LPG Price Hike: আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপের জেরে ফের বাড়ল গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের দাম। নতুন মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্তের সংসার খরচ আরও বেড়েছে, উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং অর্থনৈতিক চাপে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই এবার নতুন করে ধাক্কা খেল সাধারণ মানুষের সংসার। তিন মাসের ব্যবধানে ফের বাড়ানো হল গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের দাম। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচ আরও এক ধাপ বেড়ে গেল।
গত ৭ মার্চ এক ধাক্কায় প্রায় ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের দাম। সেই বৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা। নতুন সংশোধিত দামে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে প্রায় ২৯ টাকা। আগামী ৭ জুন থেকে কলকাতায় একটি গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম হবে ৯৬৮ টাকা। এতদিন যার মূল্য ছিল ৯৩৯ টাকা।
শুধু ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারই নয়, দাম বেড়েছে ছোট সিলিন্ডারগুলিরও। ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৩৫৮ টাকা। অন্যদিকে ১০ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯১ টাকা ৫০ পয়সা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবার বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে নতুন করে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। যদিও কয়েকদিন আগেই বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় গৃহস্থালি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে। এর ফলে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানির খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন। সংসারের মাসিক বাজেটে রান্নার গ্যাস একটি বড় ব্যয়। ফলে বারবার মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে। পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর এবার রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে।
তিন মাসের ব্যবধানে ফের বেড়েছে গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের দাম। নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু কেন বারবার বাড়ছে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম? এর পিছনে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক কারণ, বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। ফলে ট্যাংকার চলাচলে বাধা তৈরি হলে এলপিজি আমদানিতেও সরাসরি প্রভাব পড়ে।
শুধু সরবরাহের সমস্যাই নয়, বেড়েছে পরিবহণ ও নিরাপত্তা খরচও। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিমা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে পরিবহণ সংস্থাগুলিকে। এর ফলে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল এবং জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়াও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়লে আমদানিকৃত রান্নার গ্যাসের ক্রয়মূল্যও বেড়ে যায়। তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়ে সাধারণ ভোক্তার উপর।
অন্যদিকে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিভিন্ন ডিপো থেকে গ্রাহকদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে যে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়, তার খরচও বেড়ে গেছে। ফলে গৃহস্থালি সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
করনীতি এবং আমদানি সংক্রান্ত বিভিন্ন শুল্কের পরিবর্তনও মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। আমদানির উপর অতিরিক্ত ব্যয় বা করের বোঝা শেষ পর্যন্ত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিকারী সংস্থাগুলির হাতে পর্যাপ্ত মজুত না থাকলে বা সরবরাহে হঠাৎ ঘাটতি দেখা দিলে দাম বাড়ানো ছাড়া অনেক সময় বিকল্প পথ খোলা থাকে না। সেই কারণেও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের সংসারে। রান্নার খরচ বাড়ার পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলে তারা সেই অতিরিক্ত ব্যয় ভোক্তাদের উপর চাপিয়ে দিতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। রান্নার সময় প্রেশার কুকার ব্যবহার, হাঁড়ির ঢাকনা লাগিয়ে রান্না করা, অপ্রয়োজনীয় গ্যাস অপচয় কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে কিছুটা হলেও খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক বাজেট পুনর্বিন্যাসেরও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনেও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে স্বস্তি ফিরতে এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী কয়েক মাস জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
#LPGPriceHike #CookingGasPrice #LPGCylinder #DomesticLPG #FuelPriceHike
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

