Prashant Barman Case: বিতর্কিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে ঘিরে ফের তীব্র চাঞ্চল্য। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং খুনের মামলার অভিযোগের মাঝেই আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিল রাজ্য সরকার।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিতর্কিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে ঘিরে। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ছিলেন দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের প্রতীক। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্লা অপহরণ ও খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
গত বছরের উনত্রিশে অক্টোবর স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্লাকে অপহরণের পর খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে নিউ টাউনের একটি খালপাড় থেকে উদ্ধার হয় মৃতদেহ। এই ঘটনায় নাম জড়ায় প্রশান্ত বর্মনের। প্রথমে তিনি আগাম জামিন পেলেও পরে সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আত্মসমর্পণ না করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারপর থেকেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
এর আগেও একাধিক বিতর্কে নাম জড়িয়েছে এই বিডিওর। নিউ টাউনের ইকো পার্ক থানার এলাকায় গাড়ি দুর্ঘটনার ঘটনায়ও তিনি ব্যাপক চর্চায় উঠে আসেন। অভিযোগ, মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন তিনি। সেই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। আহত হন ওই পথচারী। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে ইকো পার্ক থানায় নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটক হওয়ার পরেও তিনি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ওঠে ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাশ না করেও তাঁকে মূল পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মূল পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের দাবি, শূন্য নম্বর পেয়েও তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে সরকারি স্তরে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল।
রাজগঞ্জে বিডিও থাকার সময় স্থানীয়দের হুমকি দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে এক মহিলাকে বলতে শোনা যায়, “বিডিও কখনও দাদা হয় না।” সেই ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপর থেকেই তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে।
এদিকে শুধু প্রশান্ত বর্মনই নন, রাজ্যের আরও একাধিক বিডিওকে ঘিরেও সামনে আসছে বিস্ফোরক অভিযোগ। জাহাঙ্গীর খান এবং মালদার বিডিও শানু বক্সির নামও সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছে। শানু বক্সির বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তাঁদের কথিত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পিএসসি ইতিমধ্যেই প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট জন ভুয়ো বিডিওর তালিকা সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিককে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।
গ্রেফতারের পরেও বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন তিনি। এমনকি মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ তাঁকে অ্যালকোহল পরীক্ষা করাতে চাইলে তাতেও সহযোগিতা করেননি বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, গোটা ঘটনায় তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত বেপরোয়া এবং অসহযোগিতামূলক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। রাজ্যের নগর ও পুর উন্নয়ন এবং নারী কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাঁর কথায়, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও একই সুরে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন, তাই আইনি প্রক্রিয়া মেনেই প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একের পর এক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বেপরোয়া আচরণ এবং অপরাধমূলক অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। চাকরিপ্রার্থী থেকে সাধারণ মানুষ— সকলের মধ্যেই এখন একটাই প্রশ্ন, কীভাবে এতদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এক আধিকারিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন?
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে থেকে?

