Student Protest Over Question Paper Leak: প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দিল্লি থেকে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের নানা প্রান্তে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে প্রতিবাদ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: “প্রশ্নফাঁস চলবে না, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলবে না।” এই দাবিতে দিল্লি থেকে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের আঁচ এবার ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রায় প্রতিমাসে কোনও না কোনও পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় ক্ষোভ বাড়ছে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা ও কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরব হয়েছেন।
সোমবার দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে পুলিশ যে ভাবে বলপ্রয়োগ করেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছে।
দিল্লির পাশাপাশি কলকাতা, কেরল, বিহার, রাজস্থান, মুম্বই, মধ্যপ্রদেশ, আগরতলা ও রাঁচি-সহ দেশের একাধিক শহরে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলিতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি।
এদিকে, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং দিল্লির যন্তরমন্তরে চলতে থাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও রাজধানীর রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত। সোমবার রাতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় যন্তরমন্তর চত্বরে। সন্ধ্যার পর থেকেই সেখানে ভিড় বাড়তে থাকে। ইন্ডিয়া গেট সংলগ্ন এলাকাতেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, “আমরা পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে এখানে এসেছি। আমরা ন্যায়বিচারের পক্ষেও দাঁড়াতে এখানে এসেছি।” তাঁদের দাবি, দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও রকম ছিনিমিনি বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় সরকারকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিতে হবে।
দিল্লির এই আন্দোলনের ঢেউ এবার পৌঁছে গিয়েছে কলকাতাতেও। শুক্রবার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের আন্দোলনকে সমর্থন করা উচিত। তাঁদের দাবি, দিল্লি থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ ইতিমধ্যেই কলকাতা, পাটনা, মুম্বই-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রসমাজের এই আন্দোলনের প্রতি তাঁদের সমর্থন রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, যৌক্তিক দাবি নিয়ে কেউ আন্দোলন করলে সরকারের উচিত সেই দাবি গুরুত্ব দিয়ে দেখা। তাঁর মতে, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যে প্রভাব পড়ে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও পথে নামেন। এক আন্দোলনকারী বলেন, তিনি নিজেও NEET পরীক্ষার পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো ছিল এবং তিনি আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে তাঁদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, এই পরিস্থিতির জন্য দায় কে নেবে?
আন্দোলনকারী আরও বলেন, যতদিন না প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, ততদিন তাঁদের আন্দোলন চলবে।
শুধু কলকাতা নয়, কেরলের তিরুবনন্তপুরমেও প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। একই ছবি দেখা যায় রাঁচি, পাটনা, ভোপাল ও জয়পুরেও। মুম্বইয়ে বিক্ষোভকারীদের পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুরুগ্রামেও পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। আগরতলায় চলে বিক্ষোভ কর্মসূচি। রাঁচিতে বিজেপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী দলগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরব হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে শাসক দলের নেতাদের অভিযোগ, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মূল দাবি একটাই—পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস শুধু একটি পরীক্ষা বাতিল বা পুনরায় আয়োজনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার পরিশ্রম, সময়, অর্থ এবং ভবিষ্যৎ।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আরও শক্তিশালী পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এদিকে, কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে রাজনৈতিক স্তরেও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে দেশজুড়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার দাবিতে ছাত্রসমাজের প্রতিবাদ এখন আর কোনও একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন সরকারের কাছে কতটা চাপ তৈরি করে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
#studentprotest #questionpaperleak #exampaperleak #studentmovement #educationcrisis #examtransparency #india
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

