Firhad Hakim Resignation: তৃণমূলের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি চাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে।
নিউজ আপডেট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময়েই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সূত্রের খবর, তিনি মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সেই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও অনুমতি চেয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি, তবে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে ফিরহাদ হাকিমকে কার্যত অনুপস্থিতই দেখা গিয়েছিল। তিনি অল্প সময়ের জন্য সেখানে উপস্থিত থাকলেও পরে বিধানসভায় যান এবং সেখান থেকে কলকাতা পুরসভায় ফিরে যান। এই ঘটনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এদিকে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়কদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে তিনি যোগ দেন। এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার অনুমতি চেয়েছেন বলে জানা যায়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক ভাঙনের আবহে ফিরহাদ হাকিমের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই একাধিক কাউন্সিলর দল ছেড়েছেন। দলীয় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের মমতা-ঘনিষ্ঠ নেতা ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে যেদিন তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক শিবির গঠনের খবর সামনে এসেছে, সেদিনই ফিরহাদ হাকিমের মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত ফিরহাদ হাকিম কোনও নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগদানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানাননি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করেননি। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, ফিরহাদ হাকিম দীর্ঘদিন ধরেই দলনেত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে উঠছিল। সেই কারণেই সম্মান রক্ষার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন।
ফিরহাদ হাকিম দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। ফলে তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত (Firhad Hakim Resignation) শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ক্ষেত্রেই নয়, রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর একটাই প্রশ্নে—ফিরহাদ হাকিম কবে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন (Firhad Hakim Resignation) এবং তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হতে চলেছে? সেই উত্তরই আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
#FirhadHakim #KolkataMayor #TrinamoolCongress #MamataBanerjee #WestBengalPolitics #PoliticalCrisis #BengalNews #BreakingNews #KolkataPolitics #NewsUpdate
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে থেকে?

