Strait of Hormuz Conflict Impact on India: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ার মুখে। টিভিতে সারাদিন শুধু তেলের দাম বাড়ার কথা শুনছেন? কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার বাড়ির রোজকার বাসমতী চাল থেকে শুরু করে বাথরুমের টাইলস, এমনকি গাড়ির টায়ার—সবকিছুর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে এই প্রণালীর সঙ্গে! ইরান ভারতীয় জাহাজ ছাড় দেওয়ার কথা বললেও তা কতটা বাস্তবসম্মত? অতীতে কবে এই প্রণালী বন্ধ হয়েছিল? আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে জানুন এমন কিছু তথ্য, যা অন্য কোথাও পাবেন না।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধ বাঁধে, তখন টেলিভিশন খুললেই শুধু একটা কথাই শোনা যায়—”তেলের দাম বাড়ছে।” হ্যাঁ, অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল ভারতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সমস্যাটা শুধু তেলের ব্যারেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আপনি হয়তো সকালে উঠে যে খবরের কাগজ পড়ছেন, যে গাড়িতে চড়ে অফিসে যাচ্ছেন, কিংবা যে বাড়িতে বসে আছেন—তার অনেক কিছুর সঙ্গেই হাজার হাজার মাইল দূরের একটি সরু জলপথের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। সেই জলপথের নাম ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)।
ইরান এবং ওমানের মাঝে অবস্থিত মাত্র ২১ মাইল চওড়া এই প্রণালীটি হলো পারস্য উপসাগর থেকে খোলা সমুদ্রে বেরোনোর একমাত্র পথ। আর বর্তমানে ইজরায়েল, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার জেরে এই হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের (Commerce Ministry) তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের মোট রপ্তানির ১৫.১ শতাংশ এবং মোট আমদানির ২০.১ শতাংশ সরাসরি পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই তথ্যই প্রমাণ করে যে ভারতের বাণিজ্যের জন্য এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
আজ NewsOffBeat-এর এই এক্সক্লুসিভ এবং বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে আমরা শুধু তেলের কথা বলব না। আমরা গভীর গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরব, এই প্রণালী বন্ধ হলে ভারতের কোন কোন শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে। ইরান যদি ভারতীয় জাহাজকে ছাড় দেওয়ার কথা বলেও থাকে, তার বাস্তব পরিণতি কী? আর অতীতে এই প্রণালী নিয়ে কী কী যুদ্ধ হয়েছে? আসুন, বিশেষজ্ঞদের চোখ দিয়ে এই ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক গোলকধাঁধাটি বোঝার চেষ্টা করি।
তেলের বাইরে এক বিশাল দুনিয়া: কী কী আটকে আছে হরমুজে?
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ভারতের অর্থনীতিতে যে কী পরিমাণ ধাক্কা লাগবে, তা ক্রিসিল রেটিংস (Crisil Ratings) এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্ক জিটিআরআই (GTRI)-এর একটি রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট। দীর্ঘমেয়াদী বাধার ফলে ইনপুট কস্ট (input costs) বা কাঁচামালের দাম বাড়বে, জাহাজে মাল পরিবহনে দেরি হবে এবং কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর লাভের মার্জিন (corporate margins) মারাত্মকভাবে কমে যাবে। চলুন দেখে নিই, তেলের বাইরে আর কোন কোন সেক্টর বিপদে রয়েছে:
১. কৃষকের মাথায় হাত: সার এবং বাসমতী চাল
ভারত তার প্রয়োজনীয় সারের (Fertiliser) প্রায় ৩০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। এলএনজি (LNG) বা গ্যাসের জোগান কমে গেলে ইউরিয়া (Urea)-র উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যার ফলে ভারত সরকারের ওপর সারের ভর্তুকির বোঝা (subsidy burden) মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে, ভারতের বাসমতী চাল (Basmati Rice) রপ্তানির ৭০-৭২ শতাংশ (গত অর্থবর্ষে প্রায় ৬০ লক্ষ টন) পশ্চিম এশিয়ার বাজারগুলোতে যায়। জাহাজে মাল পাঠাতে দেরি হলে বাসমতী চালের বাণিজ্য দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে পেমেন্ট পেতেও দেরি হবে। অর্থাৎ, পাঞ্জাব বা হরিয়ানার কৃষকদের কান্না সরাসরি জড়িয়ে আছে হরমুজের সঙ্গে।
২. পরিকাঠামো ও আবাসন: সিমেন্ট থেকে তামার তার
আপনি যদি বাড়ি বানানোর কথা ভাবেন, তবে আপনার জন্যও দুঃসংবাদ রয়েছে। সিমেন্ট তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো চুনাপাথর (Limestone)। ভারত পশ্চিম এশিয়া থেকে ৪৮৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের চুনাপাথর আমদানি করে, যা মোট আমদানির ৬৮.৫ শতাংশ। রাসায়নিক ও সার শিল্পের জন্য ব্যবহৃত সালফারও (Sulphur) আসে এখান থেকে (৪২০ মিলিয়ন ডলার বা ৬৫.৮ শতাংশ)।
এছাড়াও, বিদ্যুৎ পরিবহণ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (Renewable energy) পরিকাঠামোয় ব্যবহৃত তামার তার (Copper wire) ভারত ৮৬৯ মিলিয়ন ডলারের আমদানি করে, যার ৫০.৭ শতাংশই আসে এই রুট দিয়ে।
৩. দৈনন্দিন জীবন: টায়ার, পেইন্টস, সিরামিক এবং জামাকাপড়
- টায়ার শিল্প: টায়ার তৈরির খরচের প্রায় অর্ধেকই অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত। ফলে টায়ারের দাম বৃদ্ধি অবধারিত।
- জামাকাপড় (Textiles): আপনি যে সিন্থেটিক জামাকাপড় পরছেন, তার উৎপাদন খরচের ৭০-৮০ শতাংশই অপরিশোধিত তেলের উপজাত দ্রব্যের (crude derivatives) ওপর নির্ভরশীল।
- রং (Paints): রঙের উৎপাদন খরচের প্রায় ৩০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের উপজাত দ্রব্যের সঙ্গে যুক্ত।
- সিরামিক (Ceramic): বাথরুমের টাইলস বা সিরামিক শিল্প জ্বালানি হিসেবে সম্পূর্ণভাবে এলএনজি এবং এলপিজি (LPG)-র ওপর নির্ভরশীল। এই সেক্টরের মোট আয়ের ৪০ শতাংশ আসে রপ্তানি থেকে, যার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার অবদান ১৫ শতাংশের বেশি। জ্বালানি না পেলে গুজরাটের মোরবির মতো বিশাল সিরামিক হাব স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে, কাজ হারাতে পারেন লক্ষ লক্ষ শ্রমিক।
৪. হীরে, বিমান ও পর্যটন: ভারতের রাফ ডায়মন্ড বা কাঁচা হীরের ৬৮ শতাংশই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) হয়ে নিলামের মাধ্যমে দেশে ঢোকে। পর্যটনের ক্ষেত্রেও ভারতের মোট আউটবাউন্ড বা বিদেশ যাত্রার ২৫ শতাংশ যায় ইউএই-তে, ১০ শতাংশ সৌদি আরবে এবং আরও ১০ শতাংশ কাতার, কুয়েত ও ওমানে। এই অঞ্চলগুলোর আকাশসীমা বন্ধ থাকলে ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলোর প্রায় ১০ শতাংশ উড়ানকে ঘুরপথে ইউরোপ বা আমেরিকায় যেতে হবে, যার ফলে তাদের পরিচালন ব্যয় বা অপারেটিং কস্ট (operating costs) অনেকটাই বেড়ে যাবে।
৫. তেলের ধাক্কা: এক অমোঘ পরিণতি
অবশ্যই, এনার্জি বা জ্বালানি শক্তির কথা ভুললে চলবে না। ভারত তার প্রয়োজনীয় ক্রুড অয়েলের ৮৫ শতাংশ আমদানি করে এবং এলএনজি-র প্রায় অর্ধেক বিদেশ থেকে আনে। এর মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ ক্রুড অয়েল এবং ৫০-৬০ শতাংশ এলএনজি সরাসরি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড (Brent crude)-এর দাম ব্যারেল প্রতি ৬৬-৬৭ ডলার থেকে বেড়ে ৮২-৮৪ ডলারে পৌঁছে গেছে। এশিয়ান স্পট এলএনজি-র দামও ১০ ডলার থেকে বেড়ে ২৪-২৫ ডলার প্রতি MMBtu হয়ে গেছে।
ইরানের ‘ছাড়পত্র’ বনাম বাস্তব পরিস্থিতি: কী বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ রনীতা মাইতি?
সম্প্রতি একটি খবর বাজারে খুব ঘুরছে যে, ভারত যেহেতু ইরানের বন্ধু রাষ্ট্র (চাবাহার বন্দর বা ব্রিকস-এর সূত্রে), তাই ইরান হয়তো হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় পতাকাবাহী কার্গো বা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিনা বাধায় যেতে দেবে। কিন্তু এই তত্ত্ব কতটা বাস্তবসম্মত? এই বিষয়ে NewsOffBeat-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ রনীতা মাইতি জানাচ্ছেন, “শুনতে খুব ভালো লাগলেও, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং যুদ্ধের ময়দান সম্পূর্ণ আলাদা। ইরান হয়তো সরকারিভাবে ভারতকে বলতে পারে যে আপনাদের জাহাজ আমরা আক্রমণ করব না। কিন্তু যখন একটা প্রণালীতে যুদ্ধ চলে, তখন সেখানে ভাসমান মাইন ছড়ানো থাকে, হুথি বা অন্য প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর রকেট উড়ে বেড়ায়। একটা মিসাইল বা ড্রোন কিন্তু জাহাজের গায়ের পতাকা দেখে আঘাত করে না।”
রনীতা মাইতি তাঁর বিশ্লেষণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আসল খেলাটা জাহাজের পতাকায় নয়, আসল খেলাটা হলো ইন্স্যুরেন্স বা বিমায়। বিশ্বের বড় বড় মেরিটাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো (যেমন লয়েডস অফ লন্ডন) যখন দেখে হরমুজ প্রণালী একটা ‘ওয়ার জোন’ বা যুদ্ধক্ষেত্র, তখন তারা যেকোনো জাহাজের (তা সে ভারতীয় হোক বা অন্য কোনো দেশের) প্রিমিয়াম কয়েক হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, ইরান আপনাকে না আটকালেও, আপনার জাহাজের মালিক ওই বিপুল ইন্স্যুরেন্সের টাকা দিয়ে সেই রুটে জাহাজ চালাতেই চাইবে না। ফলে মালপত্রের দাম এমনিতেই আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে।” অর্থাৎ, ইরানের মৌখিক আশ্বাসে ভারতের অর্থনীতি খুব একটা স্বস্তি পাবে না।
কেন হরমুজ এত অপরিহার্য এবং কী এর ইতিহাস? বিশেষজ্ঞ সৌমেন রায়ের বিশ্লেষণ (Strait of Hormuz Conflict Impact on India)
আমরা কি হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে অন্য কোনো রুট ব্যবহার করতে পারি না? কেন ভারত এর ওপর এত নির্ভরশীল? এই বিষয়ে আমরা কথা বলেছিলাম প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ সৌমেন রায়ের সঙ্গে।
সৌমেন রায় জানাচ্ছেন, “হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক অবস্থানটাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দুর্বলতা। এর বিকল্প বা অল্টারনেটিভ বলতে প্রায় কিছুই নেই। সৌদি আরবের একটি ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ আছে যা লোহিত সাগরে গিয়ে পড়ে, আর ইউএই-র ‘হাবশান-ফুজাইরা’ পাইপলাইন আছে যা ওমান উপসাগরে যায়। কিন্তু এগুলোর ক্যাপাসিটি বা ধারণক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত এবং এগুলো মূলত ওই দেশগুলোই ব্যবহার করে। ভারতের মতো ১৩০ কোটির দেশের বিপুল চাহিদা মেটানোর মতো কোনো বিকল্প পাইপলাইন বা রুট এই মুহূর্তে পৃথিবীতে নেই।”
সৌমেনবাবু আমাদের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ে নিয়ে যান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই উত্তেজনা নতুন কিছু নয়।
“১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ‘ট্যাঙ্কার ওয়ার’ (Tanker War) হয়েছিল। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে ইরান এবং ইরাক একে অপরের বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে ক্রমাগত আক্রমণ করে। প্রায় ৪০০-র বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং শতাধিক নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময়ও কিন্তু হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কিন্তু ইন্স্যুরেন্সের দাম বেড়ে যাওয়ায় তেলের সাপ্লাই মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এরপর ২০১১-২০১২ সালে যখন আমেরিকা এবং ইউরোপ ইরানের ওপর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চরম নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) চাপায়, তখন ইরান প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিল যে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। আবার ২০১৯ সালেও এই প্রণালীর কাছে বেশ কয়েকটি তেলের ট্যাঙ্কারে রহস্যজনক বিস্ফোরণ ঘটে। অর্থাৎ, যখনই ইরানের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখনই তারা বিশ্বের অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য এই হরমুজ প্রণালীকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করে।”
সাধারণ মানুষের ওপর এর সরাসরি প্রভাব
এই সমস্ত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ থেকে একটা বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ভারতের ‘কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট’ (Current account deficit) বা চলতি খাতের ঘাটতি বাড়িয়ে দেবে এবং দেশে ভয়াবহ মূল্যবৃদ্ধি বা ইনফ্লেশন (inflation) ডেকে আনবে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে। পরিবহন খরচ বাড়লে আলুর দাম থেকে শুরু করে মাছ-সবজির দাম বাড়বে। রঙের কোম্পানির কাঁচামালের দাম বাড়লে আপনার বাড়ির মেরামতির খরচ বাড়বে। বাসমতী চালের রপ্তানি বন্ধ হলে কৃষকরা পথে বসবেন, এবং সিমেন্ট-চুনাপাথর না এলে আবাসন শিল্পে কর্মরত লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের কাজ চলে যাবে। রিফাইনারিগুলোর লাভের মার্জিন কমে গেলে শেয়ার বাজারে পতন অবধারিত, যার ফলে আপনার মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্নও কমে যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালী শুধু একটি জলপথ নয়, এটি ভারতের অর্থনীতির লাইফলাইন বা জীবনরেখা। বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যুদ্ধ যদি এখনই না থামে, তবে ভারতের সামনে খুব বেশি বিকল্প খোলা নেই। সরকার হয়তো আপৎকালীন মজুত (Strategic Petroleum Reserves) থেকে কিছুদিন কাজ চালাবে, কিন্তু তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়।
ভারত সরকারকে এখন চরম কূটনৈতিক ভারসাম্য বা ‘ডিপ্লোম্যাটিক ব্যালান্সিং’ করতে হবে। একদিকে যেমন আমেরিকাকে শান্ত রাখতে হবে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে ব্যাক-চ্যানেল আলোচনা চালিয়ে নিজেদের সাপ্লাই চেইন সুরক্ষিত করতে হবে। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদেরও আগামী দিনের এই অর্থনৈতিক ঝড়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ, হরমুজের জলে যখনই কোনো পাথর পড়ে, তার সবচেয়ে বড় ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে ভারতের মাটিতেই।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- ঘরশত্রু বিভীষণ কি ইরানের সংকটের কারণ হল? আমেরিকা কোন বিশেষ বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে?
- বই পড়লে কি মন শান্ত হয়? জানুন, স্ট্রেস কমাতে কীভাবে এই বিশেষ থেরাপি কাজ করে
- গোলাপি মণীশ মলহোত্রা শাড়িতে নজর কাড়লেন সারা তেন্ডুলকর! অর্জুন-সানিয়ার রাজকীয় বিয়েতে চাঁদের হাট, জানুন অন্দরমহলের অজানা গল্প
- কে এই নতুন রাজ্যপাল আর. এন. রবি? জানুন তাঁকে নিয়ে তামিলনাড়ুর সমস্ত বিতর্ক ও যাবতীয় তথ্য
- কেন পদত্যাগ রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের? কারণ জানলে চমকে উঠবেন!

