Xiaomi 17 Ultra Camera Review: আপনি কি ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন কিন্তু বড় ডিএসএলআর (DSLR) বয়ে বেড়াতে ক্লান্ত? আপনার মুশকিল আসান করতে বাজারে চলে এসেছে Xiaomi 17 Ultra! এর সঙ্গে থাকা ‘ফটোগ্রাফি কিট’ আপনার সাধের স্মার্টফোনটিকে এক লহমায় বদলে দেবে আস্ত একটা পেশাদার ক্যামেরায়। বিশাল ১-ইঞ্চির 50MP সেন্সর থেকে শুরু করে 200MP জুম ক্যামেরা—কী নেই এতে! স্মার্টফোন ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় কি বিপ্লব আনতে চলেছে শাওমি? জানুন এর বিস্তারিত রিভিউ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: আপনি যদি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এমন একটি ফোন খুঁজছেন, যা দিয়ে আপনি আপনার ফটোগ্রাফির শখ মেটাতে পারবেন, তবে বাজারের সেরা ফোনগুলোর মধ্যে আপনাকে একটা বেছে নিতেই হবে। আধুনিক স্মার্টফোনগুলো এখন অর্ধেক কম্পিউটার আর অর্ধেক ক্যামেরার কাজ করে। কিন্তু সম্প্রতি বাজারে আসা Xiaomi 17 Ultra যেন এই ধারণাকেও ছাপিয়ে গেছে! এই ফোনটি দেখলে আপনার মনে হবে, এটি একটি স্মার্টফোন নয়, বরং একটি অত্যাধুনিক ক্যামেরার চারপাশে একটি ফোন তৈরি করা হয়েছে।
আজ আমরা এই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনটির একেবারে ‘ফার্স্ট ইম্প্রেশন’ (early impressions) বা প্রথম দর্শনের অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব। বিশেষ করে এর ‘ফটোগ্রাফি কিট’ (Photography Kit) কীভাবে একটি সাধারণ স্মার্টফোনকে পেশাদার ক্যামেরায় পরিণত করে, আসুন তার গভীরে প্রবেশ করা যাক।
কীভাবে কাজ করে এই ‘ফটোগ্রাফি কিট’?
শাওমির এই নতুন ‘Xiaomi 17 Ultra’-এর photography kit আসলে একটি এক্সটার্নাল মডিউল বা একটি অ্যাড-অন অ্যাকসেসরিজ, যা ফোনের সঙ্গে খুব সহজেই জুড়ে দেওয়া যায়। একবার এই কিটটি ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করার পর, আপনার স্মার্টফোনটি আর সাধারণ থাকে না, এটি রূপ নেয় একটি আস্ত পেশাদার ক্যামেরায়।
কিন্তু এমন কী আছে এই কিটে? এর মধ্যে রয়েছে একটি বিশেষ ক্যামেরা গ্রিপ (camera grip) যা আপনাকে পেশাদার ক্যামেরার মতোই ফোনটিকে স্থিরভাবে ধরতে সাহায্য করবে। এছাড়াও এতে রয়েছে একটি ডেডিকেটেড শাটার বাটন (dedicated shutter button) এবং অ্যাপারচার কন্ট্রোল হুইল (aperture control wheel), যার মাধ্যমে আপনি আপনার ছবির খুঁটিনাটি সেটিং সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
কিন্তু সবচেয়ে বড় চমকটি রয়েছে এর অপটিকাল পাওয়ারে। এই ফটোগ্রাফি কিটটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে ফোনের মূল ক্যামেরার ওপর একটি বিশাল, পুরনো দিনের স্টাইলের পেশাদার লেন্স (large vintage film-style lens adapter) লাগানোর সুবিধা রয়েছে। আর এই কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন যে, এটি একটি স্মার্টফোন নয়, বরং একটি পুরনো যুগের ফিল্ম ক্যামেরার সঙ্গে একটি নতুন দিনের স্মার্টফোনের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ!
ফোন নাকি ক্যামেরা? ম্যাজিক লুকিয়ে আছে ‘গ্রিপ’-এ!
Xiaomi 17 Ultra-কে আপনি দুটি উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমত, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী স্পেসিফিকেশন যুক্ত সাধারণ স্মার্টফোন হিসেবে। আর দ্বিতীয়ত, এর সঙ্গে থাকা টপ-অফ-দ্য-লাইন ‘ফটোগ্রাফি কিট’ (Photography Kit) যুক্ত করে। আর এই দ্বিতীয় উপায়টিই হলো শাওমির আসল চমক!
স্মার্টফোনের ডিজাইনের ক্ষেত্রে ‘আর্গোনমিক্স’ (Ergonomics) বা হাতে ধরার সুবিধার দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কোম্পানিই ফোনের পাতলা প্রোফাইল (thin profile) ঠিক রেখে ক্যামেরার এক্সপোজার বা অন্যান্য সেটিং কন্ট্রোল করার জন্য বাটনের (buttons) ব্যবহার করেছে। কিন্তু শাওমি এখানে একটা আস্ত ‘গ্রিপ’ (grip) বা হাতল প্রদান করেছে!
আপনি যখন এই গ্রিপটি ফোনের সঙ্গে লাগাবেন, তখন আপনার মনেই হবে না যে আপনি একটি ফোন ধরে আছেন, মনে হবে একটি ডিএসএলআর (DSLR) বা পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরা ধরে আছেন। এই গ্রিপটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর নিজস্ব ব্যাটারি (own battery)। গ্রিপটি ফোনের সঙ্গে লাগালে ফোন এবং গ্রিপের মধ্যে পাওয়ার এক্সচেঞ্জ (power to be exchanged) হয়। এটি একটি টাইপ-সি (USB-C) পোর্টের মাধ্যমে চার্জ হয়।
শুধু তাই নয়, এই গ্রিপের একদিকে এক্সপোজার অ্যাডজাস্ট (exposure adjustments) করার জন্য একটি কাস্টমাইজেবল কন্ট্রোল ডায়াল (customisable control dial) রয়েছে। ছবি তোলার জন্য রয়েছে একটি সুন্দর ডিজাইনের শাটার মেকানিজম (shutter mechanism) যা ‘সফট রিলিজ’ (soft release) সাপোর্ট করে। ভিডিও রেকর্ডিং শুরু করার জন্য একটি কাস্টমাইজেবল বাটন এবং জুম কন্ট্রোল (zoom control) করার জন্য একটি রকার সুইচ (rocker switch) দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তবে এই সেটআপটি আপনার জন্য অত্যন্ত উপভোগ্য হবে।
ক্যামেরার স্পেসিফিকেশন: তিনটি স্ন্যাপার এবং ২০০ মেগাপিক্সেলের জুম!
এই ফোনের ফোকাস এতটাই ফটোগ্রাফির ওপর যে, ফোনটিকে অনুভূমিকভাবে (horizontally) ধরলে পেছনের ‘Xiaomi’ এবং ‘Leica’ ব্র্যান্ডিংগুলো সঠিকভাবে পড়া যায়।
ক্যামেরা সিস্টেমটি হলো এই ফোনের আসল হিরো। এর পেছনের দিকে তিনটি মূল স্ন্যাপার বা লেন্স রয়েছে—মেইন (main), আল্ট্রা-ওয়াইড (ultra-wide) এবং টেলিফটো (telephoto)।
- মেইন ক্যামেরা (Main Camera): মেইন ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে একটি বিশাল ১-ইঞ্চির ৫০ মেগাপিক্সেল (one-inch 50MP sensor) সেন্সর, যার অ্যাপারচার হলো f/1.67। এই বড় সেন্সরটি প্রচুর আলো ধারণ করতে পারে, যার ফলে ছবিগুলো সাধারণ স্মার্টফোনের ছবির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা দেখতে লাগে (look different from the usual smartphone shots)। এর অটোফোকাস অত্যন্ত দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য (reassuring), যা প্রচুর ডিটেইলস (plenty of detail) এবং একটি সুন্দর শ্যালো ডেপথ অফ ফিল্ড (pleasingly shallow depth of field) বা ব্লার এফেক্ট তৈরি করতে পারে।
- আল্ট্রা-ওয়াইড (Ultra-wide): আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরাতেও কোনো আপস করা হয়নি। এতেও দেওয়া হয়েছে একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর (50MP sensor) যার অ্যাপারচার f/2.2। এটি ১৪ মিমি ইক্যুইভ্যালেন্ট (14mm equivalent) এবং লেন্সটি সত্যিই খুব ওয়াইড বা চওড়া ফ্রেম কভার করে।
- জুম ক্যামেরা (Zoom Camera): এর চমক এখানেই শেষ নয়! জুম করার জন্য দেওয়া হয়েছে একটি ২০০ মেগাপিক্সেলের (200MP sensor) সেন্সর। এটি একটি ট্রু ভ্যারিয়েবল ফোকাল লেন্থ জুম (true variable focal length zoom), যা ৭৫ মিমি থেকে ১০০ মিমি ইক্যুইভ্যালেন্টের (75mm smoothly transitions to 100mm equivalent) মধ্যে অত্যন্ত মসৃণভাবে ট্রানজিশন বা পরিবর্তন হতে পারে। এর অ্যাপারচার রেঞ্জ f/2.39 থেকে f/2.96 এর মধ্যে। ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর হওয়ার কারণে, জুম করার সময় ছবির মান খারাপ হওয়ার (cropping takes place) আগেই আপনি অনেক দূর পর্যন্ত জুম করতে পারবেন।
লাইকা (Leica) পার্টনারশিপ: ফিল্টার নয়, আসল কালার প্রোফাইল
শাওমির সঙ্গে বিখ্যাত ক্যামেরা কোম্পানি লাইকা-র (Leica) পার্টনারশিপ এই ফোনে আরও গভীর হয়েছে (appears deeper than what we have seen with other brands)। আপনি ছবি তোলার সময় ‘লাইকা ভাইব্র্যান্ট’ (Leica Vibrant) এবং ‘লাইকা অথেন্টিক’ (Leica Authentic) কালার প্রোফাইলের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন।
শাওমি দাবি করেছে যে এটি শুধু মাত্র কোনো ‘ফিল্টার’ (not about filters) নয়। ইমেজ প্রসেসিং পাইপলাইনটি (image processing pipeline) এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা একদম ক্যামেরার মতো ক্যারেক্টার বা চরিত্র (camera-like character) ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। ছবি তোলার সময় যে প্রসেসিং হয়, তার ফলেই ছবিগুলো অনেক বেশি লেয়ার্ড (layered) এবং কৃত্রিমভাবে প্রসেস করা (less artificially processed) মনে হয় না। সাধারণ স্মার্টফোনে যে অতিরিক্ত প্রসেস করা বা ‘ওভার-প্রসেসড’ (heavily over-processed look) ছবি দেখা যায়, এই ফোনটি তা সযত্নে এড়িয়ে যায়।
অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপ স্পেসিফিকেশন
ফটোগ্রাফি ছাড়া ফোনের বাকি স্পেসিফিকেশনগুলোও একদম টপ-নচ বা শীর্ষস্থানীয় (top-notch)।
- প্রসেসর: এতে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ (Snapdragon 8 Elite Gen 5) প্রসেসর।
- র্যাম ও স্টোরেজ: LPDDR5X RAM এবং UFS 4.1 স্টোরেজ এর পারফরম্যান্সকে করে তুলবে সুপারফাস্ট।
- ডিসপ্লে: ৬.৯-ইঞ্চির ফ্ল্যাট 120Hz ডিসপ্লে (6.9-inch flat 120Hz display) দেওয়া হয়েছে, যার পিক ব্রাইটনেস হলো অবিশ্বাস্য ৩,৫০০ নিটস (up to 3,500 nits of brightness)! অর্থাৎ কড়া রোদেও স্ক্রিন দেখতে কোনো অসুবিধা হবে না।
- ব্যাটারি ও চার্জিং: সারাদিন ছবি তোলার জন্য এতে রয়েছে ৬,০০০ এমএএইচ (6,000mAh battery) ব্যাটারি, যা ৯০ ওয়াটের হাইপারচার্জ (90W HyperCharge) সাপোর্ট করে।
চমকের আরও কিছু তথ্য:
এই Photography Kit-এর মধ্যে শুধুমাত্র একটি লেন্স বা গ্রিপ নেই। এর সঙ্গে রয়েছে আরও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাকসেসরিজ। এর মধ্যে অন্যতম হলো একটি ডেডিকেটেড ম্যক্রো লেন্স মডিউল (macro lens module) এবং একটি ডেডিকেটেড টেলিফটো লেন্স মডিউল (telephoto lens module)। এর মানে হলো, আপনি মাত্র একটি কিট ব্যবহার করেই ল্যান্ডস্কেপ, পোট্রেট, মাইক্রো অবজেক্ট—সব কিছুরই অত্যন্ত নিখুঁত ছবি তুলতে পারবেন।
এছাড়াও এই ফটোগ্রাফি কিটটি একটি বিশেষ ‘লাইটনিং মডিউল’ (lighting module)-এর সঙ্গে আসে, যা ফ্ল্যাশ বা পেশাদার আলো হিসেবে কাজ করে। এই কারণেই বলা হচ্ছে, আপনি যদি এই কিটটি সঙ্গে রাখেন, তবে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টুডিও সেটআপ আপনার পকেটে থাকবে!
পেশাদারদের জন্য সেরা অপশন
Xiaomi 17 Ultra কোনো সাধারণ ফোন নয়। এটি এমন একটি ফোন যা একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত ম্যাগাজিন বা পেশাদার কাজের জন্য (professional work, such as special shoots for magazines) ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনি যদি ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন এবং ভারী ক্যামেরা বয়ে না বেড়িয়ে পকেটে একটা শক্তিশালী ক্যামেরা নিয়ে ঘুরতে চান, তবে Xiaomi 17 Ultra-র এই ফটোগ্রাফি কিট সমেত ফোনটি আপনার জন্য এক দারুণ ইনভেস্টমেন্ট হতে পারে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্টফোন নাকি পেশাদার ক্যামেরা? Xiaomi 17 Ultra-র ফটোগ্রাফি কিট দেখে চমকে যাবেন আপনিও!
- মহাকাশ থেকে ক্যামেরায় তোলা ভারতের রাতের ছবি ভাইরাল! কেন এমন ছবি তোলা হল? এটা কি বিপদের অশনি সংকেত?
- নীরবে বাড়ছে কিডনি রোগ! বিশ্ব কিডনি দিবসে জানুন কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন, কী খাবেন আর কী এড়াবেন
- খাঁচায় বন্দি চিতা, অথচ সরকারের খাতায় ‘সফল’ প্রজেক্ট! ভারতের চিতা পুনর্বাসন প্রকল্পের আসল সত্যিটা কী?
- সোনার বাজারে বড় পতন! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে গোল্ড ইটিএফ-এ (Gold ETF) বিনিয়োগ করা কি এখন বুদ্ধিমানের কাজ?

