Arpita Sarkar Honey Trap: মামলার তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। হামিম মণ্ডলের সঙ্গে পরিচয়, ঘনিষ্ঠতা, টাকার প্রলোভন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এবং সম্ভাব্য জঙ্গি চক্রের যোগ—সব দিক খতিয়ে দেখছে বিশেষ তদন্তকারী দল।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: জঙ্গি যোগে গ্রেফতার হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা সরকার শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তাঁকে ব্যবহার করা হচ্ছিল একটি সুপরিকল্পিত জঙ্গি চক্রের অংশ হিসেবে। রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল সূত্রে জানা গিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক, তারপর ধীরে ধীরে মগজধোলাই করে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানি ট্র্যাপ’-এর কাজে যুক্ত করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের কাছে অর্পিতার বাড়ি। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার ফিডার ক্যানালের পশ্চিম পারে অবস্থিত এলাকাতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার দাবি করেছেন তিনি। পরিবারে রয়েছেন বাবা, মা এবং দুই বোন। বাবা কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত, মা একটি সংস্থার কর্মী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই মডেলিংয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল অর্পিতার। মোটরবাইক চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ভালোবাসতেন তিনি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ছবি ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও প্রকাশ করতেন।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামিম মণ্ডলের সঙ্গে অর্পিতার পরিচয় হয়। হামিম নিজেকে হাওড়ার এক ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছিল। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে মোবাইল নম্বর বিনিময় হয় এবং নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদে একাধিকবার তাঁদের দেখা হয় এবং সেই সম্পর্ক ক্রমে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়।
বিশেষ তদন্তকারী দলের দাবি, এরপর থেকেই হামিম ধীরে ধীরে অর্পিতার উপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। প্রথমে টাকার লোভ দেখানো হয়, পরে বিভিন্নভাবে তাঁর মগজধোলাই করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সীমান্তপারের জঙ্গি চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পরিচালকের কাছেও অর্পিতার পরিচয় পৌঁছে দেয় হামিম। এরপর তাঁকেও একটি বড় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি শুরু হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, অর্পিতার মূল ভূমিকা ছিল প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা। বিশেষ তদন্তকারী দলের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করে পরে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করা হতো।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় চার মাস ধরে হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ রাখছিল অর্পিতা। সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর তাঁকে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় ডেকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে হামিম ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ছক কষেছিল। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তদন্তকারীরা গোটা চক্রের হদিস পান।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিমের ডিজিটাল যোগাযোগে সীমান্তপারের একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। তাঁদের মাধ্যমেই অর্পিতাকে এই চক্রে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
বিশেষ তদন্তকারী দলের মতে, এখনও পর্যন্ত কতজনকে একই ধরনের কৌশলে টার্গেট করা হয়েছে, সেই তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্পিতার মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন যোগাযোগের নথি পরীক্ষা করে গোটা নেটওয়ার্কের বিস্তার জানার চেষ্টা চলছে।
তবে তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ও দাবি আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। তাই এই সমস্ত তথ্য তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে উঠে আসা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
#ArpitaSarkar #HoneyTrap #HamimMondal #STFInvestigation #WestBengal #CrimeNews #PakistanLink #TerrorNetwork
সাম্প্রতিক পোস্ট
‘সাথীরা, প্রশ্নফাঁস মাফিয়াদের রেয়াত নয়’– সংসদে বিল পাসের পর প্রথমবার কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
সিলেবাসে বড় পরিবর্তন কবে থেকে? শিক্ষক নিয়োগেও সুখবর? কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
আবার কি বদলে যাবে নোট? দেশে আসছে প্লাস্টিকের নোট,জানুন, কী বদল আসছে?
১লা আগস্ট থেকে স্কুলের খাবারের দায়িত্ব ইস্কনের, ডিম বিতরণ, ও শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা
কেন জেন জির ‘ক্রাশ’ সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দীপকে? নেপথ্যে কী রহস্য?

