College Street Kolkata Redevelopment: বইয়ের গন্ধ, ফুটপাতের দোকান আর আড্ডার ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা কলকাতার কলেজ স্ট্রিট এবার নতুন রূপ পেতে চলেছে। রাজ্য প্রশাসনের পরিকল্পনায় আধুনিকতার ছোঁয়া এলেও, বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী বইপাড়ার চরিত্র কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার কলেজ স্ট্রিট মানেই শুধু রাস্তা নয়। একদিকে বইয়ের স্তূপ, অন্যদিকে পুরনো বইয়ের গন্ধ, ফুটপাতের দোকান, ছাত্রছাত্রীদের ভিড় আর আড্ডার জন্য বিখ্যাত কফি হাউস—সব মিলিয়ে এই জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার সাংস্কৃতিক ইতিহাস। এবার সেই পরিচিত কলেজ স্ট্রিটকেই নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য প্রশাসন। আর সেই পরিকল্পনা ঘিরেই উঠছে বড় প্রশ্ন—আধুনিকতার ছোঁয়ায় কি বদলে যাবে বহু বছরের চেনা ‘বইপাড়া’? (College Street Kolkata Redevelopment)
২০২৬ সালের জুলাইয়ে কলেজ স্ট্রিট ঘুরে এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, কলকাতা পুরসভা, KMDA এবং পুলিশের আধিকারিকরা। লক্ষ্য ছিল, কোন কোন রাস্তা বা অংশকে যানবাহনমুক্ত করে পথচারী ও বইপ্রেমীদের জন্য আরও উপযোগী করে তোলা যায়, তা খতিয়ে দেখা। (College Street Kolkata Redevelopment)
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। পুরো কলেজ স্ট্রিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু রাস্তা ‘নো-ভেহিকেল জোন’ হতে পারে। ওই অংশগুলিতে সাধারণ গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখে সাইকেল এবং ব্যাটারিচালিত ছোট যানবাহনের ব্যবস্থা রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। অন্যদিকে মূল কলেজ স্ট্রিটের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি যান চলাচলের জন্য খোলা রাখার পরিকল্পনাই রয়েছে। (College Street Kolkata Redevelopment)
শুধু রাস্তা খালি করাই নয়, বদল আসতে পারে বইয়ের দোকানগুলির চেহারাতেও। পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট অংশে বইয়ের স্টলগুলিকে একই ধরনের নকশায় সাজানোর কথা রয়েছে। যেখানে সম্ভব, দোকান ও স্টলগুলিকে নতুনভাবে সাজিয়ে বা প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বই ও স্টেশনারির দোকানকে কেন্দ্র করেই এলাকাটির নতুন চেহারা তৈরি করার কথা ভাবা হচ্ছে। (College Street Kolkata Redevelopment)
এর পাশাপাশি বইপ্রেমীদের বসার জন্য বেঞ্চ, প্রবীণদের সুবিধার জন্য ব্যাটারিচালিত যান এবং বিনামূল্যে Wi-Fi-এর মতো পরিষেবার কথাও উঠে এসেছে। সাইকেল রাখার জায়গা তৈরি করে সেখান থেকে পরিবেশবান্ধব সাইকেলে যাতায়াতের ব্যবস্থার কথাও পরিকল্পনায় রয়েছে। এমনকি কলেজ স্ট্রিটের ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে বিশেষ ধরনের ট্রাম চালানোর ভাবনাও সামনে এসেছে। (College Street Kolkata Redevelopment)
এই গোটা পরিকল্পনার সঙ্গে ‘রিডিং জোন’ বা বই পড়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরির ভাবনাটিও জড়িয়ে রয়েছে। মোবাইল ও ডিজিটাল স্ক্রিনের সময়ে তরুণ প্রজন্মকে ফের বইয়ের দিকে টেনে আনাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। কলেজ স্ট্রিটের সৌন্দর্যায়ন নিঃসন্দেহে বইপ্রেমী ও পথচারীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। যানজট ও হর্নের শব্দ কমলে বই পড়া, ঘোরাঘুরি কিংবা বসে সময় কাটানোর পরিবেশও উন্নত হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে বহু পুরনো বই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা, দোকানের অবস্থান এবং ঐতিহ্যবাহী বইপাড়ার স্বাভাবিক চরিত্র কীভাবে বজায় থাকবে—সেটাই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।
বই বিক্রেতাদের একাংশও সৌন্দর্যায়নের বিরোধিতা করছেন না। তবে তাঁদের মূল দাবি, উন্নয়নের নামে যেন ব্যবসা ও জীবিকায় আঘাত না আসে। Publishers and Booksellers’ Guild-এর পক্ষ থেকেও সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জনজীবন ও ব্যবসা যাতে অযথা ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টি দেখার কথা বলা হয়েছে। (College Street Kolkata Redevelopment)
তাই ‘কলেজ স্ট্রিট আর থাকবে না’—এমন সিদ্ধান্ত এখনই বলা ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, কলকাতার ঐতিহাসিক বইপাড়া নতুন রূপ পাওয়ার পথে। প্রশ্ন হল, সেই নতুন রূপে কি পুরনো বইয়ের গন্ধ, ফুটপাতের দোকান আর আড্ডার সংস্কৃতিও একইভাবে বেঁচে থাকবে? উত্তরটা মিলবে বাস্তবায়নের পরেই।
#CollegeStreet #Kolkata #BookStreet #KolkataHeritage #CollegeStreetRedevelopment #BengaliCulture #KolkataNews #CoffeeHouse
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা

