Abhishek Banerjee Blanket Protection: ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইকোর্টে আবেদন ঘিরে। এই আইনি সুরক্ষার সীমা, শর্ত এবং সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান নিয়ে জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন থানায় ধারাবাহিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ।
আবেদনে বলা হয়েছে, বহু পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে নতুন করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হচ্ছে এবং দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ধারাবাহিক ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে একজন বিরোধী নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে।
কেন ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ চাইছেন?
এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ বা বিস্তৃত আইনি সুরক্ষার আবেদন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে, তাই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অনুরূপ ধরনের আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। সেই নজিরের কথাও আদালতে তুলে ধরা হয়েছে।
ডিজে মামলায় আদালতে হাজিরা
এদিকে একটি ডিজে-সংক্রান্ত মামলায় ভয়েস স্যাম্পল দেওয়ার জন্য কালীঘাটের বাড়ি থেকে বিধাননগর আদালতে পৌঁছান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগকারীর আবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে আদালতে হাজিরা দিতেও বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কী এই ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’?
ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন বলতে সাধারণভাবে এমন একটি আদালতের নির্দেশকে বোঝানো হয়, যেখানে একজন ব্যক্তিকে একাধিক বা ধারাবাহিক মামলায় নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে গ্রেপ্তারি পদক্ষেপ থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়া হতে পারে, যাতে তিনি আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পান।
তবে এটি কোনো স্থায়ী বা নিঃশর্ত রক্ষাকবচ নয়।
সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে?
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একাধিক রায়ে স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে হতে পারে এমন সব সম্ভাব্য অপরাধ বা অজ্ঞাত মামলার ক্ষেত্রে আগাম, শর্তহীন এবং সীমাহীন ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ দেওয়া যায় না।
আদালতের মতে, এ ধরনের ঢালাও সুরক্ষা আইনের শাসনের পরিপন্থী হতে পারে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই প্রতিটি মামলার প্রকৃতি, অভিযোগ এবং পরিস্থিতি বিচার করেই আদালত সিদ্ধান্ত নেয়।
‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ কি ‘ব্ল্যাঙ্কেট সিকিউরিটি’?
অনেক সময় ‘ব্ল্যাঙ্কেট সিকিউরিটি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হলেও, আদালতের ক্ষেত্রে সঠিক আইনি পরিভাষা হলো ‘Blanket Protection’। এটি নিরাপত্তারক্ষী দেওয়ার বিষয় নয়; বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতের দেওয়া একটি আইনি সুরক্ষা, যার পরিধি ও শর্ত আদালতই নির্ধারণ করে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, কিংবা কী ধরনের সুরক্ষা আদালত দেন, তা নির্ভর করবে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের ওপর। আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে তাঁর চাওয়া ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’-এর পরিসর ও শর্ত।
#AbhishekBanerjee #BlanketProtection #CalcuttaHighCourt #WestBengalPolitics #TMC #PoliticalNews #IndiaPolitics #SupremeCourt #BreakingNews

