Shambhabi Pathak pilot: শৈশব থেকেই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর চোখে। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম আর পেশাদার দক্ষতায় খুব অল্প বয়সেই উড়ানজগতে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন শম্ভাবী পাঠক পাইলট। কিন্তু বারামতির ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্নের উড়ানই হয়ে উঠল শেষ যাত্রা। কে ছিলেন এই তরুণ পাইলট, কী ছিল তাঁর শিক্ষাজীবন ও উড়ান-অভিজ্ঞতা—এই প্রতিবেদনে জানুন শম্ভাবী পাঠক পাইলটের জীবন ও মর্মান্তিক পরিণতির সম্পূর্ণ গল্প।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বুধবার সকালটি শুরু হল এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মাধ্যমে। মুম্বাই থেকে বারামতির উদ্দেশে যাত্রা করা একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar) সহ মোট পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, অভিজ্ঞ পাইলট, নির্দিষ্ট রুট—সবকিছু থাকা সত্ত্বেও কেন এই দুর্ঘটনা, তা ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন ও শোকের আবহ।এই বিমান দুর্ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যু নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তরুণ পাইলটের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র। এই প্রতিবেদনে আমরা জানব, এই অভিশপ্ত বিমানের পাইলট কারা ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তারা কী বার্তা দিয়েছিলেন এটিসিকে?
কীভাবে ঘটল ভয়াবহ দুর্ঘটনা?
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে ভিএসআর ভেঞ্চার্সের মালিকানাধীন একটি Learjet 45 বিমান। বিমানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল VT-SSK। গন্তব্য ছিল মহারাষ্ট্রের বারামতি—রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর প্রথম ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত উচ্চতা ও গতিতে এগোচ্ছিল। কিন্তু অবতরণের নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগে, বারামতির কাছাকাছি একটি পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ করেই বিমানটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাইলটরা এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক কে বার্তা দিয়েছিলেন, তারা রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন না।
কন্ট্রোল রুম থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। কিছু সময় পর স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড়ি এলাকায় ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান। পরে উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনায় নিহত কারা?
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—
- অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar) – মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী
- ক্যাপ্টেন শম্ভাবী পাঠক (Captain Shambhabi Pathak) – প্রধান পাইলট
- ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর (Captain Sumit Kapoor) – কো-পাইলট
- একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট
- বিদীপ যাধব (Vidip Jadhav) – অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা
কে ছিলেন পাইলট শম্ভাবী পাঠক?
বারামতির ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে, তিনি তরুণ পাইলট ক্যাপ্টেন শম্ভাবী পাঠক। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, বয়সে তরুণ হলেও পেশাগত দক্ষতা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং উড়ান অভিজ্ঞতার দিক থেকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল একজন পাইলট। সহকর্মী ও প্রশিক্ষকদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন দায়িত্বশীল, শান্ত স্বভাবের এবং নিখুঁত উড়ান পরিচালনাকারী হিসেবে।
শিক্ষাজীবন
ক্যাপ্টেন শম্ভাবী পাঠক তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেন এয়ার ফোর্স বল ভারতী বিদ্যালয়-এ। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি সেখানে তাঁর মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। শৈশবকাল থেকেই আকাশ ও বিমান ঘিরে তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল, যা পরবর্তীকালে পেশাগত স্বপ্নে রূপ নেয়।
মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি ভর্তি হন নিউজিল্যান্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পাইলট প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি-তে। সেখানে তিনি একজন বাণিজ্যিক পাইলট ও উড়ান ক্রু সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিদেশে প্রশিক্ষণকালীন সময়েই তাঁর দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব প্রশিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত যোগ্যতা
শম্ভাবী পাঠক মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিমানবিদ্যা, উড্ডয়ন বিজ্ঞান ও মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব উড়ান প্রশিক্ষণেও তিনি ছিলেন সমানভাবে দক্ষ।
তিনি ভারতের নাগরিক বিমান চলাচল মহাপরিদপ্তর থেকে—
- ফ্রোজেন এয়ারলাইন পরিবহন পাইলট লাইসেন্স
- উড়ান প্রশিক্ষক রেটিং (এ গ্রেড)
অর্জন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি মধ্যপ্রদেশ উড়ান ক্লাব-এ সহকারী উড়ান প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন। বহু তরুণ ও শিক্ষানবিশ পাইলটের কাছে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার প্রতীক—যিনি নিজে আকাশ ছোঁয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সেই স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করছিলেন।
লিয়ারজেট ৪৫ বিমান │ এই বিমানের বৈশিষ্ট্য কী?
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫, যা মূলত কর্পোরেট ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই শ্রেণির বিমান দ্রুতগামী, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এবং উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থাসম্পন্ন বলে পরিচিত।
লিয়ারজেট ৪৫ বিমানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য—
- সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার
- উড়ান সক্ষমতা: প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার
- উন্নত দিকনির্দেশনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
- স্বল্প দৈর্ঘ্যের রানওয়েতেও নিরাপদ অবতরণের ক্ষমতা
এত উন্নত প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞ পাইলট থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। এই দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-এর মৃত্যু রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। তিনি ছিলেন রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যু | এটা কি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি চক্রান্ত?
- স্টেজ আছে, গান আছে—তবু Playback নয় কেন? অরিজিৎ সিং কি ক্লান্ত নাকি বদলের ইঙ্গিত?
- হঠাৎ অতিথি এলে এই ৭টি Quick Snack রেসিপি রাখুন মনে | চটজলদি আপ্যায়ন
- নতুন বছরে ট্রাভেল ফান্ড জমাবেন কীভাবে? রইল ৯টি জাদুকরী টিপস
- দিনে কতবার ফেসওয়াশ? বেশি ধুলে কি ত্বক ভালো থাকে নাকি ক্ষতি হয়? জানুন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের আসল রায়
#BaramatiPlaneCrash #AjitPawar #BreakingNews #AviationAccident #ncp #shambhabipathak

