Mamata Banerjee BJP Attack: বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে উঠে এল একের পর এক কড়া মন্তব্য। ‘গিরগিটির দল, লুটেরা দল, অশিক্ষিতের দল, অর্ধশিক্ষিতের দল’—কেন এমন ভাষায় বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেত্রী, সামনে এল সেই প্রসঙ্গ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে ভাঙচুরের অভিযোগের পরেই সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে নিশানা করে একাধিক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল নির্বাচন, ভোটার তালিকা, ইভিএম, গণনা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার, রাজনৈতিক কার্যালয় দখল, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন জায়গায় অত্যাচারের অভিযোগ। একইসঙ্গে ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে গেরুয়া রঙের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতার অভিযোগ, গত চার মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে ভয় দেখানো থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দখলদারি ও লুটপাট চলছে। কলকাতার সাম্প্রতিক ঘটনাকে সামনে রেখে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, “নতুন করে কটা অত্যাচারের কথা বলব?” পাশাপাশি বিজেপিকে কটাক্ষ করে ব্যবহার করেন, “গিরগিটির দল, লুটেরা দল, অশিক্ষিতের দল”—এই শব্দবন্ধও।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা সামনে রেখেই মমতার বার্তা
ক্যামাক্স স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে ভাঙচুরের অভিযোগের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্যে এই ঘটনার প্রসঙ্গের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অত্যাচারের অভিযোগ উঠে আসে।
মমতা বলেন, গত চার মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য বিজেপিকে দায়ী করছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মানুষকে বঞ্চিত করা, ভয় দেখানো এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ইভিএমে কারচুপি এবং গণনায় কারচুপির অভিযোগও। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন পরিচালনা এবং দিল্লি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে গোটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
মমতার বক্তব্যের এই অংশে মূলত নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি, মানুষের অধিকার এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে তাঁর অভিযোগই সামনে আসে।
‘নতুন করে কটা অত্যাচারের কথা বলব?’
নিজের বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নাম উল্লেখ করে একের পর এক ঘটনার কথা তুলে ধরেন মমতা। বারুইপুর থেকে হুগলি, হুগলি থেকে বাঁকুড়া, বাঁকুড়া থেকে গরমেতা, সেখান থেকে হাওড়া, হাওড়া থেকে ফের হুগলি, বর্ধমান, বীরভূম—এভাবে একাধিক এলাকার নাম উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়াও আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, পানিহাটি, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং কলকাতার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
কলকাতার বুকে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, কলকাতায় যদি এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তাহলে গ্রামবাংলার পরিস্থিতি কী হতে পারে, তা নিয়েও ভাবা দরকার।
এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, “নতুন করে কটা অত্যাচারের কথা বলব?”
এরপরই তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম যতক্ষণ সরকারের পক্ষে থাকে, ততক্ষণ তাদের ভালো বলা হয়; কিন্তু সরকারের সমালোচনা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা হয়।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারের সমর্থনে না থাকলে সংবাদমাধ্যমকে বিভিন্নভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গেরুয়া রং নিয়ে একটি ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। মমতা বলেন, তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি দেখেছেন, যেখানে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে গেরুয়া রঙের কার্পেটের ওপর দিয়ে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। গেরুয়া রংকে তিনি ত্যাগ ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, সেই গেরুয়া রঙের ওপর দিয়ে পা দিয়ে যাওয়া নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠবে না।
এরপর সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোনও সাংবাদিক কোনও শব্দ ব্যবহার করবেন কি না, কোনও সম্পাদক কীভাবে বিষয়টি তুলে ধরবেন, সেটি তাঁদের নিজস্ব অধিকার। তাঁর বক্তব্যে এই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করা হয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে গেরুয়া শব্দ ব্যবহারের প্রসঙ্গও তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, সেই শব্দ ব্যবহারের কারণে একটি সংবাদপত্রের দপ্তরে রং করতে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল।
‘গিরগিটির দল, লুটেরা দল, অশিক্ষিতের দল’
বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বেশ কয়েকটি কড়া শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “গিরগিটির দল, লুটেরা দল, অশিক্ষিতের দল”। এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দখলদারি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
মমতার আরও অভিযোগ, গ্রামবাংলায় প্রায় চার হাজার রাজনৈতিক কার্যালয় জোর করে দখল করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু দখলই নয়, সেখান থেকে কাগজপত্র, চেয়ার, টেবিল—সবকিছু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
রাজনৈতিক দলের পতাকার প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তাঁর কথায়, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের কাছে তাদের পতাকা সম্মানের প্রতীক। সেই পতাকাকেও পদদলিত করার অভিযোগ তোলেন তিনি।
মমতার বক্তব্যে এই অংশে রাজনৈতিক কার্যালয় দখল, সম্পত্তি লুট এবং রাজনৈতিক প্রতীককে অসম্মান করার অভিযোগই মূলত সামনে আসে।
পুলিশকে রক্ষকের ভূমিকা পালনের আহ্বান
নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের রক্ষক হিসেবে কাজ করার কথা, তাঁরা যদি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় থাকবে—সেই প্রশ্নই তিনি তোলেন।
মমতা বলেন, পুলিশকে রক্ষকের ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বেআইনিভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণি থানার কাছাকাছি রাতের ঘটনাটির প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানে রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তোলেন তিনি। একইসঙ্গে রামমন্দির, রাম জন্মভূমি এবং সর্বমঙ্গলা মন্দিরের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে আসে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দখলদারি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের একাধিক অভিযোগ তোলেন। ক্যামাক্স স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে ভাঙচুরের অভিযোগের পর তাঁর এই সামাজিক মাধ্যমের বার্তায় সেই অভিযোগগুলিই আরও বিস্তৃতভাবে সামনে আসে।
#MamataBanerjee #MamataBanerjeeBJPAttack #BJP #TrinamoolCongress #WestBengalPolitics #BengalPolitics #MamataBanerjeeStatement #PoliticalAttack #PoliticalNews #WestBengalNews #BPPCriticism #TMC
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

