নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি দপ্তরগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট এক লক্ষ একান্ন হাজার শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে মোট কুড়ি হাজার পদ পূরণের কথা রয়েছে। রাজ্য পুলিশে ষোলো হাজার এবং কলকাতা পুলিশে চার হাজার শূন্যপদ পূরণ করা হবে। পাশাপাশি স্কুলশিক্ষা দপ্তরের অধীনে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে চৌত্রিশ হাজার নিয়োগের কথাও বৈঠকে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মী ঘাটতির কারণে প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম কর্মী থাকার কারণে একাধিক ক্ষেত্রে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে কোন কোন শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ আগামী মার্চের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে এক লক্ষ একান্ন হাজার নিয়োগের সিদ্ধান্ত
বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই মোট এক লক্ষ একান্ন হাজার শূন্যপদে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরগুলিতে বহু পদ খালি পড়ে রয়েছে। একসঙ্গে সমস্ত শূন্যপদ পূরণ না করে কোন পদগুলি প্রশাসনিক কাজের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই নীতির ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে প্রয়োজনীয় পদ চিহ্নিত করার কাজ শুরু করতে বলা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলির মধ্যে আগামী এক বছরের মধ্যে কোন পদগুলি পূরণ করা প্রয়োজন, তার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির কাছ থেকে চাওয়া হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারি দপ্তরগুলিতে কর্মী ঘাটতি থাকায় প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাব দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি পদগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য পুলিশে ষোলো হাজার, কলকাতা পুলিশে চার হাজার নিয়োগ
নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে মোট কুড়ি হাজার পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রাজ্য পুলিশে ষোলো হাজার এবং কলকাতা পুলিশে চার হাজার শূন্যপদ পূরণ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলির মধ্যে প্রয়োজনীয় পদগুলি চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে নিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ করা হবে। অর্থাৎ নিয়োগের এই পরিকল্পনা শুধুমাত্র একটি বা দুটি দপ্তরকে কেন্দ্র করে নয়। বিভিন্ন দপ্তরে থাকা প্রয়োজনীয় শূন্যপদ চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের শেষ পাঁচ মাসে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অক্টোবর থেকে আগামী মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নিজেদের শূন্যপদ এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে নিয়োগের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
স্কুলশিক্ষা দপ্তরে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে চৌত্রিশ হাজার নিয়োগ
নিয়োগের ক্ষেত্রে স্কুলশিক্ষা দপ্তরেও বড় সংখ্যায় পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে মোট চৌত্রিশ হাজার নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
এই নিয়োগের জন্য বিধানসভায় বিল আনা হবে। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। সেই অনুমোদন বুধবারের বৈঠকে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ফলে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি স্কুলশিক্ষা দপ্তরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর শূন্যপদ পূরণের বিষয়টি নিয়োগ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকছে।
সরকারি দপ্তরগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেই স্কুলশিক্ষা দপ্তরের এই নিয়োগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পদগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
রাজ্যের চুয়ান্নটি দপ্তরে নিয়োগের পরিকল্পনা
রাজ্য সরকারের মোট চুয়ান্নটি দপ্তরের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দপ্তরভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা সাত হাজার থেকে পনেরো হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
অর্থাৎ প্রতিটি দপ্তরের প্রয়োজন এক রকম নয়। যে দপ্তরে কর্মী ঘাটতি বেশি এবং প্রশাসনিক কাজ চালাতে বেশি কর্মীর প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী শূন্যপদ পূরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা সমস্ত শূন্যপদ একসঙ্গে পূরণ করার পরিবর্তে জরুরি পদগুলিকে আগে চিহ্নিত করার যে নীতি নেওয়া হয়েছিল, সেই নীতির ভিত্তিতেই নিয়োগ এগোবে।
চলতি অর্থবছরের শেষ পাঁচ মাসে নিয়োগের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির শূন্যপদ এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে নিয়োগের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে একদিকে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাজের জন্য কোন পদগুলি দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
আগামী মার্চের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য
চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের বাকি পাঁচ মাসকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে নিয়োগ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রথমে প্রয়োজনীয় শূন্যপদ চিহ্নিত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলির মধ্যে আগামী এক বছরের মধ্যে পূরণ করা প্রয়োজন এমন পদগুলির বিস্তারিত তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে।
পুলিশ, স্কুলশিক্ষা এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তর—সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ করা হবে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি দপ্তরভিত্তিকভাবে ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে যে কর্মী ঘাটতির কথা জানানো হয়েছে, তার কারণেই প্রয়োজনীয় পদগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি নেওয়া হয়েছিল। সরকারি দপ্তরে কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ছে এবং সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও কর্মী ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের পাশাপাশি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও আয়ুশ দপ্তর গঠনের কাজ
চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আরও কিছু প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কাজ এবং আয়ুশ দপ্তর গঠনের কাজও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে রাজ্য সরকার।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ক্ষেত্রে বিধানসভায় বিল আনার প্রক্রিয়া থাকবে। এর আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন ছিল এবং সেই অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে আয়ুশ দপ্তর গঠনের কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের শেষ পাঁচ মাসে একদিকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোবে, অন্যদিকে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির কাজও চলবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রয়োজনীয় শূন্যপদ চিহ্নিত করে সেগুলি ধাপে ধাপে পূরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মোট এক লক্ষ একান্ন হাজার শূন্যপদ পূরণের এই সিদ্ধান্তের মধ্যে রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, স্কুলশিক্ষা দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর রয়েছে। চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে আগামী মার্চের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
#WestBengalGovernmentJobs2026 #GovernmentRecruitment #WestBengalRecruitment #PoliceRecruitment #KolkataPolice #TeacherRecruitment #GovernmentJobs #StateGovernmentJobs
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

