নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রবীন্দ্র সদনে সেক্যুলার মিশন, হিউম্যান রাইটস বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার্স ফাউন্ডেশন এবং পশ্চিমবঙ্গ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী এবং সমাজের নানা ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই তসলিমা নাসরিনকে ফুলের তোড়া, উত্তরীয় এবং স্মারক তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। শুভেন্দু অধিকারী নিজেও মঞ্চে উঠে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্মারক তুলে দেন। দীর্ঘদিন পর কলকাতায় তাঁর প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে উপস্থিত দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে রবীন্দ্র সদনের প্রেক্ষাগৃহ।
স্বাগত ভাষণ দেন মোহিত রায়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, লেখক ও সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিক্ষাবিদ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা প্রত্যেকেই সাহিত্য, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন তসলিমা নাসরিন নিজে। তিনি নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন। পরে শিল্পী মৌসুমী হোসেনের সঙ্গে সঙ্গীত পরিবেশনও করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য হওয়া উচিত, যেখানে সংবিধানপ্রদত্ত প্রতিটি অধিকার সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বাক্স্বাধীনতা এবং ভিন্ন মত প্রকাশের অধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। প্রত্যেক মানুষের নিজের মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং সেই অধিকারকে সম্মান জানানোই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বরাবরই মুক্তচিন্তা, সাহিত্যচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনাকে মর্যাদা দিয়েছে। সেই ঐতিহ্য বজায় রাখতে হলে সকলের জন্য সমানভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ওসমান মল্লিক এবং শান্তনু সিংহ। শেষপর্যন্ত ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হয়।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রবীন্দ্র সদনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান শুধু একজন লেখিকাকে সংবর্ধনা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মান জানিয়ে উত্তরীয় পরানো, স্মারক প্রদান এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানোর মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্যিক অবদানকে স্বীকৃতি জানানো হয়। শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, এমন একটি পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং প্রত্যেক নাগরিক নির্ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবেন।
#TaslimaNasrin #KolkataVisit #ShubhenduAdhikari #WestBengal #RabindraSadan #FreedomOfExpression #HumanRights #BengalNews #BreakingNews #NewsUpdate
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

