বয়স একটা সংখ্যা মাত্র। বেশি বয়সেও আপনি ফিরে পেতে পারেন কম বয়সের ঔজ্জ্বল্য (Botox Treatment)। অথবা চাইছেন চোখটা হবে টানা টানা। আপনার কোঁকরানো চুল। ভাবছেন পরিবর্তন করবেন? আপনি চাইলেই আজকের দিনে ঠোঁটকে একটু মোটাও করে নিতে পারেন। কিভাবে করবেন, জানতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি করুন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি বলিউডের অধিকাংশ তারকা তারা তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো গায়ের বর্ণ থেকে শুরু করে, চুল, ঠোঁটের পরিবর্তন করিয়েছেন। আজকের দিনে সবই সম্ভব। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া থেকে শিল্পা শেঠি, করিনা কাপুর খান, কাজল কেউই সেই তালিকা থেকে বাদ নন। এই তালিকায় অবশ্য টলিউড ও পিছিয়ে নেই। টলিউডের লেডি সুপারস্টার শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় পরিবর্তন করেছেন ত্বকের বেশ কিছু অংশ। চলুন জেনে নিন, কী সেই ট্রিটমেন্ট যার মাধ্যমে আপনি গায়ের রং পরিবর্তন করতে পারেন। ঠোঁটের বর্ণ পরিবর্তন করতে পারেন। চুলের স্টাইল পাল্টাতে পারেন।
আরও পড়ুন : আসল কাশ্মীরি পশমিনা শাল কিভাবে চিনবেন?
বোটক্স কী? (Botox Treatment)
বোটক্স শব্দটি এসেছে এক বিশেষ প্রোটিনের নাম থেকে—বটুলিনাম টক্সিন টাইপ-এ (Botulinum Toxin Type A)। এটি একধরনের সূক্ষ্ম নিউরোটক্সিন, যা অতি অল্প পরিমাণে ত্বকের নিচে ইনজেকশন আকারে প্রয়োগ করা হয়। এই ইনজেকশন সেই স্থানের স্নায়ুর সংকোচন বা টান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পেশি শিথিল হয়, আর ত্বক হয়ে ওঠে আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ, টানটান ও বলিরেখাহীন। বিশ্বজুড়ে এই ইনজেকশনকে বলা হয় “অলৌকিক ইনজেকশন” (Miracle Injection) — কারণ এতে কোনও অস্ত্রোপচার বা ছুরি-কাঁচি লাগে না, তবু এটি মুখে এনে দিতে পারে এক আশ্চর্য নবযৌবনের ছোঁয়া।
বোটক্স কীভাবে কাজ করে? (Botox Treatment)
মুখের ত্বকের নিচে থাকে অজস্র ছোট ছোট মাংসপেশী। প্রতিদিনের হাসি, কপালে ভাঁজ ফেলা, চোখ টিপ দেওয়া কিংবা কথা বলার মতো প্রতিটি অভিব্যক্তির সময় এই পেশীগুলিই কাজ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পেশীগুলির ঘনঘন নড়াচড়ার ফলে ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা তৈরি হতে শুরু করে। বোটক্স ইনজেকশন সেই নির্দিষ্ট পেশীর মধ্যে প্রবেশ করে অ্যাসিটাইলকোলিন (Acetylcholine) নামের একধরনের স্নায়ু-বার্তাবাহক বা সিগন্যাল ট্রান্সমিটারকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে সেই পেশী কিছু সময়ের জন্য অচল হয়ে যায়। এর ফলেই ত্বক দেখতে লাগে আগের চেয়ে মসৃণ, টানটান ও আরও তরুণ। সাধারণত এই ইনজেকশনের প্রভাব দেখা যায় ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে, এবং এর ফলাফল স্থায়ী হয় প্রায় ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত।
বোটক্স কতটা নিরাপদ? (Botox Treatment)
সঠিকভাবে, সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক জায়গায় প্রয়োগ করলে বোটক্স সম্পূর্ণ নিরাপদ। এটি ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের FDA (Food and Drug Administration) দ্বারা অনুমোদিত, এবং পৃথিবীজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করছেন কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই। তবে একটা বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — এই ইনজেকশন অবশ্যই একজন সার্টিফায়েড ত্বক বিশেষজ্ঞ (Dermatologist) বা কসমেটিক সার্জন দ্বারা করানো উচিত। ভুল হাতে বা অদক্ষভাবে প্রয়োগ করা হলে সাময়িকভাবে মুখের একপাশ ভারী লাগা, হাসি বা অভিব্যক্তির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই সুন্দর হওয়ার পথে সাবধানতাই হোক প্রথম পদক্ষেপ।
এই ইনজেকশন দিলে অতিরিক্ত ঘাম কমে। মাইগ্রেন নিরাময় করে। এই ট্রিটমেন্ট চুলের ক্ষেত্রেও হয়। চুলের ক্ষেত্রে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা মত খরচ লাগে। ত্বকের ক্ষেত্রে ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বোটক্স কোন জাদু নয়, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আধুনিক রূপচর্চার একটি ধারা মাত্র (Botox Treatment)। তবে এটি করাবেন কিনা সেটা পুরোপুরি আপনার নিজের সিদ্ধান্ত। যদি আপনি নিজের মুখের বয়সের ছাপ মুছে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে চান, তাহলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বোটক্স ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন। মনে রাখবেন সৌন্দর্যের আসল রহস্য কেবল ত্বকে নয়, মনেও থাকে।
#BotoxTreatment, #BeautySecrets, #Skincare, #CelebrityLooks, #bollywood, #tollywood

