নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুম্বইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় গিয়ে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন “তাঁরা এগিয়ে এলে স্বাগত”—বোনতারাকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভাবনা, বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত পুত্র অনন্ত আম্বানিও। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, রিলায়েন্স গোষ্ঠীর বর্তমান ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বাংলার শিল্প সম্ভাবনা নিয়েও মুকেশ আম্বানি আশা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে রিলায়েন্স গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগে আগ্রহী বলেও জানা গিয়েছে।
দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দেওয়ার উদ্যোগের মধ্যে এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই মুম্বইয়ে গিয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ বলে জানা গিয়েছে।
অ্যান্টিলিয়ায় মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে সাক্ষাৎ
মুম্বই সফরে গিয়ে অ্যান্টিলিয়ায় মুকেশ আম্বানির সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুকেশ আম্বানির পাশাপাশি তাঁর পুত্র অনন্ত আম্বানিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে তিনজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সৌজন্য সাক্ষাতের মুহূর্তও ছবিতে ধরা পড়েছে।
বৈঠকের মূল বিষয় ছিল পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা। রিলায়েন্স গোষ্ঠী রাজ্যে ইতিমধ্যেই যে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তার আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
বাংলার শিল্প সম্ভাবনা নিয়েও মুকেশ আম্বানি আশাবাদী বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর আরও বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও উঠে এসেছে। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ এলে শিল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর মুম্বই সফর বলে জানানো হয়েছে।
“বাংলায় বিনিয়োগে এগিয়ে এলে স্বাগত”
শুভেন্দু অধিকারী মুকেশ আম্বানির হাতে মা কালীর একটি বিশেষ শক্তির মূর্তি তুলে দেন। এই উপহার দেওয়ার বিষয়টিও সাক্ষাতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
মা কালীর এই বিশেষ শক্তির মূর্তি মুকেশ আম্বানির হাতে তুলে দিতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
“মা কালীর এই বিশেষ শক্তির মূর্তি তাঁদের হাতে তুলে দিতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।”
পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুকেশ আম্বানিদের এগিয়ে আসাকে স্বাগত জানানো হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন,
“তাঁরা এগিয়ে এলে স্বাগত।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। মুকেশ আম্বানির মতো শিল্পপতির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলায় আরও বিনিয়োগে রিলায়েন্সের আগ্রহ
সাক্ষাতে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে মুকেশ আম্বানি আশা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। রিলায়েন্স গোষ্ঠী রাজ্যে আরও বিনিয়োগে আগ্রহী বলেও জানা গিয়েছে। রাজ্যে ইতিমধ্যে থাকা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড আরও বাড়ানো এবং নতুন ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির জন্য জমি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শিল্পপ্রকল্প যাতে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই জমি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তার মধ্যেই মুম্বইয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ায় রাজ্যের বিনিয়োগ-প্রচেষ্টায় এই সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যেও রাজ্য সরকার কাজ করছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে রাজ্যে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে।
রিলায়েন্স গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়টি সামনে আসায় রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে কত টাকার বিনিয়োগ হবে বা নির্দিষ্ট কোন প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে, সে বিষয়ে এই সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও অঙ্ক বা চূড়ান্ত প্রকল্পের কথা জানানো হয়নি।
বাংলায় বনতারার নতুন শাখা খোলার সম্ভাবনা
মুকেশ আম্বানির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে বনতারার নতুন শাখা পশ্চিমবঙ্গে খোলার সম্ভাবনা। গুজরাটের পর এবার পূর্ব ভারতেও ভান্তারার একটি নতুন শাখা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভান্তারার নতুন শাখা পশ্চিমবঙ্গে খোলা হতে পারে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে নতুন একটি পরিকাঠামো তৈরি হতে পারে বলে এই বৈঠককে ঘিরে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এমন প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীসমৃদ্ধ এলাকাকে সামনে রেখে ভান্তারার মতো উদ্যোগের সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সাক্ষাতে এই বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনাও এই বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
দুর্গাপুজোর আগে শিল্পের জন্য জমি দেওয়ার উদ্যোগ
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজোর আগে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শিল্পপ্রকল্প যাতে দ্রুত শুরু করা যায়, তার জন্য জমির ব্যবস্থা করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে রাজ্যে একটি বড় আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতার ইডেন উদ্যান প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজোর সূচনা উপলক্ষে বড় অনুষ্ঠান করার কথা বলা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
একদিকে যখন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তখনই শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার তৎপর হয়েছে। মুম্বইয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাৎ সেই তৎপরতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে মুকেশ আম্বানির আশাবাদ এবং রিলায়েন্সের আরও বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানা যাওয়ায় এই সাক্ষাৎকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট বিনিয়োগের অঙ্ক বা চূড়ান্ত প্রকল্পের ঘোষণা এই সাক্ষাতে করা হয়েছে বলে জানানো হয়নি।
শিল্প ও কর্মসংস্থানের দিকে নজর শুভেন্দুর
মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথম একশো দিনের কার্যকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবার শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মুম্বইয়ে গিয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাৎও সেই উদ্যোগের অংশ। রাজ্যে বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ এলে শিল্পের পরিধি বাড়বে এবং তার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।
মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে রিলায়েন্সের বর্তমান ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলার শিল্প সম্ভাবনা নিয়েও মুকেশ আম্বানি আশাবাদী বলে জানা গিয়েছে। রিলায়েন্স গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগে আগ্রহী বলেও জানা গিয়েছে।
শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি ভান্তারার নতুন শাখা খোলার সম্ভাবনার বিষয়টিও এই সাক্ষাৎকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। গুজরাটের পর পশ্চিমবঙ্গে এমন উদ্যোগ এলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নতুন পরিসর তৈরি হতে পারে।
মুম্বইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী, মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সাক্ষাতে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগ, রিলায়েন্সের ব্যবসা সম্প্রসারণ, শিল্পের জন্য জমি এবং ভান্তারার নতুন শাখার সম্ভাবনা—এই বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেয়েছে।
#VantaraWestBengal #VantaraBengal #WestBengalVantara #MukeshAmbani #RelianceIndustries #WestBengalInvestment #WildlifeConservation #AnimalCare #BengalInvestment
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

