Primary Teacher Recruitment Case West Bengal: প্রাথমিকের বত্রিশ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলা ফের গ্রহণ করল শীর্ষ আদালত। আগস্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানির আগে নতুন করে বাড়ছে উদ্বেগ, কারণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নিয়েই উঠছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বহুদিন ধরেই রাজ্যের শিক্ষা মহলে অন্যতম চর্চিত বিষয় ছিল প্রাথমিকের বত্রিশ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলা। দুহাজার ষোলো সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় একসময় বত্রিশ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই রায় ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে শিক্ষকদের চাকরিতে বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। তবে এবার ফের সেই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল।
সোমবার প্রাথমিকের বত্রিশ হাজার চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলাটি গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ ইতিমধ্যেই সমস্ত পক্ষকে নোটিস জারি করেছে। আগামী আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
শুনানির সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলেন, যাঁদের হাতে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব রয়েছে, তাঁরা প্রকৃত অর্থে যোগ্য ছিলেন কি না, সেটাই আদালতকে দেখতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া আদৌ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না এবং সেই প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।
তবে এই মুহূর্তে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ আপাতত চাকরিতে বহালই থাকছেন ওই শিক্ষকরা।
কেন উঠছে আবার অনিয়মের অভিযোগ?
বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, দুহাজার চৌদ্দ সালের টেট পরীক্ষায় একাধিক প্রার্থীকে অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে পাশ করানো হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত প্যানেল তৈরি করে তাঁদের চাকরি দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই একাধিক অনিয়ম ছিল।
এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিল আদালত। যদিও পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, সিবিআই তদন্তে নির্দিষ্টভাবে বড় কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি। সেই কারণেই একতরফাভাবে সকলের চাকরি বাতিল করা যায় না বলে মত দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
কিন্তু সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল এবং প্রকৃত যোগ্যরা বঞ্চিত হয়েছেন।
আদালতের বড় প্রশ্ন
শুনানিতে বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, নির্দিষ্ট যোগ্যতা ছাড়া কীভাবে কোনও ব্যক্তি শিক্ষকতার চাকরি পেতে পারেন? আদালতের বক্তব্য, শিশুদের ভবিষ্যৎ যাঁদের হাতে, তাঁদের নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এর আগেও স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ মামলায় বড় পদক্ষেপ দেখা গিয়েছিল। দুহাজার ষোলো সালের এসএলএসটি মামলায় প্রায় ছাব্বিশ হাজার চাকরি বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। ফলে এবারও কি একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েই বাড়ছে জল্পনা।
এখন কী হতে পারে?
আগস্ট মাসের শুনানির দিকেই এখন নজর শিক্ষা মহল থেকে চাকরিপ্রার্থীদের। সেই শুনানিতেই স্পষ্ট হতে পারে বত্রিশ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকবে, নাকি পুরো প্যানেল আবার বাতিলের মুখে পড়বে।
তবে আপাতত সুপ্রিম কোর্ট কোনও স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় শিক্ষকরা চাকরিতে বহাল রয়েছেন। কিন্তু মামলার পরবর্তী শুনানি ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা এবং উদ্বেগ।

