Naihati Boro Ma Temple: নৈহাটির বড়মা মন্দিরে পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন পরিচালন ব্যবস্থার প্রস্তুতি। সাধারণ ভক্তদের সুবিধা ও ভিআইপি সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তর চব্বিশ পরগনার নৈহাটির বড়মা কালী মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বহু মানুষের বিশ্বাস, আবেগ এবং আস্থার কেন্দ্র। বহু বছর ধরে এই মন্দিরকে ঘিরে একটি কথাই সবচেয়ে বেশি শোনা যায় — “যে ধর্ম হোক যার যার, বড়মা সবার।” দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত ছুটে আসেন বড়মার দর্শনের আশায়। কিন্তু সেই মন্দিরকে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সাধারণ ভক্তদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও বিশেষ সুবিধা পেয়ে যেতেন রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রভাবশালী মানুষ কিংবা তারকারা। বহু সময় দেখা গিয়েছে, সিনেমার প্রচারের জন্যও বড়মা মন্দিরকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল দীর্ঘদিন ধরেই।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক বিভিন্ন কমিটিতে পরিবর্তন ঘটছে। স্কুল পরিচালন কমিটির পর এবার সেই প্রভাব পড়ল নৈহাটির বড়মা মন্দির পরিচালন কমিটিতেও। নতুন করে এই মন্দিরকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও উন্মুক্ত এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বড়মা মন্দিরের পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত (Naihati Boro Ma Temple)
নৈহাটির নবনির্বাচিত বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বড়মা মন্দির পরিচালন কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবেন না। তাঁর বক্তব্য, মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন শুধুমাত্র সেবায়েত ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।
সম্প্রতি বড়মা মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের বৈঠকে পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পিছনে দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভই অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরনো কমিটির সভাপতি ছিলেন নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন প্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়। কমিটির প্রভাবশালী সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক সনৎ দে এবং এলাকার এক কাউন্সিলরের পুত্র অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও নতুন করে মন্দির গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অশোক চট্টোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও অনেকে স্বীকার করেন।
তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার সেই পরিচালন ব্যবস্থাতেও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
ভিআইপি সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে জোর (Naihati Boro Ma Temple)
সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছিল, তা হলো তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি। সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কিছু বিশেষ ব্যক্তি সরাসরি মন্দিরে প্রবেশ করে পুজো দেওয়ার সুযোগ পেতেন বলে অভিযোগ ছিল।
বিভিন্ন সময়ে দেখা গিয়েছে, চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখেরা বড়মার মন্দিরে এসে নিজেদের সিনেমার প্রচার করেছেন। তাঁদের আগমনে ভিড় এবং নিরাপত্তার কারণে সাধারণ ভক্তদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
নতুন বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ভিআইপি সংস্কৃতি আর চলবে না। প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজন থাকতে পারে, তবে তার বাইরে সকলকেই সাধারণ মানুষের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দিতে হবে।
তাঁর কথায়, “বড়মা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বড়মা সবার।”
নতুন কমিটিতে কারা থাকবেন? (Naihati Boro Ma Temple)
জানা গিয়েছে, নতুন পরিচালন কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে এলাকার বিশিষ্ট মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে শিক্ষক, চিকিৎসক, সংস্কৃতিজগতের মানুষ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের সম্মানীয় ব্যক্তিদের রাখা হতে পারে।
সংগীতশিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের নামও আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি এলাকার বহু সম্মানীয় ব্যক্তিকেও নতুন কমিটিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তবে নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত পুরনো কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব সামলাবেন বলে জানানো হয়েছে।
নৈহাটির বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা? (Naihati Boro Ma Temple)
সবচেয়ে বড় নতুন সংযোজন হিসেবে উঠে এসেছে নৈহাটির স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা। প্রস্তাব অনুযায়ী, নৈহাটির বাসিন্দারা আধার কার্ড দেখিয়ে দ্রুত পুজো দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
কারণ, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে নিজের এলাকার মন্দিরে পুজো দিতেও তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এবার সেই সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
যদিও এই নিয়ম এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে নতুন পরিচালন কমিটি গঠনের পর এই ধরনের একাধিক জনমুখী সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
সাধারণ মানুষের আশা, বড়মা আবার সকলের হয়ে উঠুক
বড়মা মন্দির শুধু নৈহাটির নয়, সমগ্র বাংলার বহু মানুষের বিশ্বাসের জায়গা। তাই এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের আবেগও গভীর। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্ষোভ এবং বিতর্কের পর এবার নতুনভাবে মন্দির পরিচালনার উদ্যোগ অনেকের মধ্যেই আশার আলো জাগাচ্ছে।
ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, যদি সত্যিই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং স্বচ্ছ পরিচালন ব্যবস্থা তৈরি হয়, তাহলে বড়মা মন্দির আবারও সেই পুরনো আবেগ এবং বিশ্বাসের জায়গায় ফিরে যেতে পারবে।
কারণ, শেষ পর্যন্ত বড়মা কোনো ব্যক্তি, দল বা বিশেষ শ্রেণির নন — বড়মা সকলের।
#NaihatiBoroMaTemple #BoroMaTemple #NaihatiNews #WestBengal #TempleNews #VIPCulture #BengalPolitics #BreakingNews

