Jadavpur University Student Clash: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষ, পাল্টা মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। প্রবেশদ্বারে নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক কড়া মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য-রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং মিছিলকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিতর্কের পারদ আরও চড়ে যায় যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসু অঙ্কিত এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। এই আবহে একাধিকবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, এবং প্রতিবারই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে কড়া হুঁশিয়ারি।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাদবপুরে কিষানজি-ধাঁচের রাজনীতি বা “লাল সেলাম” সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না, এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি সরকারের হাতে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। যদিও তিনি বলেন ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেদিনও ক্লাস স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে, তবু তিনি স্বীকার করেন যে আর্টস হস্টেল সংক্রান্ত কিছু ছবি ও ভিডিও তাঁর দফতরে পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বেশ কয়েকজন ছাত্র সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (সিএমও) এই ভিডিওগুলি পাঠিয়েছেন, যা যাচাইয়ের জন্য উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে সেই ভিডিওতে ঠিক কী রয়েছে তা তিনি স্পষ্ট করেননি। এই প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ নেবে এবং কোনোরকম নরম মনোভাব দেখানো হবে না।
এর কিছুদিন আগে ভবানীপুরের নর্দার্ন পার্কে একটি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও তীব্র ভাষায় অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাদবপুর ক্যাম্পাসের ভিতরে একশ্রেণির রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যেখানে বন্দেমাতরম গাইতে দেওয়া হয় না, জাতীয় পতাকা তোলা যায় না, এবং অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য উদযাপনেরও অনুমতি মেলে না বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদমাধ্যমের একাংশ এই ইস্যুতে “আহা-উহু” করলেও সরকার নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং জাতীয়তাবাদ ও সনাতন সংস্কৃতির প্রশ্নে কোনো আপোষ হবে না।
দেশবিরোধী স্লোগান প্রসঙ্গে সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন মুখ্যমন্ত্রী যখন তিনি বলেন, যারা কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান তুলছে, তাদের নিরুৎসাহিত ও প্রতিহত করার দায়িত্ব সরকারের বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যারা পুলওয়ামা হামলার প্রসঙ্গে নীরব থেকে অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে সরব হন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে সেই প্রবণতা মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, দেশ সবার ঊর্ধ্বে, এবং এই নীতি মেনেই সরকার পরিচালিত হবে।
পাশাপাশি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ২৮ আগস্ট রাখি বন্ধনের দিনটিকে “দেশপ্রেম দিবস” হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই উপলক্ষে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রায় চার হাজার অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সেদিন যাদবপুর ক্যাম্পাসেও সম্পূর্ণভাবে বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলে তিনি জানান, যা তাঁর আগের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একধরনের প্রতীকী বার্তা বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর শুভেন্দু অধিকারী মে মাসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, দীর্ঘ তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম সংক্রান্ত ইস্যুতে তাঁর সরকার একাধিকবার কড়া অবস্থান নিয়েছে, এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাম্প্রতিক ঘটনা তারই সাম্প্রতিকতম উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ইস্যুতে বিরোধী শিবির ও ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়াও ইতিমধ্যে আসতে শুরু করেছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
#JadavpurUniversity #StudentClash #CampusPolitics #StudentPolitics #WestBengalPolitics #UniversityProtest #NandalalBose #PoliticalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

