Abhishek Banerjee Speaker Ultimatum: লোকসভা স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি। দলবদল করা সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং সংসদে আসনবিন্যাস নিয়েও বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদের দলবদল এবং তাঁদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে রাজনৈতিক সংঘাত এবার আইনি লড়াইয়ের দিকে আরও এগোচ্ছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েও কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত না মেলায় এবার আরও কড়া অবস্থান নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্পিকার ব্যবস্থা না নিলে তৃণমূল বাধ্য হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে।
অভিষেকের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দাখিল করা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন এবং সংসদে আসন বিন্যাসের পরিবর্তন। তৃণমূলের দাবি, ওই সাংসদরা দলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর অন্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, ওই সাংসদদের পক্ষ থেকে নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে একীভূত হওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন শুধু সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নয়; প্রশ্ন উঠছে সংবিধানের দশম তফসিল, সংসদীয় স্বীকৃতি এবং লোকসভায় দলীয় অবস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়েও।
স্পিকারের কাছে বারবার আবেদন, এবার আইনি পথে যাওয়ার ইঙ্গিত
তৃণমূলের পক্ষ থেকে ১৯ জুন ২০২৬-এ ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে সেই আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান। তৃণমূলের বক্তব্য ছিল, প্রতিটি সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক আবেদন করা হয়েছে এবং তাঁদের দলত্যাগের বিষয়টি সংবিধানের দশম তফসিলের আওতায় বিচার করা উচিত।
এরপরও সিদ্ধান্ত না আসায় জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে অভিষেক ফের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি দুটি চিঠিও দেন। একটি চিঠিতে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে চলা অযোগ্য ঘোষণার আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়। অন্য চিঠিতে তৃণমূল সাংসদদের আসন বিন্যাসে পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।
তৃণমূলের দাবি, ২০টি আবেদন দাখিলের পরও দীর্ঘ সময় ধরে কোনও স্পষ্ট শুনানি বা সিদ্ধান্তের সময়সীমা জানানো হয়নি। অভিষেকের বক্তব্যের মূল সুর তাই স্পষ্ট—আর অপেক্ষা নয়, এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত চাই।
২০ সাংসদের অবস্থান ঘিরে আসল বিতর্ক কোথায়?
পুরো বিতর্কের সূত্রপাত ২০ জন তৃণমূল সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলকে ঘিরে। তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁরা নিজেদের একটি পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করার দাবি তোলেন এবং লোকসভায় আলাদা পরিচয় চেয়েছেন।
তৃণমূল এই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। অভিষেকের যুক্তি, শুধু সংসদীয় দলের একটি অংশ অন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলেই সংবিধানের অধীনে বৈধ একীভূত হওয়ার শর্ত পূরণ হয় না। দলত্যাগ-বিরোধী আইনে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান রয়েছে এবং সেই বিধানের আলোতেই প্রত্যেক সাংসদের অবস্থান বিচার করা দরকার।
তৃণমূলের তরফে আরও বলা হয়েছে, ওই সাংসদরা যে রাজনৈতিক প্রতীকে ভোটে জিতেছিলেন, সেই পরিচয় থেকেই তাঁদের সংসদীয় সদস্যপদ তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অবস্থান বদলের সঙ্গে তাঁদের সাংসদ পদ সাংবিধানিকভাবে কীভাবে সম্পর্কিত—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
অন্যদিকে, ২০ জন সাংসদের নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি নিয়ে সংসদীয় স্তরেও আলাদা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁদের পৃথকভাবে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তৃণমূল এই আসন বিন্যাসেরও বিরোধিতা করেছে।
আসন বদল নিয়েও ক্ষোভ তৃণমূলের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির দ্বিতীয় বড় বিষয় সংসদের আসন বিন্যাস। তৃণমূলের অভিযোগ, দলীয় সাংসদদের মধ্যে কিছুজনকে পৃথকভাবে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যদিও তাঁদের রাজনৈতিক স্বীকৃতি নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে।
জুলাই ১৮-র লোকসভা সচিবালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে তৃণমূল সাংসদদের বিভাগ ও আসন নম্বরে পরিবর্তনের কথা উঠে আসে। একই দিনে অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে তৃণমূলকে ২৮ জন সাংসদের একটি সংসদীয় দল হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছিল বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেই অভিষেকের অভিযোগ।
তৃণমূলের বক্তব্য, যদি ওই ২০ জন সাংসদকে আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া না হয়, তাহলে তাঁদের জন্য আলাদা সংসদীয় আসন বিন্যাস কেন করা হচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর স্পিকারের কাছ থেকে চায় দল।
ফলে বিষয়টি এখন শুধু দলত্যাগের অভিযোগে আটকে নেই। সংসদে কে কোন দলের সাংসদ হিসেবে গণ্য হবেন, কার পাশে কোন পরিচয় থাকবে এবং সংসদীয় দলের কাঠামো কীভাবে নির্ধারিত হবে—এই প্রশ্নগুলিও একই সঙ্গে সামনে এসেছে।
দশম তফসিল নিয়ে তৃণমূলের যুক্তি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সংবিধানের দশম তফসিলের কথা উল্লেখ করেছেন। এই তফসিলই মূলত দলত্যাগ-বিরোধী আইনের সাংবিধানিক ভিত্তি। তৃণমূলের বক্তব্য, দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরবর্তীতে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনা এই আইনের আওতায় বিচারযোগ্য।
তৃণমূলের দাখিল করা আবেদনে প্রতিটি সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। দলের যুক্তি, প্রত্যেক সাংসদের ক্ষেত্রে আলাদা তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব এবং প্রয়োজন।
অভিষেকের বক্তব্যের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল—কেবল সংসদীয় দলের একটি অংশের অবস্থান বদল করলেই সাংবিধানিক অর্থে দল একীভূত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। এই যুক্তি থেকেই তৃণমূল ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করেছে।
তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য বিচার করা এখনও বাকি। তাই তদন্ত বা শুনানি শেষ হওয়ার আগে কোনও পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এই কারণেই অভিষেকের স্পিকারের কাছে দেওয়া চিঠি এবং তাঁর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিকে রাজনৈতিক মহল বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
একদিকে স্পিকারের সাংবিধানিক ভূমিকা, অন্যদিকে দলত্যাগ-বিরোধী আইন, তার সঙ্গে সাংসদদের রাজনৈতিক পরিচয়—এই তিনটি বিষয় এখন একই বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে আপাতত অবস্থান স্পষ্ট—লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে, পৃথকভাবে ২০টি অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, আসন বিন্যাস নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। কিন্তু দ্রুত কোনও সিদ্ধান্ত না এলে তৃণমূল আদালতের পথ নেবে।
সুতরাং এখন নজর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কবে ২০টি আবেদনের বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেন, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিশ দেওয়া হয় কি না, শুনানির সময়সীমা নির্ধারিত হয় কি না এবং শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে—তার উপরই পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
আর যদি স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল সন্তুষ্ট না হয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন আর নিছক রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি নয়—সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী সেটি একটি সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবেই সামনে এসেছে।
#AbhishekBanerjee #LokSabha #OmBirla #TMC #NCPIMPs #SupremeCourt #AntiDefectionLaw #IndianPolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা

