West Bengal Durga Puja Government Programs: এবারের দুর্গাপুজোয় কার্নিভাল না হলেও মহালয়া থেকে শুরু করে একাধিক বড় কর্মসূচি থাকছে। ইডেন গার্ডেন্সে বিশেষ অনুষ্ঠান, ড্রোন প্রদর্শনী, রোড শো, সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন শহরে উৎসবের পরিকল্পনা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এবারের দুর্গাপুজোকে ঘিরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বড় কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে প্রায় চার ঘণ্টার একটি বৃহৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে হাজার হাজার ড্রোনের সমন্বয়ে বিশেষ ড্রোন শো, সমন্বিত আতশবাজি, আলোকসজ্জা এবং ভিজুয়াল পরিবেশনার মাধ্যমে মায়ের আগমন তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি শহরজুড়ে বড় রোড শো এবং সাংস্কৃতিক মহোৎসবের আয়োজন থাকবে। পর্যটন দপ্তর ও তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর যৌথভাবে এই কর্মসূচিগুলি করবে। কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় শহরের সৌন্দর্যায়ন, স্বচ্ছতা ও আলোকসজ্জার উপরও জোর দেওয়া হবে। মহালয়ার পর পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এছাড়া রাজ্যের ছটি শহরে দু’দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কলকাতার চারটি ঘাটে সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নেওয়া হবে। দুর্গাপুজোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে তুলে ধরতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বাজেট বরাদ্দের কথাও জানানো হয়েছে।
পুজোর ব্যবস্থাপনা সহজ করতে ইতিমধ্যেই সহজ পোর্টাল চালু করা হয়েছে, যাতে অনুমতির ক্ষেত্রে সমস্যা না হয়। দিব্যাঙ্গজন, বৃদ্ধাশ্রম ও অন্যান্য আশ্রমে থাকা মানুষদের জন্য বিশেষ দুর্গাপুজো ভ্রমণের প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁদের নিরাপত্তা এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল ও মনিটরিং ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।
এছাড়া শ্রেষ্ঠ প্রতিমা, শ্রেষ্ঠ মণ্ডপ, শ্রেষ্ঠ পরিবেশবান্ধব পুজো, শ্রেষ্ঠ জনসমাগম ও ভিড় ব্যবস্থাপনা-সহ বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিচারকের দায়িত্বে থাকবেন দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক ও শাস্ত্রীয় দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। বিসর্জনের ক্ষেত্রেও প্রতিমার পবিত্রতা ও ঐতিহ্য বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
শ্রেষ্ঠ প্রতিমা থেকে ভিড় ব্যবস্থাপনা—বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার
এবারের দুর্গাপুজোয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। শ্রেষ্ঠ প্রতিমা, শ্রেষ্ঠ মণ্ডপ, শ্রেষ্ঠ পরিবেশবান্ধব পুজো, শ্রেষ্ঠ জনসমাগম এবং ভিড় ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলিকে পুরস্কারের আওতায় রাখা হবে।
মণ্ডপ ও প্রতিমার পাশাপাশি শিল্পীদেরও সম্মানিত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু সাজসজ্জা নয়, পুজোর শিল্পভাবনা, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং মানুষের ভিড় সামলানোর ব্যবস্থাপনাকেও মূল্যায়নের মধ্যে রাখা হবে।
বিচারকদের নির্বাচন নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক এবং শাস্ত্রীয় দিক সম্পর্কে যাঁদের জ্ঞান রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে রাখা হবে।
উদ্দেশ্য থাকবে যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয় এবং বিভিন্ন বিভাগে যোগ্য পুজো বা শিল্পীদের সম্মান দেওয়া যায়। ফলে এবারের পুরস্কার ব্যবস্থায় শুধু বাহ্যিক আয়োজন নয়, পুজোর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত দিকও বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিসর্জনে প্রতিমার পবিত্রতা ও ঐতিহ্য রক্ষায় জোর
বিসর্জনের ব্যবস্থাপনা নিয়েও একাধিক বিষয় উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিসর্জন ঘাটে ক্রেন ব্যবহারের প্রসঙ্গে প্রতিমার পবিত্রতা এবং মানুষের ধর্মীয় আস্থার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত দিনে যেভাবে ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে প্রতিমার পবিত্রতা এবং ঐতিহ্যকে সম্মান করার বিষয়টি দেখা হবে। দুর্গাপুজোর সঙ্গে মানুষের যে বিশ্বাস ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে, তাতে কোনওভাবে আঘাত না লাগে—সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ বিসর্জনের ক্ষেত্রেও শুধু দ্রুত ব্যবস্থাপনা নয়, প্রতিমার প্রতি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
দুর্গাপুজোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের উৎসব হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে দুর্গাপুজোকে আরও বড় সাংস্কৃতিক পরিসরে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্দেশ্যে একটি বড় বাজেট বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে।
লক্ষ্য হিসেবে দুর্গাপুজোকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই মহালয়ার বড় অনুষ্ঠান, ড্রোন প্রদর্শনী, আতশবাজি, রোড শো, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোকসজ্জা এবং রাজ্যের বিভিন্ন শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে পুজোর ব্যবস্থাপনা যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, তার জন্য অনুমতি ব্যবস্থা সহজ করা, বিশেষ মানুষদের পুজো ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করা, বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়, ডিজিটাল নজরদারি এবং বিসর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিমার পবিত্রতা রক্ষার মতো বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
#WestBengalDurgaPujaGovernmentPrograms #DurgaPuja2026 #WestBengalDurgaPuja #DurgaPujaGovernmentPrograms #DurgaPujaCelebration #MahalayaProgram #MahalayaCelebration #KolkataDurgaPuja #DurgaPujaCarnival #DurgaPujaDroneShow #KolkataCulturalFestival #WestBengalGovernment #DurgaPujaEvents #DurgaPujaFestival #KolkataFestival
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

