Ayurveda Tips for Women: ডা. দীক্ষা ভাবসারের মতে, পিরিয়ডের সময় জিমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ডায়েট করাই ডেকে আনছে বিপদ
এই প্রতিবেদনে যা পাবেন
নিউজ অফবিট লাইফস্টাইল ডেস্ক: নারীদের জন্য আয়ুর্বেদ (Ayurveda Tips for Women)—বিষয়টি এখন আর শুধু ঠাকুমা-দিদিমার টোটকা নয়। ২০২৩-২৪ সালের একাধিক সমীক্ষা বলছে, ভারতীয় নারীদের মধ্যে হরমোনাল ইমব্যালেন্স, পিসিওএস (PCOS) এবং ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্বের সমস্যা প্রায় মহামারীর আকার নিয়েছে। আমরা জিমে যাই, দামী স্কিনকেয়ার করি, কিন্তু আসল সমস্যার গোড়ায় পৌঁছাই না।
সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে বিখ্যাত আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. দীক্ষা ভাবসার সাভালিয়া (Dr. Dixa Bhavsar Savaliya) নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন কিছু তথ্য শেয়ার করেছেন, যা আমাদের লাইফস্টাইল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। শুধুমাত্র ওষুধের ওপর নির্ভর না করে, কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে হরমোন ব্যালেন্স করা যায়? ট্রান্সক্রিপ্ট এবং অন্যান্য মেডিকেল জার্নাল ঘেঁটে আমরা তৈরি করেছি এই বিশেষ প্রতিবেদন।
১. পিরিয়ডকে বুঝুন আয়ুর্বেদের চশমায় (Sync with Your Cycle)
ডা. দীক্ষার মতে, একজন নারীর পুরো মাসটি তিনটি ‘দোষ’ (Dosha) দ্বারা পরিচালিত হয়।
- ঋতু কাল (Follicular Phase): পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে ওভিউলেশন পর্যন্ত। এই সময় শরীরে ‘কফ’ দোষ বেশি থাকে। এনার্জি হাই থাকে, তাই এই সময় আপনি কার্ডিও বা ভারী এক্সারসাইজ করতে পারেন।
- ঋতু অতীত কাল (Luteal Phase): ওভিউলেশনের পর থেকে পিরিয়ড শুরু হওয়া পর্যন্ত। এটি ‘পিত্ত’ দোষের সময়। এই সময় শরীর গরম থাকে, মেজাজ খিটখিটে (PMS) হতে পারে।
- রজঃস্বলা কাল (Menstrual Phase): এটি ‘বাত’ বা বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
আধুনিক বিজ্ঞান কী বলছে? Journal of Sports Medicine-এর একটি গবেষণাও ডা. দীক্ষার এই মতকে সমর্থন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিরিয়ডের ঠিক আগে প্রোজেস্টেরন হরমোন বাড়ার ফলে শরীর এমনিতেই ক্লান্ত থাকে। এই সময় ‘High Intensity Interval Training’ (HIIT) করলে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, যা পিরিয়ড ফ্লো কমিয়ে দিতে পারে বা ব্যথা বাড়াতে পারে। তাই পিরিয়ডের সময় বা ‘বাত’ ফেজে ভারী ব্যায়াম একদম নয়, শুধু বিশ্রাম বা হালকা যোগাসনই শ্রেয়।
২. ইনফার্টিলিটি এবং স্ট্রেস: এক অদৃশ্য যোগসূত্র
বর্তমানে অনেক কম বয়সী নারীরাও কনসিভ (Conceive) করতে পারছেন না। ডা. দীক্ষা ভাবসার এর জন্য সরাসরি ‘স্ট্রেস’-কে দায়ী করেছেন। নারীরা এখন সর্বক্ষেত্রে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যস্ত, আর এতেই তাঁরা নিজেদের ‘ফেমিনিন এনার্জি’ বা নারীসত্তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
অন্যান্য সোর্স থেকে জানা যায়, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ‘Cortisol Steal’-এর জন্ম দেয়। অর্থাৎ, শরীর স্ট্রেস হরমোন তৈরি করতে গিয়ে প্রজনন হরমোন তৈরি করা কমিয়ে দেয়। ডা. দীক্ষা পরামর্শ দিচ্ছেন, “নিজেকে প্রমাণ করা বন্ধ করুন। মাতৃত্ব বা কনসিভ করা আনন্দের বিষয় হওয়া উচিত, কোনো টার্গেট নয়।”
৩. পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে ম্যাজিক টি (Magic Tea for Period Cramps)
পেইনকিলার খেয়ে লিভারের ক্ষতি না করে ডা. দীক্ষা একটি বিশেষ চায়ের কথা বলেছেন যা জাদুর মতো কাজ করে। একে বলা হয় ‘CCF Tea’।
- উপকরণ: জিরে, ধনে এবং মৌরি (Cumin, Coriander, Fennel)।
- পদ্ধতি: এক গ্লাস জলে এই মশলাগুলো ফুটিয়ে অর্ধেক করে ছেঁকে নিন।
- এটি শুধু পিরিয়ড পেইন কমায় না, ব্লোটিং এবং হজমের সমস্যাও দূর করে। পাশাপাশি তিনি ‘Seed Cycling’-এর ওপর জোর দিয়েছেন, যা ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন ব্যালেন্স করতে সাহায্য করে।
৪. স্কিনকেয়ার: ক্রিম নয়, খাবারই আসল (Inside-Out Approach)
আপনার ত্বক কেমন হবে, তা নির্ভর করে আপনার ‘দোষ’-এর ওপর।
- বাত স্কিন (Vata Skin): রুক্ষ ও শুষ্ক। এদের জন্য তেলের ম্যাসাজ বা অভয়ঙ্গ (Abhyanga) মাস্ট।
- পিত্ত স্কিন (Pitta Skin): স্পর্শকাতর, অয়েলি এবং অ্যাকনে প্রবণ। এদের ঝাল-মশলা কম খাওয়া উচিত এবং গোলাপ জল ব্যবহার করা উচিত।
- কফ স্কিন (Kapha Skin): সফট এবং প্লাম্পি।
ডা. দীক্ষা মনে করান, “আপনি যা খাচ্ছেন, তার ৯০% প্রভাব আপনার ত্বকে পড়ে। আর যা মুখে মাখছেন, তার প্রভাব মাত্র ১০%।” তাই ফাস্ট ফুড আর কার্বনেটেড ড্রিংকস খেয়ে গ্লোয়িং স্কিনের আশা করা বৃথা।
৫. মর্নিং রুটিন: ব্যস্ত নারীদের জন্য ৫ মিনিটের টোটকা
চাকরি, সংসার সামলে নিজের জন্য সময় পান না? ডা. ভাবসার দিচ্ছেন সহজ সমাধান:
- মালাসন (Malasana): সকালে ব্রাশ করার পর উবু হয়ে বসে (Indian toilet posture) এক গ্লাস ইষদুষ্ণ জল পান করুন। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেলভিক ফ্লোরকে শক্তিশালী করে।
- অয়েল পুলিং (Oil Pulling): মুখে তিল তেল বা নারকেল তেল নিয়ে ৫ মিনিট কুলকুচি করুন। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং হরমোনাল ব্যালেন্স ঠিক রাখে।
আরও পড়ুন : সেলিব্রিটিদের মতো জৌলুস আর ফিট বডি চান? বাড়িতেই করুন এই বিশেষ ম্যাসাজ
সব পরবর্তী যত্ন (Postpartum Care)
সন্তান হওয়ার পর মায়েরা নিজেদের কথা ভুলে যান। আয়ুর্বেদ মতে, প্রসবের পর ৪০ দিন হলো মায়ের পুনর্জন্মের সময়। এই সময় ‘শতাভরী’ (Shatavari) দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে ল্যাকটেশন বাড়ে এবং হরমোন ব্যালেন্স হয়। এছাড়া ডা. দীক্ষা সিজারের পরেও হালকা হাতে পায়ে এবং শরীরে তেল মালিশের পরামর্শ দেন, যা ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ কাটাতে সাহায্য করে।
নিউজ অফবিট টিপ: আয়ুর্বেদ কোনো মন্থর চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। ডা. দীক্ষার মতে, ক্রনিক রোগ বা অটো-ইমিউন ডিজিজ (যেমন থাইরয়েড)-এর ক্ষেত্রে মডার্ন মেডিসিন যেখানে শুধু ম্যানেজ করতে পারে, আয়ুর্বেদ সেখানে গোড়া থেকে সারাতে পারে। তাই আজ থেকেই শুরু করুন এই ছোট ছোট লাইফস্টাইল পরিবর্তন।
Most Viewed Posts
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?
- Digha Jagannath Temple Facts ︱দীঘা জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে জানুন এই দশটি অজানা তথ্য

