Abhishek Banerjee Disqualification Petition: দিল্লিতে লোকসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগের অভিযোগে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানিয়েছেন। সংবিধানের দশম তফসিলের বিধান উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দিল্লিতে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে অন্য একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার দাবি করা ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে তিনি পৃথকভাবে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদন জমা দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্র। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁদের সঙ্গে লোকসভার অধ্যক্ষের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে এমন একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার দাবি করেছেন, যে দলের নাম আগে কেউ শোনেনি, তাঁরা নিজেরাই স্বীকার করে নিয়েছেন যে তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যপদ ছেড়েছেন। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন না। যেমন একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে চাকরি করতে পারেন না, তেমনই একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে অন্য দলের সদস্য হওয়ার দাবি করলে সেই মুহূর্ত থেকেই আগের দলের সদস্যপদ কার্যত শেষ হয়ে যায়।
এই প্রসঙ্গে তিনি সংবিধানের দশম তফসিলের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের প্রথম উপধারা-র কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি স্বেচ্ছায় নিজের রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেন অথবা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, তাহলে সেটি তাঁর সদস্যপদ খারিজের অন্যতম ভিত্তি। তাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জিতে অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার দাবি করলে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়াই সংবিধানের বিধান অনুযায়ী স্বাভাবিক।
এরপর তিনি ওই সাংসদদের একীভূত হওয়ার দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা দাবি করছেন যে তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় দল একীভূত হয়েছে। কিন্তু সংবিধানের দশম তফসিলের চতুর্থ অনুচ্ছেদে একীভূত হওয়ার যে বিধান রয়েছে, সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রথমে মূল রাজনৈতিক দলকে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারপর সেই রাজনৈতিক দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলে তবেই তাকে বৈধ একীভূত হওয়া বলা যাবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংখ্যা বড় বিষয় নয়। বিশজন, পঁচিশজন কিংবা তারও বেশি সাংসদ অন্য দলে চলে গেলেও শুধুমাত্র সেই কারণে একীভূত হওয়া বৈধ হয়ে যায় না। মূল রাজনৈতিক দল যদি একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্তই না নেয়, তাহলে শুধুমাত্র কয়েকজন সাংসদের সিদ্ধান্তকে সংবিধান একীভূত হওয়া হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তাই সংশ্লিষ্ট সাংসদদের দাবি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, দলত্যাগের বিষয়টি কেবল সংখ্যার প্রশ্ন নয়, এটি রাজনৈতিক দলের প্রশ্ন। আইন অনুযায়ী আগে রাজনৈতিক দলের একীভূত হওয়া প্রয়োজন, তারপর সেই ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবস্থান বিবেচিত হবে। শুধুমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত নিলেই তা বৈধ একীভূত হওয়া হয়ে যায় না।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি বিশজন সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথকভাবে সদস্যপদ খারিজের আবেদন জমা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জিতে পরে অন্য দলে যোগ দেওয়ার দাবি করে তাঁরা জনগণের দেওয়া জনাদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে তাঁকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সে সময় নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে তিনি ডাকযোগে সেই নোটিশ পান এবং লোকসভার অধ্যক্ষের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি অনুরোধ করেছিলেন, পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে আগে থেকে জানালে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ে তিনি দিল্লিতে গিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সমস্ত নথি ও সাংবিধানিক যুক্তি তুলে ধরেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, লোকসভার অধ্যক্ষ অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন। সংবিধানের দশম তফসিলের দ্বিতীয় ও চতুর্থ অনুচ্ছেদের বিধান নিয়ে তাঁদের যুক্তিও মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এখন সমস্ত সিদ্ধান্ত লোকসভার অধ্যক্ষের হাতে। সংবিধানে যা স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, সেই বিধান অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, কে সংবিধানের পক্ষে আর কে সংবিধানের বিরুদ্ধে, সেই বিচার সংবিধানের বিধান মেনেই লোকসভার অধ্যক্ষ করবেন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

