Mardaani 3 Review: দিল্লির ভাইরাল ভিডিও ঘিরে পাচার আতঙ্ক, পুলিশের কড়া পদক্ষেপ এবং তার মধ্যেই আলোচনায় মার্দানী থ্রি—বিতর্ক, প্রত্যাশা, দর্শক প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবতার তুলনায় কতটা সফল এই নতুন পর্ব?
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি দিল্লিকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়—প্রতিদিন বিপুল সংখ্যায় শিশু ও নারী পাচার হচ্ছে রাজধানী থেকে। তারা নিখোঁজ তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আতঙ্ক, ক্ষোভ এবং উদ্বেগে ভরে যায় নেটমাধ্যম। বহু মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, সত্যিই কি পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? পরে পুলিশ প্রশাসন জানায়, ভিডিওটির তথ্য বিভ্রান্তিকর এবং অতিরঞ্জিত। কোনো শহরকে কলঙ্কিত করে অপপ্রচার ছড়ানো রোধে তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই বিতর্কের মধ্যেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—এই ভাইরাল প্রচার কি আসন্ন চলচ্চিত্র মার্দানী থ্রির প্রচারণার অংশ ছিল? যদিও এ বিষয়ে নির্মাতা বা প্রযোজনা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবুও সময়ের মিল থাকায় আলোচনায় এসেছে বিষয়টি। এই প্রেক্ষাপটেই আবার সামনে এসেছে শিবানী শিবাজী রায়। তাহলে বিতর্কের আবহে মুক্তিপ্রাপ্ত মার্দানী থ্রি আসলে কেমন? বলিউডে শক্তিশালী নারী পুলিশ চরিত্রের কথা উঠলেই সবার আগে মনে পড়ে শিবানী শিবাজী রায়ের নাম। সেই চরিত্রে আবারও ফিরেছেন রানী মুখোপাধ্যায়।
স্বাভাবিকভাবেই দর্শকের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কারণ প্রথম দুই পর্ব সমাজের অন্ধকার দিককে যে তীব্রতা ও বাস্তবতার সঙ্গে তুলে ধরেছিল, তা আজও আলোচনায় থাকে। তৃতীয় পর্ব মুক্তির পর প্রশ্ন উঠছে—মার্দানী থ্রি আসলে কেমন হলো? এটি কি আগের দুই পর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছে, নাকি মানের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে গেছে? দর্শকের প্রতিক্রিয়া, ইউটিউব মন্তব্য, বক্স অফিস আয়, অভিনয় বিশ্লেষণ এবং ত্রুটির দিক—সব মিলিয়ে এখানে থাকছে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ।
কাহিনি সংক্ষেপ ও নির্মাণভঙ্গি
এই ছবির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে আট থেকে দশ বছর বয়সী শিশু অপহরণ চক্রকে ঘিরে। ‘আম্মা’ নামে পরিচিত এক নারী অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সেই চক্রকে ধরতেই নামেন শিবানী শিবাজী রায়। প্রথমার্ধে তদন্তের গতি দ্রুত ও টানটান। রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়। দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন কীভাবে সূত্র মিলিয়ে এগোচ্ছেন নায়িকা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গতি কিছুটা এলোমেলো। কিছু দৃশ্যে যুক্তির অভাব স্পষ্ট। তদন্তের বাস্তবতা ছেড়ে গল্প কিছুটা নাটকীয়তার দিকে ঝুঁকে পড়েছে—যা আগের দুই পর্বের স্বতন্ত্রতা থেকে আলাদা।
অভিনয় বিশ্লেষণ (Mardaani 3 Review)
রানী মুখোপাধ্যায় এই ছবির প্রাণ। সংলাপ, দৃষ্টি, দৃঢ়তা—সব ক্ষেত্রেই তিনি শক্তিশালী। বিশেষ করে আবেগঘন দৃশ্যে তাঁর অভিনয় দর্শককে স্পর্শ করে। তিনি যেন শিবানী রায় চরিত্রটিকে নিজের শরীর-মন দিয়ে ধারণ করেছেন। পুলিশের ইউনিফর্মে তাঁর দৃপ্ত হাঁটা, অপরাধীর সামনে দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে প্রশ্ন ছোড়া—সবই দর্শককে টেনে রাখে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে তাঁর এনার্জি ছবিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিছু দৃশ্যে তাঁর সংলাপ শুনে হলজুড়ে হাততালিও উঠতে পারে। তবে সমস্যা একটাই—যখন গল্প দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শুধুমাত্র রানি একা পুরো ছবিকে বাঁচাতে পারেন না। তিনি নিজের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন, কিন্তু ছবির সামগ্রিক নির্মাণ তাঁকে পুরোপুরি সমর্থন করতে পারেনি।খলনায়ক চরিত্রে রয়েছেন মল্লিকা প্রসাদ, তাঁর সূচনা দৃশ্য প্রভাব ফেললেও চরিত্রের গভীরতা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায় না। আগের পর্বে তাহির রাজভাসিন, বিশাল জেঠওয়া যে তীব্রতা সৃষ্টি করেছিলেন, তার তুলনায় এই খলনায়ক কিছুটা কম প্রভাবশালী। যীশু সেনগুপ্ত কে খুব অল্প সময়ের জন্য দেখা যায়, যা অনেক দর্শকের মতে অপূর্ণ ব্যবহার।
দর্শকের প্রতিক্রিয়া (Mardaani 3 Review)
হলে দর্শকের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। প্রথমার্ধে করতালি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে সেই উত্তেজনা কিছুটা কমে যায়। ইউটিউবে রিভিউ ভিডিওগুলোর মন্তব্য থেকে দেখা যাচ্ছে—অনেকে বলছেন, “রানির জন্যই দেখা যায়। কেউ কেউ লিখেছেন, “প্রথম অংশ ভালো, কিন্তু শেষ অংশ হতাশ করেছে।” আবার কিছু দর্শক মত দিয়েছেন, “আগের মতো তীব্রতা নেই।” তবে ইতিবাচক মন্তব্যও আছে। বিশেষ করে সামাজিক বিষয় তুলে ধরার জন্য ছবিকে প্রশংসা করেছেন অনেকেই।
প্রথম পর্বে শিশু পাচারের নির্মম বাস্তবতা ছিল কেন্দ্রে। দ্বিতীয় পর্বে মনস্তাত্ত্বিক অপরাধের তীব্রতা দর্শকদের নাড়া দিয়েছিল। তৃতীয় পর্বে বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্মাণে সেই ধারাবাহিক তীব্রতা পুরোপুরি ধরা পড়েনি।ছবিটি প্রযোজনা করেছে Yash Raj Films। প্রাথমিক সপ্তাহে টিকিট বিক্রি সন্তোষজনক হলেও আগের দুই পর্বের তুলনায় কিছুটা কম।প্রথম সপ্তাহান্তে আয় মাঝারি মানের। বিশ্লেষকদের মতে, মুখে মুখে প্রচার শক্তিশালী না হওয়ায় দ্বিতীয় সপ্তাহে গতি কিছুটা কমেছে। তবে চূড়ান্ত আয়ের হিসাব নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদি প্রদর্শনের উপর।
মার্দানী থ্রি খারাপ নয়, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণে পুরোপুরি সফলও নয়। রানি মুখার্জির অভিনয়ই ছবির প্রধান শক্তি। প্রথম অংশ টানটান, দ্বিতীয় অংশ দুর্বল। আগের দুই পর্বের তুলনায় এটি কিছুটা কম প্রভাবশালী। তবুও সামাজিক বিষয়বস্তুর কারণে একবার দেখা যেতে পারে। প্রথমার্ধ যথেষ্ট টানটান। গল্পের বুনন, অপহরণ চক্রের রহস্য, শিবানীর তদন্ত—সবকিছুই আকর্ষণীয়ভাবে এগোয়। দর্শক ভাবতে থাকেন, এবার হয়তো আরও এক চমক অপেক্ষা করছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রনাট্য জটিল হয়ে পড়ে। কিছু দৃশ্যে লজিকের ঘাটতি স্পষ্ট। তদন্তের বাস্তবতা হারিয়ে গিয়ে অনেকটা “মাসালা” ঢং চলে আসে। আগের কিস্তিগুলোর অন্যতম শক্তি ছিল বাস্তবধর্মী নির্মাণ। এখানে সেই ‘গ্রিট’ বা মাটির গন্ধ যেন কম।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ভোটের বছরেও ‘বঞ্চিত’ বাংলা? হাইস্পিড রেল আর ফ্রেট করিডর ছাড়া ঝুলিতে শূন্য! বাজেটে বাড়ল ক্ষোভের পারদ
- ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাজেট কি জনদরদী হতে চলেছে? জানুন, লাইভ বাজেট আপডেট ২০২৬
- পুরনো ধাতুর ওপর বিশ্বাস │ রাজপথে কীভাবে ভিন্টেজ গাড়ি হয়ে ওঠে চলমান ইতিহাস
- ঋতুস্রাব আর বাধা নয় শিক্ষায় │ যুগান্তকারী রায় দেশের শীর্ষ আদালতের
- বাজেট প্রত্যাশা ২০২৬ │ ভোটের আগে বাংলার জন্য কী চমক রাখছে কেন্দ্র? │ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ

