নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর সময় কলকাতার রাস্তায় বেরোনোর পরিকল্পনা করছেন? প্যান্ডেল দেখতে, প্রতিমা দর্শনে কিংবা অন্য কোনও কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে শহরের রাস্তায় বেরোতে হলে আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি, কোন দিন কোন রাস্তায় যানচলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। পুজো মানেই কলকাতার রাস্তায় বাড়তি ভিড়। কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে বেরোন, কেউ ভরসা রাখেন গণপরিবহণে, আবার অনেকে হেঁটেই এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে পৌঁছে যান। সেই ভিড় সামলাতে পুজোর আগেই বিশেষ যানচলাচল ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
মহালয়ার আগেই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় শুরু হবে এই বিশেষ ব্যবস্থা। প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার গাড়ি, পণ্যবাহী গাড়ি এবং বিসর্জনের সময় যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মহালয়ার দুদিন আগে থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত বিশেষ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। অর্থাৎ ৬ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বদলাবে যানচলাচলের নিয়ম।
তৃতীয়া থেকে পুজোর রাস্তায় নতুন যানচলাচল ব্যবস্থা
পুজোর দিনগুলিতে শহরের রাস্তায় যানচলাচলের চাপ বাড়ে। বিশেষ করে প্রতিমা নিয়ে যাতায়াত, প্যান্ডেলমুখী মানুষের ভিড় এবং গাড়ির চাপ সামলাতে বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ করা হবে যানচলাচল। ১৩ অক্টোবর, অর্থাৎ তৃতীয়া থেকে কলকাতার রাস্তায় যানচলাচলের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে তার আগেই প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার গাড়িগুলির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু থাকবে। সাধারণত এই সময় বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলে। সেই কারণেই কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া গাড়িগুলির জন্য নির্দিষ্ট পথ ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা নিয়ে রবীন্দ্র সরণীর দিকে যাওয়ার জন্য গাড়িগুলিকে জ্যোতিন্দ্র মোহন অ্যাভিনিউ, রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিট এবং রবীন্দ্র সরণি হয়ে যেতে হবে।
অন্যদিকে, প্রতিমা নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় গাড়িগুলিকে বাগবাজার স্ট্রিট এবং স্ট্র্যান্ড রোড হয়ে যেতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
কুমোরটুলির প্রতিমাবাহী গাড়ির জন্য কোন পথে যেতে হবে
পুজোর আগে প্রতিমা আনার কাজে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণে প্রতিমাবাহী গাড়িগুলির জন্য নির্দিষ্ট পথের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় নির্ধারিত পথ মেনে চলতে হবে গাড়িগুলিকে।
রবীন্দ্র সরণীর দিকে যেতে হলে জ্যোতিন্দ্র মোহন অ্যাভিনিউ, রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিট এবং রবীন্দ্র সরণি ব্যবহার করতে হবে। প্রতিমা নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় ব্যবহার করতে হবে বাগবাজার স্ট্রিট এবং স্ট্র্যান্ড রোড।
শুধু প্রতিমা বহনকারী গাড়িই নয়, অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রেও থাকছে বিশেষ বিধিনিষেধ। এই আট দিন রবীন্দ্র সরণিতে অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না।
এর পরিবর্তে ওই গাড়িগুলিকে স্ট্র্যান্ড রোড, নিমতলা ঘাট স্ট্রিট, বিবেকানন্দ অ্যাভিনিউ, জ্যোতিন্দ্র মোহন অ্যাভিনিউ এবং গিরিশ অ্যাভিনিউ হয়ে যাতায়াত করতে হবে।
ফলে পুজোর আগে উত্তর কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যাঁরা গাড়ি নিয়ে বেরোবেন, তাঁদের নির্দিষ্ট পথের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি হবে।
স্ট্র্যান্ড রোডে পার্কিং নিষিদ্ধ, বদলাবে গাড়ি চলাচলের নিয়ম
প্রতিমা বহনকারী গাড়িগুলির চলাচল সহজ রাখতে স্ট্র্যান্ড রোডের একটি অংশে পার্কিংয়ের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শোভাবাজার স্ট্রিট থেকে ডিসি ব্যানার্জির রোডের মধ্যবর্তী স্ট্র্যান্ড রোড এবং স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোডে সমস্ত ধরনের গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ থাকবে বলে কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পুজোর আগে প্রতিমা নিয়ে গাড়ির সংখ্যা বাড়ে। সেই সময় রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখলে যানচলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট অংশে পার্কিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুজোর সময় দিনের বিশেষ সময়েও বিভিন্ন রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ির যাতায়াত নিষিদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ পুজোর দিনগুলিতে শুধু সাধারণ গাড়ির চলাচল নয়, পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়ে বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
মহালয়ার দিন থেকে গঙ্গার ঘাট ও স্ট্র্যান্ড রোডে নিয়ন্ত্রণ
মহালয়ার দিনেও শহরের রাস্তায় বিশেষ যানচলাচল ব্যবস্থা থাকবে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গঙ্গার ঘাট এবং স্ট্র্যান্ড রোড এলাকায় যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পুজোর আগে প্রতিমা আনা থেকে শুরু করে পুজোর দিনগুলিতে মানুষের চলাচল এবং পরে বিসর্জন—এই পুরো সময়কে মাথায় রেখেই বিভিন্ন রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে মানুষের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, সেই সব এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
পুজোর সময় কলকাতার রাস্তায় শুধু গাড়ির চাপই বাড়ে না, হেঁটে চলা মানুষের সংখ্যাও বেড়ে যায়। অনেকেই একটি মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে হেঁটে যান। ফলে যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলের কথাও মাথায় রেখেই বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিসর্জনের সময়ও একাধিক রাস্তায় থাকবে নিয়ন্ত্রণ
পুজোর মূল দিনগুলি শেষ হলেও যানচলাচলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি উঠে যাবে না। বিসর্জনের জন্য দশমীর পর থেকে লক্ষ্মীপুজোর আগে পর্যন্ত বিভিন্ন রাস্তায় যানচলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
পুজোর সময় যেখানে সেখানে গাড়ি পার্ক করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। কালীঘাট চত্বর, গার্ডেন রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, বাগবাজার রোড-সহ বিভিন্ন রাস্তায় যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পুজোর সময় যে কোনও রাস্তাতেই যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ পুজোর সময় কলকাতায় গাড়ি নিয়ে বেরোলে শুধু নিজের গন্তব্যের রাস্তা জানলেই হবে না, সেই দিনের যানচলাচলের নিয়মও দেখে বেরোনো প্রয়োজন। প্রতিমা আনা, পুজোর ভিড় এবং বিসর্জন—তিনটি পর্যায়েই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় আলাদা ব্যবস্থা থাকছে।
পুজোয় কলকাতার রাস্তায় বেরোলে তাই নির্দিষ্ট রাস্তা, পার্কিংয়ের নিয়ম এবং যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মাথায় রেখেই যাত্রা করার পরামর্শ থাকছে। কারণ ভিড়ের শহরে আগে থেকে রাস্তার নিয়ম জানা থাকলে গন্তব্যে পৌঁছনোর পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

