সমাজে আজও নানা বিশ্বাস প্রচলিত আছে (Cutting Nails Or Hair at Night)। বাড়ির বয়স্করা সেগুলি আমাদের বলে থাকেন। আজকের মতে সেগুলি কুসংস্কার। সেগুলি কি সত্যিই কুসংস্কার? নাকি তার পিছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। আসল সত্য জানুন প্রতিবেদন থেকে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাতে নখ কাটলে অমঙ্গল হয়—এই কথা আমরা প্রায় সবাই শুনেছি। কেউ বলেন, এতে দেবতার কৃপা নষ্ট হয়, কেউ বলেন, ঘরে দারিদ্র্যের ছায়া নামে। কিন্তু আসলেই কি এটি কোনো আধ্যাত্মিক সত্য? নাকি যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা একটি প্রাচীন অভ্যাস, যার বাস্তব কারণ অনেকেই জানেন না। এই প্রতিবেদনে জেনে নিন রাতে চুল বা নখ কাটা বারণ, এই বিশ্বাসের পিছনে লুকিয়ে থাকা বৈজ্ঞানিক যুক্তিগুলি এবং সামাজিক বাস্তবতা।
আরও পড়ুন : বাথরুমে বালতি খালি রাখেন? │ বাস্তুমতে এটি ক্ষতির লক্ষণ │ Bathroom Vastu Tips
রাতে নখ কাটা মানেই অমঙ্গল?
ভারতীয় সমাজে নখ ও চুলকে সবসময় “শরীরের অশুদ্ধ অংশ” বলে মনে করা হয়েছে। পুরনো হিন্দু শাস্ত্র যেমন মনুস্মৃতি ও গৃহ্যসূত্র–এ উল্লেখ আছে, সূর্যাস্তের পর শরীরের অশুদ্ধ অংশ ছাঁটা উচিত নয়। কারণ, রাত মানেই তখনকার যুগে অন্ধকার। বিদ্যুৎ ছিল না, প্রদীপের আলোয় নখ কাটা মানে আঙুল কেটে ফেলার সম্ভাবনা। তাই “অমঙ্গল” আসলে ছিল সতর্কতার প্রতীক। বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা থেকে জন্ম নেয় এই নিষেধ।
জ্যোতিষ ব্যাখ্যা (Cutting Nails Or Hair at Night)
জ্যোতিষ মতে, সূর্যাস্তের পর সময়টি শনি গ্রহের আধিপত্যে চলে আসে। শনি মানে শৃঙ্খলা, কর্মফল ও বিলম্ব। অনেকের মতে, রাতে নখ কাটা মানে নিজের “কর্মফল” বা সৌভাগ্যের প্রতীক কেটে ফেলা। আর চন্দ্র নখের সঙ্গে সম্পর্কিত—যেমন চন্দ্র বাড়ে, নখ বাড়ে। তাই পূর্ণিমা বা অমাবস্যার রাতে নখ কাটা মানে “চন্দ্রশক্তি হ্রাস” বা মানসিক স্থিতি নষ্ট হওয়া। তবে এগুলো জ্যোতিষীয় প্রতীকী ব্যাখ্যা—বৈজ্ঞানিকভাবে এগুলোর কোনো প্রমাণ নেই।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
আজকের এলইডি (LED) আলোয় রাত মানেই আর অন্ধকার নয়, নখ কাটার সময় আলো না থাকলে ছোট আঘাত হতে পারত, আর সংক্রমণ মানেই বিপজ্জনক রোগ। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, রাতে চুল এবং নখ কাটার পিছনে বৈজ্ঞানিক সত্য লুকিয়ে রয়েছে। নখ এবং চুল ক্ষতিকর বস্তু। রাতে আমরা ঘুমাই বা হাঁটাচলা করি, খাবার খাই। চুল সেই খাবারে পরলে, সেই খাবার খেলে পেট খারাপের সম্ভাবনা থাকে। নখ থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়, যা শরীরে ক্ষতি করতে পারে। তাই রাতে চুল বা নখ কাটা উচিত নয়। তাছাড়া, নখ কাটা মানে নখের টুকরো মাটিতে পড়া, যা তখনকার ঘরের মেঝের ভিতরে মিশে গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা তৈরি করত।
সামাজিক ও সংস্কৃতিক প্রভাব
প্রাচীন সমাজে দিনের বেলায় সবাই কাজ করত, আর রাত মানে বিশ্রাম। তাই কেউ যেন গৃহস্থালি কাজ বা শরীরচর্চা করে বিশ্রামের সময় নষ্ট না করে, সেই উদ্দেশ্যে হয়তো এমন নিয়ম তৈরি হয়। বয়সে বড়রা এই নিয়ম মানানোর জন্য ভয় দেখিয়ে বলতেন, রাতে নখ কাটলে অমঙ্গল হবে—যেন সন্তানরা অনিয়ম না করে। তখনকার দিনে এই ধরণের ভয়ভিত্তিক শৃঙ্খলা সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপায় ছিল।
বিজ্ঞানের ভাষায় (Cutting Nails Or Hair at Night) এটি একটি সামাজিক প্রথা, আধুনিক যুগে আমরা আলো, নিরাপত্তা, ও স্বাস্থ্যবিধি—সবই জানি, তবুও এই প্রাচীন নিয়মগুলি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রতিটি সংস্কার একসময় ছিল জ্ঞানেরই এক রূপ। আজকের দিনে এটি মূলত সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, বৈজ্ঞানিক সত্য নয়। অমঙ্গল আসলে ছিল সতর্কতার রূপক। যুক্তি ও বিশ্বাসের সমন্বয়েই তৈরি হয় সচেতন জীবনযাপন।
Most Viewed Posts
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?

