Mukhyamantri Swasthya Bima Yojana-র আওতায় যোগ্য পরিবারগুলি সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। আধার যাচাই, স্বাস্থ্য কার্ড, নির্দিষ্ট হাসপাতাল এবং যোগ্যতার শর্ত মেনে সহজ প্রক্রিয়ায় এই স্বাস্থ্যসুরক্ষা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে যাতে কোনও পরিবারকে হাসপাতালের দরজায় থেমে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্যে নতুন করে চালু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট থেকে এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তারা দেশের বহু হাসপাতালে নগদহীন চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। মূলত যে পরিবারগুলি আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় থাকছে না, তাদের জন্যই রাজ্য সরকারের এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প। পরিবারপিছু সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা, প্রায় ১,৯৫০টি চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় চিকিৎসা এবং হাঁটু ও কোমরের প্রতিস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার সুযোগের কথাও জানানো হয়েছে। তবে এই সুবিধা পেতে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও যাচাই প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই কারা আবেদন করতে পারবেন, কী কী নথি লাগবে, কীভাবে কার্ড পাওয়া যাবে এবং কোন ক্ষেত্রে এই সুবিধা মিলবে না—সবটাই নেওয়া জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা আসলে কী?
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্রকল্প। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর মূল লক্ষ্য হল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা যোগ্য পরিবারগুলিকে স্বাস্থ্যবিমার সুরক্ষার মধ্যে নিয়ে আসা।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে পরিবারের সদস্যসংখ্যার কোনও নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ একটি পরিবারে যতজন সদস্য থাকবেন, যোগ্যতা পূরণ করলে প্রত্যেকেই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল নগদহীন চিকিৎসা। অর্থাৎ চিকিৎসার সময় উপভোক্তাকে নিজের পকেট থেকে আগে টাকা দিয়ে পরে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা নয়। প্রকল্পের আওতাভুক্ত চিকিৎসা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি নগদহীন পদ্ধতিতে পাওয়ার কথা। ফলে চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের টাকা আগে থেকে জোগাড় করার চাপ অনেকটাই কমতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, এই প্রকল্পে অর্থ ফেরতের সুবিধা নেই। অর্থাৎ কেউ নিজের খরচে চিকিৎসা করিয়ে পরে সেই টাকা সরকারের কাছ থেকে ফেরত চাইতে পারবেন না। প্রকল্পের আওতাভুক্ত হাসপাতালে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা নিতে হবে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?
এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে মূল যোগ্যতার বিষয়টি হল—পরিবারটি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় না থাকা এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের বার্ষিক আয় আট লক্ষ টাকার বেশি হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, কেউ যদি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প, কর্মচারী রাজ্য বিমা বা অন্য কোনও সরকারি চিকিৎসা বিমার আওতায় থাকেন, তাহলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ শুধু আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নাম না থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রকল্পে কার্ড পাওয়া যাবে—বিষয়টি এমন নয়। আবেদনকারীর পরিবারের তথ্য যাচাই করা হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষেত্রসমীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাইয়ের কথাও জানানো হয়েছে।
এই যাচাইয়ের পর নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে থাকা পরিবারগুলিকেই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। ফলে আবেদন করার আগে নিজের পরিবারের আয়, অন্য কোনও সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের তালিকায় নাম রয়েছে কি না—এই বিষয়গুলি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন চিকিৎসা, মিলবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার অধীনে পরিবারপিছু সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন চিকিৎসার সুবিধার কথা জানানো হয়েছে। এই সুবিধা পরিবারভিত্তিক হলেও পরিবারের সদস্যসংখ্যার কোনও নির্দিষ্ট সীমা থাকবে না বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
চিকিৎসার তালিকাতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা যুক্ত হয়েছে। প্রায় ১,৯৫০টি রোগ বা চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে হাঁটু প্রতিস্থাপন এবং কোমরের প্রতিস্থাপনের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসার সুযোগও রয়েছে।
এখানেই প্রকল্পটির গুরুত্ব আরও বাড়ছে। কারণ এই ধরনের অস্ত্রোপচারের খরচ অনেক পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন। নগদহীন ব্যবস্থার আওতায় এই চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকলে যোগ্য পরিবারগুলির আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
তবে কোন হাসপাতাল বা কোন চিকিৎসা পরিষেবা কোন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রকল্পের আওতায় পড়বে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা এবং হাসপাতালের অনুমোদিত পরিষেবার তালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তাই শুধু প্রকল্পের নাম শুনে কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা সর্বত্র পাওয়া যাবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কীভাবে কার্ড পাবেন, কী কী নথি লাগবে?
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড রাজ্য সরকার বিনামূল্যে দেবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আধারভিত্তিক যাচাই বাধ্যতামূলক থাকবে।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শিবির অথবা সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রাজ্যে আবার জনকল্যাণ শিবির শুরু হলে সেখান থেকেও আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
চিকিৎসা নেওয়ার সময় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধার কার্ড এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই উপভোক্তাদের এই নথিগুলি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে রাখা জরুরি।
এখনও অনলাইন আবেদনের প্রক্রিয়া পুরোপুরি চালু না হলে নির্দিষ্ট সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হবে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী দিনে অনলাইনেও আবেদনের ব্যবস্থা চালু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ দত্ত মুখোপাধ্যায়।
অর্থাৎ আপাতত যোগ্য পরিবারগুলির জন্য সরকারি শিবির, স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশনা এবং নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে কোথায় পার্থক্য?
পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা মূলত পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় দেশের অন্যান্য রাজ্যেও নির্দিষ্ট হাসপাতাল ও পরিষেবার মাধ্যমে সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আরও একটি বড় বিষয় হল চিকিৎসার পর টাকা ফেরত নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রকল্পটি সরাসরি নগদহীন চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ অনুমোদিত হাসপাতাল এবং অনুমোদিত চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রকল্পের নিয়ম মেনে পরিষেবা নিতে হবে।
দেশজুড়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৬০০-র বেশি হাসপাতালে সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে রাজ্যের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় থাকা হাসপাতালের সংখ্যার ক্ষেত্রে দেওয়া তথ্যের মধ্যে একটি সংখ্যাগত অসঙ্গতি রয়েছে—কোথাও ১,৯০৩টি, আবার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা যোগ করলে ১,৯৩০টি হয়। তাই এই নির্দিষ্ট সংখ্যা সরকারি চূড়ান্ত তালিকা দেখে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কার্ড পাওয়ার আগে যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন
যোগ্য পরিবারকে প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় নেই। এরপর পরিবারের আর্থিক ও অন্যান্য যোগ্যতার তথ্য যাচাই করা হবে। আধারভিত্তিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে।
চিকিৎসার সময় অবশ্যই প্রকল্পের কার্ড এবং আধার কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। কোনও হাসপাতালে যাওয়ার আগে সেই হাসপাতাল প্রকল্পের আওতাভুক্ত কি না এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাটি অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়াও অত্যন্ত জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, চিকিৎসার জন্য নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে পরে ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা এই প্রকল্পে নেই। তাই অনুমোদিত হাসপাতাল এবং নির্ধারিত নগদহীন ব্যবস্থার মাধ্যমেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, আর্থিক কারণে যাতে কোনও যোগ্য পরিবার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বাইরে থাকা পরিবারগুলিকে একটি পৃথক স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
#MukhyamantriSwasthyaBimaYojana #WestBengalHealth #CashlessTreatment #HealthInsurance #AyushmanBharat #HealthCard #Healthcare #WestBengalGovernment
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

