গণপতি ভক্তদের অত্যন্ত পরিচিত ধ্বনি ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্কঃ ৩১শে আগস্ট, বুধবার দেশজুড়ে ধুমধাম করে পালন করা হল গণেশ চতুর্থী। দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে এই পুজোর হার অনেক বেশি হলেও মহারাষ্ট্রের মানুষের কাছে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য এই গণেশ চতুর্থীর আয়োজন। তবে বাংলাও অবশ্য খুব একটা পিছিয়ে নেই। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গেও গণেশ পুজোর হিড়িক বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী মারণ ভাইরাসের প্রকোপে গত দু-বছর তেমন জাঁকজমক করা সম্ভব হয়নি আয়োজনে। তাই করোনা মহামারী কাটিয়ে আবার পুরোনো মেজাজে, চেনা ছন্দে ফিরেছে সিদ্ধি বিনায়ক উৎসব।
বাঙালি হোক বা অবাঙালি, সিদ্ধিদাতার আরাধনায় ভক্তদের অতি পরিচিত ধ্বনি ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’। কিন্তু আসলে এই ‘মোরিয়া’ শব্দের সঠিক মানে কি? কথিত আছে, মহারাষ্ট্রের পুনে অঞ্চলের চিঞ্চেওয়ার নামের কোনো এক জায়গায় বসবাস করতেন মোরিয়া গোসাবি নামের এক গণপতি ভক্ত। যদিও আসলে লোকটি ছিলেন কর্নাটকের। বলা হয়, বিশেষ কোনো একটি কাজে অত্যন্ত অনুতপ্ত হয়ে পুনেতে গণপতি বন্দনা শুরু করেন তিনি। গুজরাটের আমেদাবাদেও তিনি নাকি একটি মন্দির বানিয়েছিলেন। সিদ্ধি, শ্রী চিন্তামনিতেও গণেশ দর্শন করেছিলেন তিনি। গোসাবি-র ছেলেও ভক্ত হিসেবে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মোরিয়া গোসাবি-র ভগবান গণেশের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধার কাহিনী ছড়িয়ে পরে সেই থেকে।
| ছবি: তৃণা চৌধুরী |
এছাড়া জানা যায়, স্বয়ং গণপতি নাকি গোসাবি-র ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে দেখা দেন এবং তাকে নিজের ইচ্ছেমত বর চাইতে বলেন। উত্তরে গোসাবি জানান যাতে তার নাম চিরকাল তার আরাধ্য ভগবান গণেশের সঙ্গেই উচ্চারণ করা হয়। গণেশ তা মেনে নেন এবং সেই থেকেই তার শ্রদ্ধাকে সম্মান জানাতে সিদ্ধিদাতার নামের সঙ্গে তার নাম নেওয়ার প্রচলন শুরু হয়। ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’ আরাধনার অংশ হয়ে ভক্ত ও ভগবানের ভালোবাসার প্রতীক হয়ে দিকে দিকে ছড়িয়ে পরে।

