Nepal Disaster: নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর বাংলার বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারগুলিতে। একজনের সন্ধান মিললেও এখনও অনেকে নিখোঁজ। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে রাজ্য প্রশাসন, পুলিশ এবং ভারতীয় দূতাবাসের মধ্যে চলছে নিরন্তর যোগাযোগ ও অনুসন্ধান।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর একের পর এক ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। বিশেষ করে বাংলার বেশ কয়েকজন বাসিন্দার কোনও খোঁজ না মেলায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাজ্য প্রশাসনও তৎপর হয়েছে। নবান্নে চালু করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ, পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে জেলার পর জেলায় নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কাঠমান্ডুতে থাকা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নিখোঁজদের পরিবারের পাশে রয়েছে রাজ্য সরকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং দ্রুত সকলকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা। ইতিমধ্যেই একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে এখনও বহু মানুষের সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ কাটেনি।
নেপালের বিপর্যয়ে বাংলার পরিবারগুলিতে বাড়ছে উৎকণ্ঠা
নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা ও সেতুর ক্ষতি হওয়ায় অনেক জায়গায় যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নেপালে বেড়াতে যাওয়া বা তীর্থযাত্রায় অংশ নেওয়া বহু মানুষের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বাংলার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কলকাতা থেকে যাওয়া একটি তীর্থযাত্রী দলের ৩২ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর সামনে এসেছে। তাঁরা মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন এবং নেপালে পৌঁছনোর পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। পরে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এছাড়াও হুগলির আরামবাগ থেকে যাওয়া ৬৫ জন পর্যটক নেপালের একটি এলাকায় আটকে থাকার খবরও সামনে এসেছে। তাঁদের পরিবারগুলির মধ্যেও স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং আটকে থাকা ও নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
নবান্নে নিয়ন্ত্রণকক্ষ, জেলায় জেলায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ
পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর পাওয়ার পরই নবান্নে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং মুখ্যসচিব পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন।
রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ যৌথভাবে সাহায্যকেন্দ্র চালু করেছে। শুধু কলকাতাতেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ আধিকারিকরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা চলছে।
আইপিএস আধিকারিকদের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। কারা নেপালে গিয়েছিলেন, কখন শেষবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল এবং তাঁরা কোন পথে ছিলেন—এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তথ্যগুলিই পরবর্তী সময়ে নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ
শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরেই নয়, নেপালে থাকা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে ফেরানোর ক্ষেত্রে এই সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে নেপালের একাধিক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। কোথাও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত, কোথাও সেতু ভেসে গিয়েছে, আবার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেই যে তাঁর কোনও ক্ষতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি। প্রশাসনের তরফেও অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও সেই আশার কথাই স্পষ্ট হয়েছে। একজনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। সেই কারণে বাকি নিখোঁজ মানুষদের ক্ষেত্রেও দ্রুত ইতিবাচক খবর আসবে বলে আশা করছে রাজ্য প্রশাসন।
পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
এই কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের। প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলে প্রতিটি মুহূর্ত যেন উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নেপালে আটকে পড়া বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।
তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার ও অনুসন্ধানের কাজে যাতে কোনও ধরনের তথ্যের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
পরিবারগুলির কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা একটি—নিখোঁজ প্রিয়জনের কোনও খবর পাওয়া। সেই প্রত্যাশাকেই সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী সকলের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করেছেন। তাঁর কথায়, একজনকে যেভাবে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়া গিয়েছে, একইভাবে বাকি নিখোঁজ মানুষদেরও নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে—এই আশাই এখন সবচেয়ে বড় ভরসা।
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও উদ্ধারকাজে নজর
নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসের ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধারকারী দলগুলি দুর্গম এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজে নানা বাধা তৈরি হলেও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ভারতীয়দের ক্ষেত্রেও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। বাংলার নিখোঁজ পর্যটকদের বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রয়েছে। যে সমস্ত পরিবারের সঙ্গে এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের যোগাযোগ হয়নি, তাঁদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল গুজব এড়িয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করা। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় অনেক সময় মোবাইল বা অন্য কোনও যোগাযোগের মাধ্যম কাজ নাও করতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াকে চূড়ান্ত বিপদের খবর হিসেবে দেখার কারণ নেই।
নেপালের এই ভয়াবহ বিপর্যয় তাই শুধু একটি দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা হয়ে থাকছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বহু ভারতীয় পরিবারের উদ্বেগ। বাংলার পরিবারগুলিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে প্রিয়জনের একটি খবরের জন্য। রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতা, নেপালের স্থানীয় প্রশাসনের উদ্ধারকাজ এবং কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয়ের দিকেই এখন নজর সকলের। নিখোঁজ মানুষগুলির পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে এবং তাঁদের নিরাপদে ঘরে ফেরানোই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। একজনের সন্ধান পাওয়ার পর সেই আশার আলো আরও কিছুটা উজ্জ্বল হয়েছে। এখন অপেক্ষা, বাকি পরিবারগুলির কাছেও কবে পৌঁছবে সেই স্বস্তির খবর।
#NepalDisaster #BengalTourists #NepalFlood #IndianTourists #TouristRescue #WestBengal #NepalCrisis
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

