Suvendu Adhikari Pursurah Farmers Welfare: হুগলির পুরশুড়ায় মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে সরকারি চাকরি, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, বিদ্যুতে ভর্তুকি এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিয়ে একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এক লক্ষ সরকারি চাকরি ও বেকারদের জন্য প্রকল্প: মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের ৮ মে-র মধ্যে রাজ্যে এক লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পাশাপাশি বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা’ প্রকল্প চালুর কথাও ঘোষণা করেন।
কৃষকদের আর্থিক সহায়তা: কৃষক সম্মান নিধির প্রথম কিস্তির টাকা জানুয়ারির শেষে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ১ থেকে ৪০ শতক জমির জন্য বছরে ৪ হাজার টাকা এবং ৪০ শতকের বেশি জমির জন্য ৬ হাজার টাকা দুটি কিস্তিতে দেওয়ার কথা জানান তিনি। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বিদ্যুতে ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি: কৃষিকাজের বিদ্যুৎ সংযোগে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানান তিনি। তাঁর দাবি, বছরে এক লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ খরচ ভর্তুকির ফলে প্রায় ৬০ হাজার টাকায় নেমে আসতে পারে। মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম, রায়না, জামালপুর, চন্দ্রকোনা, গড়বেতা, পুরশুড়া, আরামবাগ, পাণ্ডুয়া, ধনেখালি ও হরিপালের কৃষকরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।
ধান বিক্রিতে বাড়তি ২০০ টাকা: পাঁচ একর পর্যন্ত জমির কৃষকদের সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের অতিরিক্ত কুইন্টাল প্রতি ২০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। ফলে ৫০ কুইন্টাল ধান বিক্রিতে বাড়তি ১০ হাজার টাকা পাওয়া যেতে পারে। ধাপে ধাপে ধানের ক্রয়মূল্য কুইন্টাল প্রতি ৩,১০০ টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আলুচাষিদের ক্ষতিপূরণ ও সুফল বাংলার সম্প্রসারণ: ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষিদের ক্ষতিপূরণ, হিমঘরগুলিকে সরকারি সহায়তা এবং রাজ্যে সুফল বাংলার আরও ৫৫০টি বিপণন কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
সেচ ও কৃষি উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী কুসুম প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনার আওতায় কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় বিশেষ কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ঘোষণা: মেডিক্যাল কলেজে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে রাজ্যের ২৫ লক্ষ টাকা, কেন্দ্রের ২ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের একজনকে স্থায়ী গ্রুপ-ডি চাকরি দেওয়ার দাবিও করেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেননি। একই সঙ্গে আরামবাগ জেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে ফের আসার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পুরশুড়ার সভা থেকে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী।

