কলকাতা থেকে একদিনের ট্রিপে প্রকৃতির ছোঁয়া চান? প্রকৃতির কোলে ঐতিহ্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধন। ইছামতীর বুকে সূর্যাস্ত দেখার সেরা জায়গা টাকি (Taki One Day Trip) — ইতিহাস, রাজবাড়ি, নৌকা ভ্রমণ ও খাবারের গাইড জানুন এখানে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতা থেকে মাত্র দেড়–দু’ঘণ্টার দূরত্বে এক জাদুকরী শহর — টাকির (Taki) নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইছামতী নদীর প্রশান্ত জল, ওপারে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্ত, আর সূর্য যখন অস্ত যায়, নদীর বুকজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে কমলা–লাল রঙের আগুনে আভা। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন ভ্রমণপিপাসুরা। ছোট এই শহরটাকে ঘিরে রয়েছে বহু প্রাচীন ইতিহাস এবং ইতিবৃত্ত।
ইতিহাসের পাতায় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ উত্তর ২৪ পরগণার এই শহর টাকিতে রয়েছে রাজা এবং রাজপরিবারের অনেক তথ্য। রাজা প্রতাপাদিত্যের বংশধর কৃষ্ণদাস রায়চৌধুরী টাকিতে বসতি স্থাপন করেন। বর্তমান ইছামতি নদীর নাম কিন্তু সে সময়ে যমুনা-ইছামতী নামে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিল। টাকি শহরটি ইছামতী নদীর পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত এবং অন্যদিকে ইছামতীর পশ্চিমতীরে রয়েছে বাংলাদেশ। ইছামতিকে কেন্দ্র করে অখণ্ড বাংলার পারস্পরিক যোগসূত্র রচনা হয়েছে। একদিনের ছুটিতে যদি মন ছুঁতে চায় প্রকৃতিকে তাহলে টাকি আপনার জন্য পারফেক্ট ট্রিপ। কিভাবে যাবেন? জানতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি পড়ুন।
আরও পড়ুন : Budget Friendly Winter Travel │ কম খরচে ঘুরে ফেলুন এই ৫টি অফবিট শীতের গন্তব্য
কিভাবে যাবেন? (Taki One Day Trip)
টাকি শহরটি কলকাতা থেকে প্রায় ৭০ কিমি পূর্বে অবস্থিত, কাজেই আপনি সড়কপথ এবং রেলপথের মাধ্যমে অবশ্যই যাতায়াত করতে পারেন। সড়কপথে যেতে পারবেন। প্রাইভেট কারে বারাসত হয়ে বসিরহাট রোড ধরে পৌঁছানো যায়। রাস্তা ভালো এবং যাত্রা বেশ আরামদায়ক। টাকি রেল স্টেশন কলকাতা শহরতলি রেলপথের হাসনাবাদ শাখার অংশ। এটি বারাসত রেল জংশন স্টেশনের মাধ্যমে শিয়ালদহ স্টেশনে যুক্ত রয়েছে। কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ট্রেনে টাকি পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে এবং হাসনাবাদ লোকালে ট্রেন শিয়ালদহ স্টেশন থেকে টাকি রোড পর্যন্ত যাতায়াত করে।
কী কী দেখবেন?
১। টাকির রাজবাড়ি (পুবের বারি)
রাজা কৃষ্ণদাস রায়চৌধুরীর রাজবাড়ি আজও ইছামতীর ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাজবাড়ির স্থাপত্যে ইউরোপীয় ছোঁয়া আর বাংলার ঐতিহ্যের মিশ্রণ দেখা যায়। দালান–কোঠায় এখনো ইতিহাসের গন্ধ লেগে আছে। স্থানীয়দের মতে, এই রাজবাড়ির অনেক গোপন টানেল ছিল যা সরাসরি নদীর দিকে যেত, যদিও আজ তার অধিকাংশই হারিয়ে গেছে।
এখন এই রাজবাড়ি ফটোগ্রাফারদের এবং সিনেমা-শুটিংয়ের জন্য একটি জনপ্রিয় স্পট।

২। ইছামতীর সূর্যাস্ত
টাকির মূল আকর্ষণই হলো ইছামতীর সূর্যাস্ত। বিকেলের শেষ আলো যখন নদীর জলে পড়ে, তখন পুরো আকাশ যেন জ্বলে ওঠে রাঙা আগুনে। ওপারের বাংলাদেশ স্পষ্ট দেখা যায়, আর মাঝে মাঝে নদীর উপর ভেসে থাকা দেশি নৌকাগুলো একে করে তোলে সিনেমার দৃশ্যের মতো।
৩। নৌকা ভ্রমণের মজা
ইছামতী নদীর বুক চিরে নৌকা ভ্রমণ এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। স্থানীয় ঘাট থেকে ঘণ্টায় ₹৪০০–₹৬০০ ভাড়ায় নৌকা পাওয়া যায়। সূর্যাস্তের সময় নদীর মাঝ বরাবর গেলে দেখা যায় দুই দেশের পতাকা, দুই তীরের গ্রামের জীবনযাপন। অনেক সময় ওপারের বাংলাদেশের নৌকার লোকজন হাত নেড়ে অভিবাদন জানান — এক অদ্ভুত মানবিক মুহূর্ত, যা শুধু টাকিতেই অনুভব করা যায়।
৪। টাকি ইকো পার্ক ও ঘাট
একদিনের ছুটি কাটাতে চাইলে টাকির ইকো পার্কই সেরা জায়গা। গাছপালা, ফুল, হাঁটার পথ, বসার জায়গা — সবকিছু এত সুন্দরভাবে সাজানো যে পুরো দিনটা কাটিয়ে দেওয়া যায় চোখের পলকে। শীতকালে এখানে পিকনিকের ভিড় হয়, কিন্তু সকালে গেলে প্রকৃতির শান্ত রূপটা উপভোগ করা যায় সবচেয়ে ভালোভাবে।
৫। গোলপাতা বন (মিনি সুন্দরবন)
টাকি ভিউপয়েন্ট থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে, আপনি আরেকটি আকর্ষণীয় গন্তব্য ঘুরে দেখতে পারেন।গোলপাতা বন, যা ছোট আকারে ম্যানগ্রোভের আকর্ষণের কারণে প্রায়শই মিনি সুন্দরবন নামে পরিচিত। কংক্রিট সেতু এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা কর্দমাক্ত ভূখণ্ড বা জলাবদ্ধ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে না গিয়ে প্রকৃতি অন্বেষণের জন্য একটি নিরাপদ এবং উঁচু পথ প্রদান করে। রাস্তাগুলি বেশ সরু হওয়ায় আমরা টাকি ভিউপয়েন্টের পেইড পার্কিং স্পট থেকে টোটো (ই-রিকশা) যাত্রা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিই।
কোথায় থাকবেন?
ইছামতি নদীর ধারে একটি মনোরম লন, একটি সুইমিং পুল, দুর্দান্ত ডাইনিং, একটি ইনডোর গেমিং এরিয়া, দোলনা এবং আরও অনেক কিছু রয়েছে যা আপনার থাকার আনন্দময় করে তোলে।
ঘাটের ধারে, সামনে থেকে ইছামতিকে দেখার সুযোগ পাবেন এখান থেকে। ইছামতির মনোরম দৃশ্য আপনাকে আকৃষ্ট করবে।
ইছামতীর ধারে এসে মাছ না খেলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ। এখানকার চিংড়ি ভাজা, ভেটকি ফ্রাই, টাকি স্পেশাল ইলিশের থালি বেশ জনপ্রিয়। অক্টোবর থেকে মার্চ টাকি ঘোরার সেরা সময়। এই সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে, নদীর জল শান্ত, আর সূর্যাস্ত দেখা যায় সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে। বর্ষাকালে নৌকা ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো , নদীর স্রোত তখন অনেক বেশি থাকে। নদীর মৃদুমন্দ সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। তাহলে আর দেরি কেন? শীতের ছুটিতে পিকনিক স্পট হিসেবে টাকিকেই বেছে নিন।
Most Viewed Posts
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra

