নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: এবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে সমালোচনার মুখে বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামেই পরিচিত। শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের তুলনা টানতে গিয়ে কৃষ্ণের ত্রিভঙ্গ ভঙ্গি থেকে বাঁশি বাজানো নিয়েও কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মন্তব্য ঘিরে মথুরা-বৃন্দাবনের সাধুসন্ত থেকে শুরু করে যাদব সমাজের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে দাবি। বিতর্কের মুখে শেষপর্যন্ত ক্ষমা চাইতে হয়েছে এই ধর্মগুরুকে।
ঠিক কী বলেছিলেন বাগেশ্বর বাবা?
বিষ্ণুর অষ্টম অবতার, ভগবদ্গীতার উপদেশদাতা, মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র এবং ভারতীয় ধর্মদর্শনে অসামান্য প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক বিচক্ষণতার প্রতীক ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। সেই শ্রীকৃষ্ণকে নিয়েই এবার বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত সনাতন ধর্মপ্রচারক বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে।
মধ্যপ্রদেশের ছাতরপুর জেলার বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায় আয়োজিত একটি রামকথা অনুষ্ঠানে শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের তুলনা টানতে গিয়ে বিতর্কে জড়ান তিনি।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, ‘তোমাদের কৃষ্ণ বাঁকা, আমাদের রাম সোজা। কৃষ্ণের দাঁড়ানোর ভঙ্গি বাঁকা, তাঁর চলনও বাঁকা।’
শুধু সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। অভিযোগ, শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি বাজানো নিয়েও কটাক্ষ করেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ ছিল, বাঁশি বাজানো এমন কী বড় কাজ? তার তুলনায় ধনুক চালানোই প্রকৃত বীরত্বের পরিচয়।
শ্রীরামের ধনুর্বিদ্যার সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি বাজানোর তুলনা টেনে দেওয়া এই মন্তব্যকে অনেকেই শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অবমাননাকর বলে মনে করেছেন।
শ্রীকৃষ্ণের ত্রিভঙ্গ ভঙ্গি নিয়ে উপহাসের অভিযোগ
হিন্দুধর্মের বৈষ্ণব ঐতিহ্যে শ্রীকৃষ্ণের ত্রিভঙ্গ ভঙ্গির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মাথা, কোমর ও পায়ের বিশেষ বাঁক নিয়ে দাঁড়ানো শ্রীকৃষ্ণের এই রূপ ভক্তদের কাছে সৌন্দর্য, প্রেম ও ঐশ্বরিক লীলার প্রতীক। তাঁর হাতে থাকা বাঁশিও ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আকর্ষণের অন্যতম প্রতীক।
অথচ সেই ত্রিভঙ্গ ভঙ্গি এবং বাঁশি বাজানোর প্রসঙ্গ টেনে শ্রীরামের সঙ্গে তুলনা করায় প্রশ্ন উঠেছে বাগেশ্বর বাবার বক্তব্য নিয়ে।
মথুরা-বৃন্দাবনের সাধুসন্ত ও যাদব সমাজের ক্ষোভ
বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক। মথুরা-বৃন্দাবনের সাধুসন্ত এবং যাদব সমাজের একাংশ তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণ দুজনেই হিন্দুধর্মের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় আরাধ্য দেবতা। তাঁদের মধ্যে তুলনা টেনে একজনকে শ্রেষ্ঠ এবং অন্যজনকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।
এই বিতর্কে আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। শ্রীকৃষ্ণ শুধু বাঁশিবাদক নন, মহাভারতের অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং ভগবদ্গীতার মাধ্যমে ধর্ম, কর্ম ও কর্তব্যের দর্শনের উপদেশদাতা। ফলে তাঁর বাঁশি বাজানোর প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে তাঁকে হেয় করার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক কৃষ্ণভক্ত।
বিতর্ক সামলাতে শেষপর্যন্ত ক্ষমা চাইলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী
বিতর্ক ক্রমশ বাড়তে থাকায় শেষপর্যন্ত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান বাগেশ্বর বাবা বলে জানা গিয়েছে।
তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বক্তব্যগুলি আবেগের বশে বলা হয়েছিল। শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে কোনও বিভেদ তৈরি করা কিংবা কারও ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।
তিনি শ্রীকৃষ্ণের প্রতিও নিজের শ্রদ্ধার কথা জানান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা এবং ক্ষমাপ্রার্থনার পরেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এমন মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা।
এর আগেও বাঙালিদের দুর্গাপুজো ও আমিষ খাওয়া নিয়ে বিতর্ক
উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়। এর আগেও ধর্মীয় রীতিনীতি এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বাগেশ্বর বাবা।
দুর্গাপুজোর সময় বাঙালিদের আমিষ খাওয়ার প্রথা নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরেও সমালোচনা শুরু হয়েছিল। অভিযোগ, বাঙালিদের ধর্মীয় আচার এবং খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গে ‘পাখণ্ডী’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তিনি।
সেই সময়েও প্রশ্ন উঠেছিল, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুধর্মের আচার-অনুষ্ঠান ও খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তাকে উপেক্ষা করে কোনও একটি প্রথাকে কেন্দ্র করে সমগ্র সম্প্রদায়কে আক্রমণ করা কতটা যুক্তিসংগত?
এবার শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ সামনে আসায় তাঁর আগের বিতর্কিত বক্তব্যগুলিও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
সমাজমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড়
শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের অভিযোগ ঘিরে সমাজমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষত ফেসবুকে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিভিন্ন পোস্ট করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেউ তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন একজন ধর্মপ্রচারকের দায়িত্ববোধ নিয়ে।
সমালোচকদের বক্তব্য, শ্রীরাম ও শ্রীকৃষ্ণের উপাসনার রীতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একজনকে বড় করে দেখাতে গিয়ে অন্যজনের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করা ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিপন্থী।
অন্যদিকে, বাগেশ্বর বাবার ক্ষমাপ্রার্থনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, তিনি যদি নিজের বক্তব্যের ভুল স্বীকার করে থাকেন, তবে তাঁর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যাও বিবেচনা করা উচিত।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

