ISKCON Midday Meal Kolkata: কলকাতার সরকারি স্কুলে মিডডে মিলের দায়িত্ব পেল ইস্কন। ডিম থাকবে কি না, নিরামিষ নিয়েই কি বদলাবে শিশুদের খাবারের তালিকা? ভাইরাল মেনু নিয়ে মুখ খুলে জল্পনায় ইতি টানল ইস্কন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্য বাজেটে মিডডে মিল নিয়ে বড় ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মিডডে মিলের উপকরণ বাবদ বরাদ্দ মাথাপিছু ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন যেখানে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৬ টাকা ৭৮ পয়সা, সেখানে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০ টাকা। তবে উচ্চ প্রাথমিক স্তরে, যেখানে বরাদ্দ ছিল ১০ টাকা ১৭ পয়সা, সেখানে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
এই ঘোষণার পরই সামনে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কলকাতা পুরনিগম এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে মিডডে মিল রান্না ও পরিবেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক সংস্থা ইস্কন-কে। আপাতত এটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
আর এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকের প্রশ্ন, ইস্কন যেহেতু নিরামিষভোজী সংগঠন, তাহলে কি এবার থেকে মিডডে মিলে আর ডিম বা অন্য প্রাণিজ প্রোটিন থাকবে না? বাঙালি শিশুদের পাতে কি শুধুই নিরামিষ খাবারই পরিবেশন করা হবে?
এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ইস্কনের নামে একাধিক তথাকথিত মিডডে মিলের মেনু এবং ডায়েট চার্ট ভাইরাল হতে শুরু করে। কোথাও দাবি করা হয়, পড়ুয়াদের জন্য নির্দিষ্ট নিরামিষ খাবারের তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে সেই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণভাবে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইস্কন।
এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন কলকাতার ইস্কনের সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাস। তিনি জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে যে খাবারের তালিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার সঙ্গে ইস্কনের কোনও সম্পর্ক নেই। এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট মেনু চূড়ান্ত করা হয়নি এবং ইস্কনের পক্ষ থেকেও কোনও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মিডডে মিলের চূড়ান্ত মেনু তৈরি হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবেই ঘোষণা করা হবে। তাই ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি না বাড়ানোর জন্য সকলের কাছে আবেদন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে আশ্বস্ত করেছেন, শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই খাবারের তালিকা নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ‘অক্ষয় পাত্র’ প্রকল্পের মাধ্যমে বহু বছর ধরেই মিডডে মিল সরবরাহ করে আসছে ইস্কন। গুজরাট-সহ একাধিক রাজ্যে এই প্রকল্প সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে গুজরাটে মূলত নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয় বলেই পশ্চিমবঙ্গে ইস্কনের দায়িত্ব পাওয়ার পর নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
অনেকের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গেও কি গুজরাটের মডেল অনুসরণ করে নিরামিষ খাবারই বাধ্যতামূলক করা হবে? কারণ, পশ্চিমবঙ্গে মিডডে মিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সপ্তাহে অন্তত একদিন ডিম, যা শিশুদের প্রাণিজ প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই শিশুদের পুষ্টি, খাদ্যাভ্যাস এবং খাবারের বৈচিত্র্য নিয়ে অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে এই মুহূর্তে ইস্কন কিংবা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মিডডে মিলের চূড়ান্ত মেনু প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ডিম থাকবে কি থাকবে না, কিংবা শিশুদের পাতে ঠিক কী কী খাবার পরিবেশন করা হবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এখন সবার নজর একটাই—পাইলট প্রকল্পে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের মিডডে মিলের মেনু ঘোষণা করা হয় এবং শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হয়। আগামী দিনেই তার স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।
#ISKCONMiddayMeal #KolkataSchools #MiddayMeal #WestBengal #SchoolNutrition #GovernmentSchools #AkshayaPatra #Education #ChildNutrition #Kolkata
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

