RG Kar Case Justice: আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পূর্তির আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নতুন তদন্তের ঘোষণা ঘিরে ফের জোরালো হয়েছে বিচার পাওয়ার প্রশ্ন। অভয়ার পরিবার যে প্রশ্নগুলি তুলে এসেছে, সেগুলিও কি এবার নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে? তদন্তে কী উঠে আসবে, নজর এখন সেদিকেই।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পূর্তির ঠিক আগে তদন্তকে ঘিরে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যে ঘটনা ঘটেছিল, তার আগে ও পরে সেখানে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে। শুধু ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা ব্যক্তিরাই নন, মৃত্যুর পর কারা সেখানে এসেছিলেন এবং কী কারণে এসেছিলেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নির্যাতিতার সঙ্গে সেই রাতে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের পাশাপাশি তাঁর অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এই ঘোষণায় আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে নতুন একটি প্রশাসনিক স্তর যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তদন্তে যে তথ্য উঠে আসবে, তা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। একই সময়ে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলার তদন্ত নিয়ে নতুন রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। ফলে ঘটনার দুই বছর পূর্তির আগে আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
আরজি কর-কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের ঘোষণা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে তদন্ত করা হবে। সেই তদন্তের আওতায় আনা হবে ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে উপস্থিত ব্যক্তিদের। নির্যাতিতার সঙ্গে সেই রাতে কারা ছিলেন, তাঁরা কী দেখেছিলেন বা কী জানেন, সেই বিষয়গুলি জানার জন্য তাঁদের বক্তব্য নেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি নির্যাতিতার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, ঘটনার আগে এবং পরে ঘটনাস্থলে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদেরও তদন্তের প্রয়োজনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অর্থাৎ তদন্তের পরিধি শুধুমাত্র ঘটনার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার আগে-পরে কী ঘটেছিল, সেই ধারাবাহিকতাও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতর যেহেতু হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাই সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা কর্মীদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, তদন্ত হলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে এবং যে তথ্য পাওয়া যাবে, তা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তেও সহযোগিতা করবে।
“আগের সরকার করেনি, কিন্তু আমরা করব”, কী বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী?
আরজি কর তদন্ত প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তদন্তকারী দলকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হবে। স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যুক্ত যাঁরা এই ঘটনার কোনও পর্যায়ে ছিলেন বা বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে যে জায়গাগুলিতে তদন্ত হয়নি বা যাঁদের বক্তব্য নেওয়া হয়নি, সেগুলিও এবার খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য দফতর এই ঘটনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হওয়ায় নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।
এই প্রসঙ্গেই তিনি আগের সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “বিগত সরকার করেনি। কিন্তু আমরা করব।” অর্থাৎ বর্তমান সরকারের তরফে স্বাস্থ্য দফতরের অভ্যন্তরীণ ভূমিকা নিয়েও তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হবে না—এমনই বার্তা দিয়েছেন তিনি।
তবে এই তদন্তে ঠিক কারা কারা তলব পাবেন, কত দিনের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হবে বা তদন্তের রিপোর্ট কবে প্রকাশ্যে আসবে—সেই বিষয়ে বিস্তারিত সময়সীমা এই বক্তব্যে জানানো হয়নি। তাই ঘোষণাটিকে আপাতত তদন্তের নতুন উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে রাজ্যজুড়ে স্মরণ
২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত অবস্থায় এক চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে। ২০২৬ সালের ৯ অগস্ট সেই ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। ঘটনাটির দুই বছর পূর্তিকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের তরফে স্মরণ কর্মসূচির কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, ৯ অগস্ট রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নির্যাতিতার স্মরণে নীরবতা পালন করা হবে। সকাল ১১টা থেকে ১১টা ২ মিনিট পর্যন্ত এই নীরবতা পালন করার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজেও ৯ অগস্ট সন্ধ্যায় পানিহাটিতে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
ফলে ঘটনার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে একদিকে যেমন স্মরণ কর্মসূচি রয়েছে, অন্যদিকে তদন্তকে ঘিরে নতুন করে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা সামনে এসেছে। এই দুই বিষয়ই আরজি কর-কাণ্ডকে ফের রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সিবিআইয়ের নতুন দল, আদালতে জমা পড়ল রিপোর্ট
এর মধ্যেই আরজি কর মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের নতুন দলের ভূমিকা নিয়েও আদালতে অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। নতুন তদন্তকারী দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে ওই রিপোর্ট আদালতে পেশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই মামলার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এমনকি ৮ জুলাই নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলি তদন্তকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ তদন্তের ক্ষেত্রে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের বক্তব্য এবং তাঁদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলিকে নতুন তদন্তকারী দল গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে। পরিবারের বক্তব্যের মধ্যে কোন কোন বিষয় রয়েছে এবং সেগুলির কতটা তদন্তে প্রতিফলিত হয়েছে, সেটিও মামলার পরবর্তী অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই পর্যায়ে আদালতের নজরেও রয়েছে তদন্তের অগ্রগতি। নতুন তদন্তকারী দল ৭ জুলাইয়ের পর দায়িত্ব নিয়েছে বলে সিবিআই আদালতে জানিয়েছে। ফলে নতুন দলকে তদন্তের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।
পরিবারের প্রশ্ন, “ডিনার থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত তদন্ত হোক”
আদালতে পরিবারের পক্ষ থেকে যে প্রশ্নটি বিশেষভাবে তোলা হয়েছে, তা হল ঘটনার দিন রাতে নির্যাতিতা কার সঙ্গে ডিনার করেছিলেন এবং সেই সময় থেকে তাঁর শেষকৃত্য পর্যন্ত ঠিক কী কী ঘটেছিল—তার সম্পূর্ণ ধারাবাহিকতা তদন্ত করা হোক।
পরিবারের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু ঘটনার নির্দিষ্ট সময় নয়, তার আগের এবং পরের ঘটনাপ্রবাহও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। কার সঙ্গে তিনি ছিলেন, শেষবার কাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, ঘটনার পরে কারা কোথায় ছিলেন—এই ধরনের প্রশ্নের উত্তরও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতকে জানান, নতুন তদন্তকারী দল ৭ জুলাইয়ের পর দায়িত্ব নিয়েছে এবং তাদের কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন। আদালত এরপর সিবিআইকে নতুন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টে হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে তদন্তের অগ্রগতি, নতুন রিপোর্ট এবং স্বাস্থ্য দফতরের ঘোষিত পৃথক তদন্ত—সবকিছুর দিকেই নজর থাকবে।
তদন্তের নতুন পর্বে কোন প্রশ্নগুলির উত্তর গুরুত্বপূর্ণ?
আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পূর্তির আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা কার্যত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘটনার রাতে জরুরি বিভাগে কারা উপস্থিত ছিলেন, নির্যাতিতার সঙ্গে কারা ছিলেন, ঘটনার আগে ও পরে কারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, মৃত্যুর পর কারা এসেছিলেন এবং তাঁদের সেখানে আসার কারণ কী ছিল—এই বিষয়গুলির উত্তর নতুন করে খোঁজা হতে পারে।
একইসঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার সময় তাঁদের কাছে কী তথ্য ছিল—এসব বিষয় তদন্তের অংশ হলে ঘটনাপ্রবাহের আরও কিছু দিক সামনে আসতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ বা সন্দেহকে তদন্তে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখা যাবে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যাচাই হতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও মূলত নতুন করে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের কথাই বলা হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, স্বাস্থ্য দফতরের এই পৃথক তদন্ত কতটা দ্রুত এগোয়, কারা তলব পান, তাঁদের বক্তব্যে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং সেই তথ্য সিবিআইয়ের চলমান তদন্তের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হয়। একইসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআইয়ের পরবর্তী রিপোর্টে তদন্তের কতটা অগ্রগতি প্রকাশ পায়, সেদিকেও নজর থাকবে।
#RGKarCase #RGKarJustice #AbhayaCase #AbhayaJustice #HealthMinister #RGKarInvestigation #KolkataNews #WestBengalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা

