নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যে এক লক্ষ সরকারি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পর সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও ১৪ হাজার ৪৫৪টি নতুন পদে নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দফতর মিলিয়ে এই নিয়োগ হবে। নিয়োগের দায়িত্ব থাকবে পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং পুলিশ নিয়োগ বোর্ডের হাতে। বাকি নিয়োগ হবে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রয়োজন অনুযায়ী। স্বাস্থ্য, আইন, গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার পরিষেবা, ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র, বন, অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা, সংশোধনাগার, স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক দফতর-সহ একাধিক ক্ষেত্রে পদ তৈরি করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশ, মহিলা পুলিশ রিজার্ভ বাহিনী, আদালতের জিআর শাখা, ২৯টি মহিলা পুলিশ থানা এবং ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারেও নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৪ হাজার ৪৫৪ পদে অনুমোদন
সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিভিন্ন সরকারি দফতর মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৪৫৪টি নতুন পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদগুলিতে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে। আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে পরীক্ষার যাবতীয় ধাপ শেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই নিয়োগের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দফতরের পাশাপাশি পুলিশ ব্যবস্থার একাধিক ক্ষেত্রও থাকছে। নিয়োগের পরীক্ষার দায়িত্ব থাকবে পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং পুলিশ নিয়োগ বোর্ডের হাতে। ফলে দফতরভেদে আলাদা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ এগোবে।
এর আগে চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যে এক লক্ষ সরকারি কর্মী নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই বৃহত্তর লক্ষ্যের মধ্যেই সোমবারের ১৪ হাজার ৪৫৪টি পদে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।
কোন কোন দফতরে হবে নিয়োগ
ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর, আইন বিভাগ, গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগ, ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র বিভাগ, বন বিভাগ, অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা বিভাগ, সংশোধনাগার, স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক দফতর-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নিয়োগ হবে।
এছাড়াও কলকাতা পুলিশে নিয়োগের কথা রয়েছে। মহিলা পুলিশ রিজার্ভ বাহিনী, আদালতের জিআর শাখা, ২৯টি মহিলা পুলিশ থানা এবং ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারেও নতুন পদে নিয়োগ হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের মাধ্যমে বিভিন্ন দফতর থেকে আসা নিয়োগের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
অর্থাৎ শুধু একটি বা দু’টি ক্ষেত্রে নয়, একাধিক সরকারি দফতর ও পরিষেবা ব্যবস্থাকে নিয়োগের আওতায় রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য থেকে বন, অগ্নি নির্বাপণ থেকে সংশোধনাগার, স্বরাষ্ট্র থেকে পুলিশ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পুলিশ ও অন্যান্য নিয়োগের দায়িত্ব কার হাতে
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন পদগুলিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং পুলিশ নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পুলিশ সংক্রান্ত পদগুলির জন্য থাকবে পুলিশ নিয়োগ বোর্ডের দায়িত্ব। অন্যান্য নির্দিষ্ট সরকারি পদে নিয়োগ হবে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা শেষ করে নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ ধাপে ধাপে পরীক্ষা, বাছাই এবং নিয়োগের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পুলিশের ক্ষেত্রেও নিয়োগের বিষয়ে আলাদা করে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার পুলিশ পদে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে রয়েছে এবং নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজও শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।
আগের সরকারের বিরুদ্ধে কী বললেন শুভেন্দু
নিয়োগের ঘোষণা করতে গিয়ে আগের সরকারের সময়ের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করে রেখেছিল এবং চাকরি নিয়ে অনিয়ম হয়েছিল। বিশেষ করে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, সেই জটিলতা কাটিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য বাধাও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এখন বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, আগের সরকার ক্ষমতায় থাকলে এই নিয়োগ সম্ভব হত না।
এই বক্তব্যের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবর্ষে এক লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার যে লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণের দিকে সরকার এগোচ্ছে। সোমবারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর নিয়োগ পরিকল্পনারই একটি অংশ।
ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে নিয়োগ শেষের লক্ষ্য
সব মিলিয়ে সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত ১৪ হাজার ৪৫৪টি নতুন পদে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে নিয়োগ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে পরীক্ষা এবং নিয়োগের কাজ শেষ করা হবে।
স্বাস্থ্য, আইন, শিক্ষা ও গ্রন্থাগার পরিষেবা, বন, অগ্নি নির্বাপণ, সংশোধনাগার, স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক দফতর থেকে শুরু করে কলকাতা পুলিশ, মহিলা পুলিশ রিজার্ভ বাহিনী, ২৯টি মহিলা পুলিশ থানা, আদালতের জিআর শাখা এবং ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগার—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নতুন পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চলতি অর্থবর্ষে এক লক্ষ সরকারি কর্মসংস্থানের যে লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে, তার সঙ্গে এই নতুন ১৪ হাজার ৪৫৪টি নিয়োগের সিদ্ধান্ত যুক্ত হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ শেষ করে কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোয়, সেটিই নজরে থাকবে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

