Alka Yagnik Sudden Sensorineural Hearing Loss: হঠাৎ এক কানে শ্রবণশক্তি হারানো, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, মাথা ঘোরা—এই বিরল রোগেই আক্রান্ত হয়েছিলেন আলকা ইয়াগনিক। কী এই অসুখ, কেন হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা কতটা জরুরি, জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মভূষণ সম্মান গ্রহণ করতে গিয়ে জনপ্রিয় গায়িকা অলকা ইয়াগনিককে হুইলচেয়ারে দেখা যায়। সেই দৃশ্য দেখে অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ২০২৪ সালেই তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি একটি বিরল কানের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে আচমকাই তাঁর শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রোগটির নাম সাডেন সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস (Sudden Sensorineural Hearing Loss)।
কী এই সাডেন সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লস? (Alka Yagnik Sudden Sensorineural Hearing Loss)
এটি কানের একটি গুরুতর রোগ, যেখানে হঠাৎ করেই এক বা কখনও কখনও দুই কানের শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, শ্রবণ স্নায়ুর ক্ষতি বা অন্তঃকর্ণের সমস্যার কারণে হয়। অনেক সময় রোগী ঘুম থেকে উঠে বা হঠাৎ কোনও মুহূর্তে বুঝতে পারেন যে একটি কানে আর ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছেন না।
কীভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন অলকা ইয়াগনিক? (Alka Yagnik Sudden Sensorineural Hearing Loss)
২০২৪ সালে একটি বিমানে যাত্রা শেষে নামার পর আচমকাই তিনি অনুভব করেন, তাঁর একটি কানে আর শব্দ পৌঁছাচ্ছে না। পরে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে তিনি সাডেন সেন্সরিনিউরাল হিয়ারিং লসে আক্রান্ত। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগিয়েছেন তিনি।
কী কী লক্ষণ দেখা দেয়? (Alka Yagnik Sudden Sensorineural Hearing Loss)
এই রোগে আক্রান্ত হলে সাধারণত দেখা দিতে পারে—
- হঠাৎ এক কানে বা দুই কানে শুনতে না পাওয়া
- কানে ভোঁ-ভোঁ বা শোঁ-শোঁ শব্দ (টিনিটাস)
- মাথা ঘোরা
- ভারসাম্য হারানো
- কান ভারী লাগা
- স্বাভাবিক শব্দও অস্পষ্ট শোনা
কেন হয় এই রোগ? (Alka Yagnik Sudden Sensorineural Hearing Loss)
চিকিৎসকদের মতে, এর একাধিক কারণ থাকতে পারে।
- ভাইরাসজনিত সংক্রমণ
- শরীরের অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া
- শ্রবণ স্নায়ুতে রক্ত চলাচলে বাধা বা ক্ষুদ্র স্ট্রোক
- খুব বিরল ক্ষেত্রে ব্রেন টিউমার
- অন্তঃকর্ণের রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা
ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পরে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে। কিছু ক্ষেত্রে সেই অ্যান্টিবডিই ভুলবশত শ্রবণ স্নায়ুর উপর আক্রমণ চালাতে পারে, যার ফলে হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যায়।
কত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, এই রোগে প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু হলে শ্রবণশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। দেরি হলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
কীভাবে চিকিৎসা করা হয়?
রোগের কারণ ও অবস্থার উপর নির্ভর করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ব্যবহার করা হয়—
- অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ
- ওরাল স্টেরয়েড
- স্টেরয়েড ইনজেকশন
- হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি (প্রয়োজন হলে)
চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই স্টেরয়েড চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে চিকিৎসার খরচও পরিবর্তিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু হলে অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক হাজার থেকে প্রায় দশ হাজার টাকার মধ্যে চিকিৎসা সম্পন্ন হতে পারে, যদিও জটিল ক্ষেত্রে খরচ আরও বাড়তে পারে।
এখন কেমন আছেন অলকা ইয়াগনিক?
দীর্ঘ চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে রয়েছেন জনপ্রিয় এই গায়িকা। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্ম বিভূষণ সম্মান গ্রহণ করতে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়। যদিও এখনও সম্পূর্ণ সুস্থতা ফিরে এসেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে তাঁর উপস্থিতি অনুরাগীদের আশ্বস্ত করেছে যে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, হঠাৎ করেই যদি একটি কানে শুনতে সমস্যা হয়, কানে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায় বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে অবিলম্বে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসাই এই রোগে শ্রবণশক্তি রক্ষা করার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

