Abhishek Banerjee Amit Shah Attack: তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে অমিত শাহ ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুপ্রবেশ, এনআরসি, শেখ হাসিনা, বাঙালি স্বার্থ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন তিনি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক তরজায় নতুন মাত্রা যোগ করল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে বিজেপির পক্ষ থেকে একগুচ্ছ বড় প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করার পরই তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন—বিজেপির প্রতিশ্রুতির পর কি চাপ অনুভব করছে রাজ্যের শাসকদল? সেই প্রশ্নের মধ্যেই বিজেপির ইস্তেহারকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল তৃণমূল।
অমিত শাহ এদিন বিজেপির ইস্তেহারে একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ঘোষণা করেন, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাত্র পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া হবে। কাটমানি সংস্কৃতি ও সিন্ডিকেট রাজ নির্মূলের আশ্বাসও দেন তিনি। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের জন্য চাকরি ও স্বনির্ভরতার সুযোগ তৈরি, বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা এবং মহিলাদের জন্য প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া মহিলাদের নিরাপত্তায় বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ গঠন, রাজ্যের চাকরিতে মহিলাদের জন্য তেত্রিশ শতাংশ সংরক্ষণ, ধান-আলু-আম চাষে সরকারি সহায়তা, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য, মৎস্যজীবীদের নথিভুক্তকরণ, পশ্চিমবঙ্গকে মাছ রপ্তানির প্রধান রাজ্যে উন্নীত করা, দার্জিলিং চায়ের বিশ্বজনীন ব্র্যান্ডিং, পাটশিল্পের আধুনিকীকরণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বয়সে পাঁচ বছর ছাড়ের মতো একাধিক ঘোষণা করেন তিনি।
সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষা অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু করার ঘোষণা, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা, উত্তরবঙ্গে এমস নির্মাণ উত্তরবঙ্গে আইআইটি ও আইআইএম-এর ক্যাম্পাস স্থাপন, ‘বন্দে মাতরম’ সংগ্রহশালা নির্মাণ ঘোষণা করেন তিনি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রকল্পে অগ্রগতি ঘটায়নি।
এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে পাল্টা আক্রমণে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির ইস্তেহার ও অমিত শাহের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। অনুপ্রবেশ ইস্যু, এনআরসি, বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, বাঙালি স্বার্থ—একাধিক প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির আক্রমণাত্মক ইস্তেহার এবং তার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠক এই ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, রাজ্যের ভোটযুদ্ধ আরও তীব্র হতে চলেছে। বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে যে সমালোচনা করেছেন, সেগুলিই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি বাংলাকে সবসময় বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে দেখার চেষ্টা করে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাকে ভারতের অংশ হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি অনুপ্রবেশই এত বড় ইস্যু হয়, তবে দেড় বছর ধরে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে কেন কেন্দ্রীয় সরকার? কোন স্বার্থে বা কোন শিল্পপতিকে রক্ষা করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার জবাব দিতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ (Abhishek Banerjee Amit Shah Attack)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিদ্বেষমূলক আচরণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কেউ বাংলায় কথা বললে, পছন্দের খাবার খেলে বা নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রাখলে তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যাঁরা প্রকাশ্যে বাঙালি বিরোধী মন্তব্য করেছেন, বিজেপি তাঁদেরই পুরস্কৃত করেছে। এতে স্পষ্ট যে বাঙালিদের প্রতি বিজেপির মনোভাব বৈরী—এমনটাই দাবি তৃণমূলের।
এনআরসি নিয়ে বড় অভিযোগ (Abhishek Banerjee Amit Shah Attack)
এনআরসি প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অসমে এনআরসি প্রক্রিয়ার নামে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু বাঙালিদের নিশানা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ—
- প্রায় উনিশ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল
- তার মধ্যে প্রায় বারো লক্ষ হিন্দু বাঙালিকে ডিটেনশন শিবিরে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল
- পরবর্তী তালিকাগুলিতে ধাপে ধাপে আরও বহু মানুষের নাম বাদ যায়
অভিষেকের দাবি, বাংলা থেকে মোট প্রায় নব্বই লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার বড় অংশই হিন্দু বাঙালি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির “ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট” নীতি বাঙালিদের অস্তিত্বের উপর সরাসরি আঘাত।
বাংলাদেশে সাধু-সন্তদের উপর অত্যাচার নিয়েও প্রশ্ন
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সাধু-সন্তদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, এ বিষয়ে মোদী সরকার কী পদক্ষেপ করেছে? বিজেপি শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিষয়টি ব্যবহার করছে, বাস্তবে কোনও কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ‘ভরসার শপথ’-এর পাল্টা আক্রমণ
বিজেপির ঘোষিত পনেরো দফা প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, তৃণমূল কংগ্রেস পয়েন্ট ধরে তার জবাব দেবে। তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে এনআরসি ইস্যুতে যে প্রহসন চলেছে, তার জন্য বাংলার মানুষের কাছে আগে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল অমিত শাহের।
অভিষেকের দাবি, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্য কার্যত দিল্লি ও গুজরাট থেকে পরিচালিত হবে—এ কথা অমিত শাহ নিজের বক্তব্যেই পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মণিপুরে বিজেপি শাসনে সাধারণ মানুষের উপর যেভাবে অত্যাচার চলছে, তা দেশের সামনে এক গভীর উদ্বেগের বিষয়। তাঁর প্রশ্ন, যে দল দেশের একাধিক রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কথা বলে, সেই দল মণিপুরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ কেন?
কাশ্মীরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, যখন নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে, তখন বিজেপি শাসনকালেও সেখানে কেন অনুপ্রবেশ আটকানো যায়নি? যদি কেন্দ্রীয় সরকার এতটাই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি করে, তবে সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকায় এখনও কেন সমস্যা অব্যাহত—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও অমিত শাহের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থ দেয়নি। তাই দুই হাজার চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ব্যবহার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বলেন, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গে ইডি-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে পাঠিয়ে বিরোধীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তবে এই কৌশলে তৃণমূল কংগ্রেসকে দমানো যাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
ভোটার তালিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, যারা বিজেপিকে ভোট দেয় না, বেছে বেছে তাদের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘন করে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি জানান, এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে।
বিজেপি নেতৃত্বের আসনসংখ্যা নিয়ে আগাম মন্তব্য প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee Amit Shah Attack)। তিনি বলেন, ভোটের আগেই নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা ঘোষণা করা গণতন্ত্রের প্রতি অবমাননা এবং সাধারণ মানুষের রায়কে অসম্মান করার শামিল।
সবশেষে আত্মবিশ্বাসী সুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দুই হাজার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পঞ্চাশ আসনেরও নিচে নেমে আসবে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- দিনের ২৪ ঘণ্টা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন! জানুন, সময় ব্যবহারের এই সহজ কৌশল
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- শালিমার বাগের ভবিষ্যৎ রহস্য: প্রেম, স্মৃতি আর সময়কে ছাপিয়ে ভবিষ্যৎ কি বদলে দেবে ইতিহাস?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- গ্যাস সিলিন্ডার দ্রুত শেষ হয়ে যায়? এই ৬টি সহজ টিপস জানলে সিলিন্ডার চলবে বেশি দিন

