Abhishek Banerjee Comeback: ভরাডুবির ২৬ দিন পর মাঠে অভিষেক! কর্মীদের চাঙ্গা করতে পথে নামছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, নাকি অপেক্ষায় নতুন রাজনৈতিক অস্বস্তি?
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কেটে গিয়েছে ২৬ দিন। এই দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে কার্যত অনুপস্থিত থাকার পর অবশেষে শনিবার রাস্তায় নামছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুর দক্ষিণ ও বেলেঘাটায় আক্রান্ত দুই তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।
কিন্তু রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই প্রত্যাবর্তন কি তৃণমূলের হতাশ কর্মী-সমর্থকদের নতুন করে উদ্দীপ্ত করবে, নাকি উল্টে আরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম দেবে? কারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের ভরাডুবির দায় নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এবং বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে।
ফল প্রকাশের পর গৃহবন্দি রাজনীতি (Abhishek Banerjee Comeback)
৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে মূলত কালীঘাটের বাসভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। যদিও সময়ে সময়েই তিনি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন, কিন্তু সরাসরি মাঠে নেমে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি তাঁকে।
এই সময়ের মধ্যে তৃণমূলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে বা আড়ালে নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় তাঁর কাঁধে চাপিয়েছেন। অনেক নেতা দল ছেড়েছেন, কেউ কেউ পদত্যাগ করেছেন। ফলে দলের অন্দরে অভিষেকের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নও জোরালো হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ নীরবতার পর তাঁর এই মাঠে ফেরা শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং নিজের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা পুনরুদ্ধারেরও একটি বড় পরীক্ষা।
পথে নামলেই কি বাড়বে বিতর্ক?
তৃণমূলের অন্দরেই এখন একটা বড় আশঙ্কা কাজ করছে। নির্বাচনের ফলের পর যেভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে নেতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাতে শনিবারের কর্মসূচিতে নতুন করে কোনও বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ দেখা দিলে তা দলের জন্য আরও অস্বস্তিকর হতে পারে।
বিশেষ করে অভিষেকের কর্মসূচি আগে থেকেই প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশেষত বিজেপি, প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
যদি এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে নির্বাচনী পরাজয়ের ক্ষত আবারও নতুন করে সামনে চলে আসবে।
বদলে গিয়েছে অভিষেকের রাজনৈতিক বাস্তবতা (Abhishek Banerjee Comeback)
২০১৪ সালে রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রমশ তৃণমূলের অন্যতম ক্ষমতাশালী মুখ হয়ে ওঠেন। একই বছর তিনি প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন। এরপর দলের সাংগঠনিক ক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রভাব এবং নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
একসময় তাঁর সঙ্গে থাকত জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা। প্রায় ১৯টি গাড়ির কনভয়, ৮০ জনেরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী এবং তাঁর সফরের জন্য বিশেষ গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা করা হতো।
কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে তিনি শুধুমাত্র একজন সাংসদ। নতুন সরকার তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। শনিবার যখন তিনি পথে নামবেন, তখন তাঁর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা নেমে আসবে মাত্র তিন বা চারটিতে।
এই পরিবর্তন শুধুমাত্র নিরাপত্তার নয়, রাজনৈতিক বাস্তবতারও প্রতীক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ডায়মন্ড হারবার মডেল ও জাহাঙ্গীর খান বিতর্ক
নির্বাচনের পর সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথাকথিত “ডায়মন্ড হারবার মডেল” ঘিরে।
বিশেষ করে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর খানের নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের ঘনিষ্ঠ নেতার পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন অভিষেক।
দলের একাংশেরও মত, যদি তিনি সরাসরি ফলতা এলাকায় গিয়ে জাহাঙ্গীর খানের পাশে দাঁড়াতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত।
যদিও অভিষেক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বারবার কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন, কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সেই বার্তা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং অনেকের কাছে তা বাস্তব পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকার প্রতীক হিসেবেই ধরা পড়েছে।
ওয়ার্ক ফ্রম হোম রাজনীতি (Abhishek Banerjee Comeback)
বিরোধী শিবিরের এক নেতার কটাক্ষ, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছিলেন।” রাজনৈতিক ভাষ্যে এই মন্তব্য এখন বেশ আলোচিত। বাস্তবে, নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় ধরে সরাসরি জনসংযোগ এড়িয়ে যাওয়ার কারণে দলের কর্মীদের মধ্যেও একটা অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সেই কারণেই শনিবারের কর্মসূচিকে অনেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি কি আবার মাঠের রাজনীতিতে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবেন? তিনি কি হতাশ কর্মীদের নতুন বার্তা দিতে পারবেন? নাকি নতুন করে বিক্ষোভ ও বিতর্কের মুখে পড়বেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো মিলতে শুরু করবে আজ থেকেই।
#AbhishekBanerjee
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে থেকে?

