Humayun Kabir Viral Video: হুমায়ূন কবিরকে ঘিরে বিস্ফোরক ভিডিও প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। আর্থিক চুক্তি, ধর্মীয় আবেগ ও মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন নিয়ে বড় অভিযোগ ঘিরে শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে কোনও স্টিং অপারেশন, গোপন ভিডিও বা অডিও ফাঁস—এ যেন এখন প্রায় পরিচিত রাজনৈতিক ট্রেন্ড। শাসক দল হোক বা বিরোধী, ভোটের ঠিক আগে এমন বিস্ফোরক দাবি সামনে আসতেই থাকে, যা মুহূর্তে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে তোলে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে নারদ স্টিং যেমন তোলপাড় ফেলেছিল, তেমনই ২০২৬ সালের ভোটের আগেও আবার এক নতুন ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশ্ন উঠছে—ভোট এলেই কেন সামনে আসে এমন ‘স্টিং পলিটিক্স’?
২০১৬-র আগে নারদ কাণ্ডে কেঁপেছিল বাংলার রাজনীতি
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশ্যে আসে বহুচর্চিত নারদ স্টিং অপারেশন।
সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েল ও তাঁর টিম ২০১৪ সালে প্রায় ৫২ ঘণ্টার গোপন ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এমন এক স্টিং অপারেশন চালান, যেখানে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ ও নেতাকে টাকা নিতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
ভিডিওতে যাঁদের দেখা গিয়েছিল তাঁদের মধ্যে ছিলেন— ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শঙ্কুদেব পাণ্ডা, সুলতান আহমেদ-সহ আরও অনেকে। অভিযোগ ছিল, মোটা টাকার বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তাঁরা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ভোটের মুখে প্রবল চাপে পড়ে শাসক দল।
তদন্ত, গ্রেফতারি ও বিতর্ক: নারদ কাণ্ডের রাজনৈতিক অভিঘাত
পরবর্তীকালে এই মামলায় গ্রেফতারও হন একাধিক নেতা। ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায়দের গ্রেফতারির ঘটনায় নতুন মোড় নেয় মামলা। যদিও তৃণমূল বরাবরই ভিডিওগুলির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং দাবি করে—
এই স্টিং অপারেশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরে আরও বিতর্ক তৈরি হয় স্টিং অপারেশনে ব্যবহৃত অর্থের উৎস নিয়ে। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, যাঁরা দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন—তাঁদের অংশবিশেষ ফুটেজ ইচ্ছাকৃতভাবে সামনে আনা হয়নি।
এবার হুমায়ূন কবীর: নতুন বিতর্ক ভোটের আগে (Humayun Kabir Viral Video)
এবার আবার ভোটের আগে প্রকাশ্যে এসেছে নতুন এক ১৯ মিনিটের ভিডিও, যা সামনে এনেছে তৃণমূল।
এই ভিডিওতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ূন কবীরকে কারও সঙ্গে কথোপকথনে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি।
তৃণমূলের অভিযোগ—
- বিজেপির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ছিল হুমায়ূনের
- তিনি নাকি রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে হাজার কোটি টাকা দাবি করেছেন
- এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা অগ্রিম চেয়েছেন বলেও দাবি
যদিও এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
BJP-র সঙ্গে ‘গোপন আঁতাত’? কী দাবি তৃণমূলের (Humayun Kabir Viral Video)
তৃণমূলের দাবি, ভিডিওতে হুমায়ূন কবীরকে বলতে শোনা যাচ্ছে—
- তিনি রাজ্যের মুসলিম ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন
- বিজেপি যাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করবে, তাকেই তিনি সমর্থন করবেন
- আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গে তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের উদাহরণও টেনেছেন
তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ ও অরূপ বিশ্বাস যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই ভিডিও প্রকাশ করেন।
ভোটের মুখে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, সেখানে হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক আধিকারিকের আর্থিক সমঝোতার ইঙ্গিত মিলেছে। ওই ভিডিওকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা।
তৃণমূলের দাবি, ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে হুমায়ূন কবির বলছেন— নির্বাচনের পর বিজেপি যাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বেছে নেবে, তিনি তাঁকেই সমর্থন করবেন। পাশাপাশি ধর্মীয় আবেগকে ভোটে প্রভাবিত করার কৌশল নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ভিডিও সামনে এনে তৃণমূলের অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগ, আর্থিক সমঝোতা এবং ক্ষমতার প্রতিশ্রুতি— সব মিলিয়ে ভোটের আগে বড়সড় রাজনৈতিক চক্রান্তের ইঙ্গিত মিলছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে হুমায়ূন কবীর স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ভিডিও সম্পূর্ণভাবে AI বা কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই।
তিনি দাবি করেন, “ভিডিওর সত্যতা তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রমাণ করতেই হবে। যদি তা প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে।”
হুমায়ূনের অভিযোগ, এই ভিডিওটি (Humayun Kabir Viral Video) পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে। তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতীক জৈন, কুণাল ঘোষ এবং ববি হাকিমের নাম করে বলেন, তাঁদের পরিকল্পনাতেই এই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিজেপি নেতার নামও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং মোহন যাদবের নাম শোনা গিয়েছে বলে তৃণমূলের বক্তব্য।
ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে হুমায়ূন কবীর বিজেপিকেই সমর্থন করবেন—এমন মন্তব্যও নাকি শোনা গিয়েছে। যদিও এই প্রসঙ্গে হুমায়ূন কবিরের সাফ জবাব, “সবটাই মনগড়া এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার।” তিনি আরও বলেন, “যদি এই ভিডিওর সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে রাজ্যের মানুষ যা রায় দেবে আমি মেনে নেব। প্রয়োজন হলে সমস্ত নির্বাচন থেকেও সরে দাঁড়াব।”
সাম্প্রতিক পোস্ট
- দিনের ২৪ ঘণ্টা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন! জানুন, সময় ব্যবহারের এই সহজ কৌশল
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- শালিমার বাগের ভবিষ্যৎ রহস্য: প্রেম, স্মৃতি আর সময়কে ছাপিয়ে ভবিষ্যৎ কি বদলে দেবে ইতিহাস?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- গ্যাস সিলিন্ডার দ্রুত শেষ হয়ে যায়? এই ৬টি সহজ টিপস জানলে সিলিন্ডার চলবে বেশি দিন

