নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বকর্মা পুজোর প্রাক্কালে রাজ্যে বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এই সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও দক্ষ শ্রমজীবী মানুষকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৮ বছর বয়স হলেই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে। কুমোর, জুতোর মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, কামার, মূর্তি শিল্পী, দর্জি, পাথর ভাঙার কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, খেলনা তৈরির কারিগর, ধোপা, নাপিত, জেলে এবং মাছ ধরার জাল তৈরির মতো পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্বকর্মা প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের উপভোক্তাদের অগ্রগতির হিসাবও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগে মোট ৭ লক্ষ ৭০ হাজারের মতো নথিভুক্তি ছিল। বর্তমানে সক্রিয় রয়েছেন প্রায় ২ লক্ষ ২ হাজার জন।
এর মধ্যে প্রথম ধাপ সম্পূর্ণ করেছেন ২২ হাজার জন। দ্বিতীয় ধাপ সম্পূর্ণ করেছেন ৭ হাজার ২২৬ জন এবং তৃতীয় ধাপ সম্পূর্ণ করেছেন ৪ হাজার ৬৯৮ জন। চূড়ান্ত নথিভুক্তি রয়েছে ২ হাজার ৭৫০ জনের।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্বকর্মা প্রকল্পকে সফল করার জন্য রাজ্য সরকার কাজ করছে। পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে থাকা ক্ষমতার পরিবর্তে পঞ্চায়েত সচিবদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করার জন্য বিধানসভায় আইন আনা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পর দুই হাজারের বেশি বিশ্বকর্মার অনুমোদন হয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, অনুমোদন এবং ঋণের মতো বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে আগ্রহীদের জন্য অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। কীভাবে আবেদন করবেন, কারা আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন করার সময় কী কী ধাপ অনুসরণ করতে হবে, তা এক নজরে জেনে নেওয়া যাক।
বিশ্বকর্মা যোজনা কী, কারা পাবেন সুবিধা?
বিশ্বকর্মা যোজনা একটি কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের প্রযুক্তিগতভাবে আরও উন্নত করে তোলা এবং তাঁদের কাজের সুযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বকর্মাদের সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্যের জন্য দুই লক্ষ বিশ্বকর্মাকে যুক্ত করার কথা বলা হলেও তাঁর লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ লক্ষ বিশ্বকর্মাকে যুক্ত করা।
১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলেই এই সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে। সমাজের বিভিন্ন প্রথাগত পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের এই প্রকল্পের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তাঁদের দীর্ঘদিনের কাজের দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি সহায়তার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন কুমোর, জুতোর মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, কামার, মূর্তি শিল্পী, দর্জি, পাথর ভাঙার কাজে যুক্ত ব্যক্তি, খেলনা তৈরির কারিগর, ধোপা, নাপিত, জেলে-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। মাছ ধরার জাল তৈরি করেন এমন কারিগরদেরও এই প্রকল্পের সুবিধার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রথাগতভাবে যে সমস্ত কাজ পরিবার ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে, সেই পেশার সঙ্গে যুক্ত দক্ষ কারিগরদের সরকারি প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ৬৩ লক্ষ ২২ হাজার ৮৫২ জনের প্রসঙ্গ
বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পের সুবিধার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক মানুষের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এখানে সংখ্যাটি হবে ৬৩ লক্ষ ২২ হাজার ৮৫২ জন।
এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কুমোর থেকে শুরু করে জুতোর মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, কামার, মূর্তি শিল্পী, দর্জি, পাথর ভাঙার কাজে যুক্ত ব্যক্তি, খেলনা তৈরির কারিগর, ধোপা, নাপিত এবং জেলেদের মতো পেশার মানুষ রয়েছেন।
এ ছাড়াও মাছ ধরার জাল তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগররাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফলে প্রথাগত পেশার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ এই সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের কাজকে আরও উন্নত করার সুযোগ পেতে পারেন।
বিশ্বকর্মাদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলির সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ব্যাঙ্কারদেরকেও অনুপ্রাণিত করছি” যাতে বিশ্বকর্মাদের প্রয়োজনীয় ঋণ দেওয়া যায়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য স্তরে ব্যাঙ্কারদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং তাঁদের বিশ্বকর্মাদের জন্য ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কম সুদের সুবিধা যাতে তাঁরা পান, সেই ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
পাশাপাশি নিরাপত্তাহীন ঋণের সুবিধার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। বিশ্বকর্মাদের এই সুযোগগুলি গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
কীভাবে বিশ্বকর্মা যোজনায় আবেদন করবেন?
এই সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে প্রথমে যেতে হবে www.pmvishwakarma.gov.in ওয়েবসাইটে।
ওয়েবসাইটটি খুললে প্রথমে মূল পাতায় লগইন করার ব্যবস্থা দেখা যাবে। সেখানে CSC View e-Srom Data পাতায় লগইন করতে হবে। এরপর Register Now বিকল্পে গেলে আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আবেদনকারীকে প্রথমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হবে। পরিবারের কোনও সদস্য সরকারি কর্মচারী কি না, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। যদি পরিবারে কোনও সরকারি কর্মচারী না থাকেন, তাহলে সেই বিকল্পে No নির্বাচন করতে হবে।
এর পাশাপাশি আবেদনকারী কোনও সরকারি প্রকল্প থেকে একই ধরনের ঋণের সুবিধা নিয়েছেন কি না, সেই বিষয়েও তথ্য দিতে হবে। যদি আগে এমন কোনও সরকারি ঋণ না নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট জায়গায় No নির্বাচন করতে হবে।
এই প্রাথমিক তথ্য দেওয়ার পর শুরু হবে আধার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।
আধার যাচাইয়ের পর কী করতে হবে?
আবেদনের পরবর্তী ধাপে আধার যাচাই করতে হবে। এর জন্য আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বর দিতে হবে। সেই নম্বরে একটি ওটিপি আসবে। নির্দিষ্ট জায়গায় সেই ওটিপি লিখে যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।
ওটিপি যাচাই হয়ে গেলে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। এরপর Biometric বিকল্পে ক্লিক করতে হবে। এই ধাপটি সম্পূর্ণ করার পর আবেদনকারীর নিজের পরিচয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
এরপর নির্দিষ্ট আবেদনপত্রটি নিজের তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাবে।
অর্থাৎ, পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হবে—প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ, তারপর লগইন, CSC View e-Srom Data পাতায় যাওয়া, Register Now নির্বাচন, প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, আধার যাচাই, ওটিপি দেওয়া, জৈবিক পরিচয় যাচাই এবং শেষে নিজের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করা।
ঋণের সুবিধা পেতে পারেন কারিগররা
বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পে কারিগরদের জন্য ঋণের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষকে নিজেদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি সহায়তার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যাঁরা নিজেদের প্রথাগত পেশাকে আরও উন্নত করতে চান, তাঁদের জন্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে। কারিগরদের প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার পাশাপাশি তাঁদের কাজের পরিসর বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় থাকা পেশাগুলির মধ্যে রয়েছে কুমোরের কাজ, জুতোর কাজ, রাজমিস্ত্রির কাজ, কামারের কাজ, মূর্তি তৈরি, দর্জির কাজ, পাথর ভাঙা, খেলনা তৈরি, ধোপার কাজ, নাপিতের কাজ, মাছ ধরা এবং মাছ ধরার জাল তৈরির মতো বিভিন্ন পেশা।
তাই এই সমস্ত পেশার সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি যদি সরকারি প্রকল্পটির সুবিধা নিতে চান, তাহলে প্রথমে www.pmvishwakarma.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
আবেদন করার আগে কী কী মনে রাখবেন?
বিশ্বকর্মা যোজনায় আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রথমেই নিজের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া আবেদন করার অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের কোনও সদস্য সরকারি কর্মচারী কি না এবং আবেদনকারী আগে কোনও সরকারি প্রকল্প থেকে একই ধরনের ঋণ নিয়েছেন কি না, সেই তথ্যও আবেদন প্রক্রিয়ার সময় দিতে হবে।
আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বর ব্যবহার করে যাচাইয়ের ধাপ সম্পূর্ণ করতে হবে। ওটিপি যাচাইয়ের পর জৈবিক পরিচয় যাচাইয়ের ধাপ রয়েছে। সবশেষে নিজের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।
সরকারি প্রকল্পটির সুবিধা নিতে ইচ্ছুক কারিগরদের জন্য তাই পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। www.pmvishwakarma.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।
বিশ্বকর্মা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথাগত পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও ঋণের মতো সরকারি সুবিধার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করা যোগ্য কারিগররা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

