India Digital Census 2026: প্রায় ছয় বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ১লা এপ্রিল থেকে দেশে শুরু হতে চলেছে প্রথম ডিজিটাল জনগণনা (Digital Census)। এবার আর খাতাকলম বা কাগজের স্তূপ নয়, পুরোটাই হবে অত্যাধুনিক অ্যাপ এবং ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে। এমনকি প্রথমবার যুক্ত হচ্ছে জাতিভিত্তিক গণনা বা কাস্ট সেন্সাসও! বাড়িতে সরকারি সমীক্ষক আসার আগে আপনি কীভাবে নিজের পরিবারের তথ্য অনলাইনে নিজে থেকেই জমা দেবেন? সাধারণ মানুষের কী কী সুবিধা হবে? জানুন বিস্তারিত গাইডলাইন
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: আপনার কি মনে আছে শেষবার কবে আপনার বাড়িতে জনগণনা বা সেন্সাস (Census) করার জন্য সরকারি কর্মীরা বড় বড় খাতা নিয়ে এসেছিলেন? হ্যাঁ, ২০১১ সালে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর অন্তর দেশে জনসংখ্যা গণনা হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ২০২১ সালে সেন্সাস হওয়ার কথা থাকলেও, বিভিন্ন কারণে তা প্রায় ছয় বছর পিছিয়ে যায়। তবে এবার আর কোনো অপেক্ষা নয়। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময়ের ডেটা গ্যাপ পূরণ করতে আগামী ১লা এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে জনগণনার মহাযজ্ঞ।
তবে এবারের জনগণনা অতীতের যেকোনো সেন্সাসের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, ভারত এই প্রথমবার একটি সম্পূর্ণ ‘ডিজিটাল সেন্সাস’ বা ডিজিটাল জনগণনার সাক্ষী হতে চলেছে। আর সবচেয়ে বড় চমক হলো, সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি এসে আপনার তথ্য নেওয়ার আগেই, আপনি চাইলে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে আপনার পরিবারের সমস্ত তথ্য অনলাইনে জমা করে দিতে পারবেন!
আরও পড়ুন : কে এই নতুন রাজ্যপাল আর. এন. রবি? জানুন তাঁকে নিয়ে তামিলনাড়ুর সমস্ত বিতর্ক ও যাবতীয় তথ্য
গত বৃহস্পতিবার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের এই প্রথম ডিজিটাল সেন্সাসের জন্য একগুচ্ছ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং দুটি বিশেষ ম্যাসকট লঞ্চ করেছেন। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে NewsOffBeat আপনাদের জানাবে, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই ডিজিটাল জনগণনায় আপনার কী করণীয়? কোন লিঙ্কে গিয়ে আপনি তথ্য দেবেন? আর কীভাবেই বা এই নতুন সিস্টেম আপনার সময় বাঁচাবে?
জনগণনার দুটি পর্যায়: কবে কী তথ্য নেওয়া হবে? (India Digital Census 2026)
পুরো দেশের বিপুল জনসংখ্যার তথ্য এক দিনে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই এবারের এই ডিজিটাল জনগণনাকে দুটি মূল পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে:
- প্রথম পর্যায় (১লা এপ্রিল থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬): এই পর্যায়ে মূলত আপনার আবাসন পরিস্থিতি (Housing conditions) এবং পরিবারের সুযোগ-সুবিধা বা হাউসহোল্ড অ্যামেনিটিজ (Household amenities) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। অর্থাৎ, আপনার বাড়িটি কাঁচা না পাকা, বাড়িতে পানীয় জলের কী সুবিধা আছে, শৌচালয় আছে কি না—এই সমস্ত প্রাথমিক ডেটা এই সময়ের মধ্যে নথিভুক্ত হবে।
- দ্বিতীয় পর্যায় (ফেব্রুয়ারি ২০২৭): এই পর্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধাপে নাগরিকদের ডেমোগ্রাফিক (Demographic), সামাজিক (Social) এবং অর্থনৈতিক (Economic) তথ্য রেকর্ড করা হবে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা ইত্যাদি এই ধাপে যুক্ত হবে।
ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: প্রথমবার কাস্ট সেন্সাস
এবারের জনগণনার আরেকটি সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এই প্রথমবার জনগণনার সঙ্গে জাতিভিত্তিক গণনা বা কাস্ট সেন্সাস (Caste enumeration) অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো যে কাস্ট সেন্সাসের দাবি জানিয়ে আসছিল, এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতেই সেই ডেটা সংগ্রহ করবে সরকার।
সেল্ফ-এনিউমারেশন (Self-Enumeration): মোবাইল থেকেই দিন নিজের তথ্য
আগে জনগণনার কর্মীরা যখন বাড়িতে আসতেন, অনেক সময় বাড়ির পুরুষ সদস্যরা বা যিনি তথ্য দিতে পারবেন তিনি হয়তো অফিসে থাকতেন। ফলে তথ্য সংগ্রহে দেরি হতো বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু এবার সেই সমস্যার পাকাপাকি সমাধান এনেছে ‘সেল্ফ-এনিউমারেশন (SE) পোর্টাল’।
এই SE পোর্টালটি হলো একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ওয়েব-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। সমীক্ষকরা বাড়ি বাড়ি যাওয়ার আগেই, যোগ্য উত্তরদাতারা (Eligible respondents) এই পোর্টালে লগইন করে নিজেদের পরিবারের সমস্ত তথ্য অনলাইনে জমা করতে পারবেন।
নাগরিকদের জন্য গাইডলাইন (কীভাবে কাজ করবে এই সিস্টেম?)
- ভাষা নির্বাচন: এই পোর্টালটি দেশের ১৬টি আঞ্চলিক ভাষায় পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, আপনি চাইলে সম্পূর্ণ বাংলায় আপনার তথ্য পূরণ করতে পারবেন।
- অনলাইনে তথ্য পূরণ: পোর্টালে গিয়ে আপনার বাড়ির ঠিকানা, সদস্য সংখ্যা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট করতে হবে।
- ইউনিক আইডি (Unique ID) জেনারেশন: অনলাইনে তথ্য সফলভাবে জমা হওয়ার পর, আপনার মোবাইলে বা পোর্টালে একটি ‘ইউনিক সেল্ফ-এনিউমারেশন আইডি’ (Unique self-enumeration ID) তৈরি হবে। এই আইডিটি অত্যন্ত যত্ন করে লিখে বা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন।
- সমীক্ষককে আইডি দেখানো: এরপর যখন সরকারি সমীক্ষক বা এনিউমারেটর আপনার বাড়িতে আসবেন, তখন আপনাকে আর নতুন করে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না। আপনি শুধু ওই জেনারেট হওয়া ‘ইউনিক আইডি’টি তাঁর সঙ্গে শেয়ার করবেন। সমীক্ষক সেই আইডি ভেরিফাই করে নিলেই আপনার জনগণনার কাজ শেষ!
এই পদ্ধতিটি সাধারণ মানুষের জন্য যেমন সময় সাশ্রয়ী, তেমনই সরকারি কর্মীদের ওপর থেকেও বিশাল কাজের চাপ কমিয়ে দেবে।
এই গোটা ডিজিটাল মহাযজ্ঞকে (India Digital Census 2026) সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং’ (Centre for Development of Advanced Computing) একাধিক উন্নত মানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। সেল্ফ-এনিউমারেশন পোর্টাল ছাড়াও আর যে প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে: - HLO মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (HLO Mobile Application): এটি সমীক্ষকদের জন্য একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত অফলাইন মোবাইল অ্যাপ। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও সমীক্ষকরা এই অ্যাপে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন এবং পরে তা আপলোড করতে পারবেন। এর ফলে কাগজের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হবে (eliminating traditional paper-work) এবং সরাসরি সার্ভারে ডেটা চলে যাবে।
- হাউসলিস্টিং ব্লক ক্রিয়েটর (HLBC): এটি একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, যা অফিসারদের স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ডিজিটালি হাউসলিস্টিং ব্লক তৈরি করতে সাহায্য করবে। এর ফলে গোটা দেশে নিখুঁত ভৌগোলিক কভারেজ নিশ্চিত হবে।
- সেন্সাস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম (CMMS): এটি হলো একটি সেন্ট্রালাইজড ড্যাশবোর্ড। জেলা বা রাজ্য স্তরের অফিসাররা রিয়েল টাইমে ট্র্যাক করতে পারবেন যে কোন এলাকায় কত শতাংশ গণনা সম্পন্ন হয়েছে।
‘প্রগতি’ ও ‘বিকাশ’: ২০৪৭-এর উন্নত ভারতের স্বপ্ন
এই জনগণনার প্রচার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুটি ম্যাসকট (Mascots) লঞ্চ করেছেন—’প্রগতি’ এবং ‘বিকাশ’। এই ম্যাসকট দুটি আসলে মহিলা এবং পুরুষ সমীক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে যে, এই ম্যাসকটগুলো নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ (Equal participation of women and men) এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে (Developed nation by 2047) পরিণত করার সংকল্পকে তুলে ধরে।
সাধারণ মানুষের জন্য কিছু জরুরি টিপস (India Digital Census 2026)
১লা এপ্রিল থেকে জনগণনা শুরু হওয়ার আগে সাধারণ নাগরিকদের উচিত নিজেদের পরিবারের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র (যেমন আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র) গুছিয়ে হাতের কাছে রাখা। পোর্টালে তথ্য পূরণ করার সময় কোনো তাড়াহুড়ো করবেন না। সঠিক বানান এবং সঠিক তথ্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই সেন্সাসের ডেটার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে দেশের সমস্ত সরকারি প্রকল্প এবং নীতি নির্ধারণ করা হবে।
#newsoffbeat #DigitalCensus #IndiaCensus2026 #SelfEnumeration #DigitalIndia #CasteCensus #AmitShah #ImportantUpdate #CitizenGuide
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ঘরশত্রু বিভীষণ কি ইরানের সংকটের কারণ হল? আমেরিকা কোন বিশেষ বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে?
- বই পড়লে কি মন শান্ত হয়? জানুন, স্ট্রেস কমাতে কীভাবে এই বিশেষ থেরাপি কাজ করে
- গোলাপি মণীশ মলহোত্রা শাড়িতে নজর কাড়লেন সারা তেন্ডুলকর! অর্জুন-সানিয়ার রাজকীয় বিয়েতে চাঁদের হাট, জানুন অন্দরমহলের অজানা গল্প
- কে এই নতুন রাজ্যপাল আর. এন. রবি? জানুন তাঁকে নিয়ে তামিলনাড়ুর সমস্ত বিতর্ক ও যাবতীয় তথ্য
- কেন পদত্যাগ রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের? কারণ জানলে চমকে উঠবেন!

