামলায় আরও সাতজন চাকরিপ্রার্থীকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর বেঞ্চ কুণাল ঘোষের উপর ২,০০০ টাকা এবং বাকি সাতজনের প্রত্যেকের উপর ১,০০০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করেছে।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত?
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় উচ্চমাধ্যমিকের অতিরিক্ত শূন্যপদে ১,২৮০ জন চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতাকে কেন্দ্র করে। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ ছিল, আদালতে মামলা চলার কারণেই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে।
২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চে শুনানির পর প্রত্যাশিত নির্দেশ না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। আদালত চত্বর থেকেই তারা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হাইকোর্ট চত্বরে কী ঘটেছিল?
বিক্ষোভকারীরা কিরণশঙ্কর রায় রোডে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের জুনিয়র আইনজীবীদের দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখেন। তাদের অভিযোগ ছিল, এসএসসি সুপারিশপত্র থাকা সত্ত্বেও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তাঁর আইনি পদক্ষেপের কারণেই আদালত নিয়োগে ছাড়পত্র দিচ্ছে না।
পরবর্তীতে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য হাইকোর্ট চত্বরে পৌঁছালে তাঁকেও ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর ছবি মাটিতে ফেলে পায়ে মাড়ানো, ছবির উপর থুতু ছিটানো-সহ একাধিক বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও তাঁর সহযোগীদের নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ?
এই ঘটনার পর কলকাতা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার মামলা রুজু করে। শুনানির সময় আদালতে অভিযোগ ওঠে, কুণাল ঘোষের বক্তব্য এবং সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একাধিক মন্তব্য বিক্ষোভকারীদের উস্কে দিয়েছিল। আদালতের মতে, তাঁর মন্তব্যের জেরেই আদালত চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
২০২৫ সালের ১৯ মে মামলার শুনানিতে কুণাল ঘোষ আদালতের কাছে কয়েক মিনিট সময় চেয়ে নিজের বক্তব্য রাখতে আবেদন জানান। তবে বিচারপতিরা সেই আবেদন গ্রহণ করেননি এবং তাঁর বক্তব্য না শুনেই এজলাস ত্যাগ করেন।
আদালতের রায়
সমস্ত ঘটনা, নথিপত্র ও যুক্তি বিবেচনা করে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর বেঞ্চ কুণাল ঘোষকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ২,০০০ টাকা জরিমানা করে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত সাতজন চাকরিপ্রার্থীকেও দোষী সাব্যস্ত করে তাঁদের প্রত্যেককে ১,০০০ টাকা করে জরিমানা করার নির্দেশ দেয়।
এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা উস্কানিমূলক আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

