Shamik Bhattacharya on Journalism: সাংবাদিকদের নির্ভয়ে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানালেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতি বা অনিয়ম যে দলেরই হোক না কেন, সংবাদমাধ্যমের উচিত নিরপেক্ষভাবে তা মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ? সাংবাদিক কি শুধু খবর পড়বেন, নাকি ক্ষমতাসীনদেরও কঠিন প্রশ্ন করবেন? বর্তমান সময়ে এই বিতর্ক যখন আরও জোরালো, ঠিক তখনই নির্ভীক সাংবাদিকতার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুধু বিরোধী দল নয়, নিজের দলের নেতার বিরুদ্ধেও যদি দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবে সংবাদমাধ্যমের উচিত নির্ভয়ে সেই খবর প্রকাশ করা— এমনই বার্তা দিলেন তিনি।
নির্ভীক সাংবাদিকদের সম্মান জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সংবাদমাধ্যমের কাজ কোনও রাজনৈতিক দলের মুখপত্র হয়ে ওঠা নয়, বরং সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরা। তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যম স্বাধীন না থাকলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হতে পারে না।
দলের নেতা হলেও দুর্নীতি ঢেকে রাখা উচিত নয়
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর মন্তব্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, বিনিয়োগ বা অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পে যদি দুর্নীতি, তোলাবাজি বা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে, তাহলে সংবাদমাধ্যমের উচিত তা নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ করা।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি বিজেপির কোনও নেতা, কর্মী বা সমর্থকও হন, তাহলেও সংবাদমাধ্যমের উচিত সত্য গোপন না করা। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে সংবাদ পরিবেশন করলে সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয় বলে তাঁর মত।
‘সাংবাদিকের কণ্ঠস্বর রোধ করার চেষ্টা হচ্ছে’
বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে দুর্নীতির খবর সামনে আনতে অনেকেই বাধার মুখে পড়ছেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে সাংবাদিকদের আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত।
‘মাইক ধরা সাংবাদিকতা’ বাড়ছে, কমছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
বর্তমান সংবাদ পরিবেশনের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, এখন দ্রুত খবর পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় অনেক সময় তথ্যের গভীরতা হারিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল মাধ্যম সংবাদকে মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিলেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ক্যামেরার সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করাই সংবাদ পরিবেশনের মূল অংশ হয়ে উঠছে। অথচ তথ্য যাচাই, বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের গুরুত্ব কমে যাওয়া উচিত নয়।
রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে সাংবাদিকতার প্রসঙ্গ
নিজের বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও উল্লেখ করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ডা. বিধানচন্দ্র রায় পূর্বসূরি প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের ব্যবহৃত আসনে বসেননি। পরবর্তী সময়ে অজয় মুখোপাধ্যায়, জ্যোতি বসু, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেই প্রথা বজায় রেখেছেন বলে তাঁর দাবি।
ষাটের দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সময় রাজনৈতিক সংঘাত থাকলেও সংবাদমাধ্যম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্বাধীন ছিল। সরকারের সমালোচনা করলেও সংবাদ প্রকাশে এত বাধা ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকের পরিচয় নয়, পরিচয় হোক সংবাদ
শমীক ভট্টাচার্যের মতে, বর্তমানে অনেক সাংবাদিককে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এতে সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের মতো সাংবাদিকেরও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত থাকতে পারে। কিন্তু সংবাদ পরিবেশনের সময় সেই মতাদর্শ যেন পেশাগত দায়িত্বকে প্রভাবিত না করে। একজন সাংবাদিকের প্রথম দায়িত্ব মানুষের সামনে নির্ভুল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ তুলে ধরা।
সুভাষচন্দ্র বসু প্রসঙ্গেও ব্যাখ্যা
অনুষ্ঠানে নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, ১৯৩৯ সালের আগে এবং পরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝেই নেতাজিকে মূল্যায়ন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
‘সত্যের সামনে কোনও দল বড় নয়’
বক্তব্যের শেষ অংশে সাংবাদিকদের উদ্দেশে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী রাখতে স্বাধীন, সাহসী এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সংবাদমাধ্যমের কাজ ক্ষমতাসীন বা বিরোধী— কারও পক্ষ নেওয়া নয়, বরং মানুষের জানার অধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, কোনও সরকার, কোনও দল বা কোনও ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাই দুর্নীতি বা অনিয়ম যেখানেই ঘটুক, সংবাদমাধ্যমের উচিত নির্ভয়ে সেই সত্য তুলে ধরা। তাঁর কথায়, “সত্যের কাছে কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বড় হতে পারে না; মানুষের স্বার্থই সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
#SamikBhattacharya #PressFreedom #Journalism #MediaFreedom #BJP #WestBengal #Politics #FreedomOfPress #BengaliNews #IndiaNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

