Madan Mitra Resignation ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেও দল না ছাড়ার ঘোষণা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের জোর চর্চার কেন্দ্রে মদন মিত্র। দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা এবার দলীয় সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন না। তাঁর কথায়, “আমি শুধু ঘর বদলেছি, দল বদলাইনি। আমি তৃণমূলেই ছিলাম, তৃণমূলেই আছি।”
মদন মিত্র বলেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কমিটি, প্রধান সচেতক, কার্যকরী কমিটি, সাধারণ সম্পাদক-সহ সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। তবে দল ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এবং আনুগত্য অটুট রয়েছে। তিনি তৃণমূলের কোটি কোটি সমর্থকের কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তবে নিজের বক্তব্যে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ করেন। মদন মিত্রের দাবি, তিনি বহুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শ দিয়েছিলেন, দলের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তত ছয় মাসের জন্য সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হোক। কিন্তু সেই পরামর্শ মানা হয়নি। তাঁর মন্তব্য, “সব অভিভাবকই বোধহয় গান্ধারী হয়ে যান।”
তিনি আরও বলেন, দলের সংকটের সময় সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য দৃঢ় নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নেতৃত্বের কাছে বারবার বিষয়টি তুলে ধরলেও তাঁর বক্তব্য গুরুত্ব পায়নি। তাঁর অভিযোগ, সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন পরামর্শ উপেক্ষা করার ফলেই আজ দল কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
মদন মিত্রের কথায়, “গাড়ি চলতে গেলে যেমন একজন দক্ষ চালকের প্রয়োজন হয়, আজ সেই চালক স্টিয়ারিংয়ে নেই।” তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও তৃণমূল কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন এবং দলের প্রকৃত কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় নিজের অবস্থান বজায় রাখবেন।
সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গেও তিনি মুখ খোলেন। তাঁর দাবি, এই বৈঠক নিয়ে অযথা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ এক বিষয় নয়। তাঁর পরিবারের সদস্যদের তদন্তে ডাকা হয়েছে, সেই তদন্তে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তবে সেই তদন্তের সঙ্গে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন।
এদিকে নবতৃণমূল শিবিরে মদন মিত্রের যোগদানকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে। সেখানে কটাক্ষ করে বলা হচ্ছে, কালীঘাট শিবিরে আর কতজন থাকবেন, সেই হিসাব এখন শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, একের পর এক নেতা নতুন শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, ফলে পুরনো সংগঠন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মদন মিত্রের এই পদত্যাগ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে প্রকাশ্য ক্ষোভ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও তিনি বারবার জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর লড়াই তৃণমূলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের সাংগঠনিক সংস্কারের পক্ষে।
মদন মিত্রের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এখন দেখার, এই ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরে নতুন কোনও সাংগঠনিক পরিবর্তন হয় কি না, নাকি রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়।
#MadanMitra #AbhishekBanerjee #MamataBanerjee #TrinamoolCongress #WestBengalPolitics #PoliticalNews #BengalNews #IndiaPolitics #TMC #BreakingNews

