Baruipur Encounter Protest: বারুইপুরে অভিযুক্তের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। একদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ মিছিল, অন্যদিকে পুলিশের পদক্ষেপের সমর্থনে সরব বহু মানুষ। এই ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের অবস্থান ও বিতর্কের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। লিখেছেন তন্ময় সামন্ত
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার রাজপথে আজ দুপুরে হঠাৎ একটি বড় মিছিল। হাতে প্ল্যাকার্ড, চোখেমুখে ক্ষোভ, আর কণ্ঠে কড়া স্লোগান, ‘পুলিশই যখন খুনি’, ‘মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে’, ‘জঙ্গলের রাজত্ব চলছে’। কিন্তু কারা হাঁটছেন এই মিছিলে? এরা আসলে সমাজের সেই স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী, কথিত মানবাধিকার কর্মী, সিপিএম-এর একাংশ, যাদের সাধারণ মানুষ আজ চরম বিরক্তি ও কটাক্ষের সুরে ‘সেঁকু-মাকু’ বলে দেগে দিয়েছে, এবং অন্যান্য বিরোধী পার্টির (বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের) নেতা-কর্মীরা। এদের প্রাণ আজ বড় কেঁদেছে। মানবিকতা উথলে উঠছে বারুইপুরের সেই প্রভাস মণ্ডলের জন্য। কে প্রভাস? যে কি না মাত্র ১২ বছরের একটি নিষ্পাপ মেয়েকে পাশবিক ভাবে ধর্ষণ করে, নির্মমভাবে খুন করে তার মৃতদেহ বস্তায় ভরে ফেলে দিয়েছিল। এই ঘটনায় একদিকে যখন এই ‘সুশীল সমাজ’ রাস্তায় নেমে মানবাধিকারের ধোয়া তুলসীপাতা সাজছেন, অন্যদিকে তখন সাধারণ মানুষ পুলিশের পদক্ষেপে স্বস্তির শ্বাস ফেলছেন। সেই নির্যাতিতা মেয়েটির বাবা-মা, আর জি করের বিচার না পাওয়া পরিবার, কামদুনি থেকে নিউটাউনের ধর্ষিতার পরিবার বা তামান্নার মা—তাঁরা সবাই পুলিশের এই এনকাউন্টারকে খোলা মনে স্বাগত জানিয়েছেন। সবথেকে বড় কথা, অপরাধী প্রভাসের নিজের মা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর ছেলে যেমন জঘন্য অপরাধ করেছে, তার একদম সঠিক শাস্তিই সে পেয়েছে। তিনি ঘৃণায় ও লজ্জায় ছেলের মৃতদেহ পর্যন্ত নিতে অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাটা আসলে একটি ‘ওপেন অ্যান্ড শাট’ কেস। যেখানে সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীর গতিবিধি স্পষ্ট ছিল, যেখানে সে নিজে পুলিশের কাছে মুখে তার অপরাধ স্বীকার করেছে এবং ক্রাইম সিনে গিয়ে কোথায় মেয়েটিকে বস্তাবন্দি করে ফেলেছে তা নিজে চিহ্নিত করেছে। এরপর পুনর্নির্মাণের সময় যখন সে হঠাৎ এক পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, তখন পুলিশ কী করবে? পুলিশ কি তখন হাত জোড় করে বলবে, ‘ভাই প্রভাস, আমাদের গুলি করো, কারণ তোমার মানবাধিকার আছে’? আত্মরক্ষার অধিকার কি একটি দেশের পুলিশ বাহিনীর নেই? যে অপরাধী পালাতে গিয়ে পুলিশকে গুলি করতে পারে, সে যদি সেদিন পালিয়ে যেত, তবে এই লোকেরাই দেশের পুলিশের নামে ছিঃ ছিঃ করত। যারা আজ ‘কেস টু কেস’ তফাৎ বুঝতে চান না, যারা আর জি কর কাণ্ডে সঞ্জয় রায়কে বাঁচিয়ে রাখার সঙ্গে বারুইপুর কাণ্ডের তুলনা করছেন, তাঁদের বুঝতে হবে আর জি কর ছিল একটি বড়সড় প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ। সেখানে প্রমাণ লোপাট করা হয়েছিল, এবং গোটা চক্রের মাথাদের ধরার জন্য সঞ্জয়ের বয়ান পুলিশের কাছে একটি বড় হাতিয়ার। কিন্তু বারুইপুরের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা, সেখানে অপরাধী নিজেই সশস্ত্রে আক্রমণ করেছিল।
এই মানবাধিকার কর্মীরা কি জানেন দেশের বিচারব্যবস্থা আর জেলের বর্তমান পরিসংখ্যান ঠিক কতটা ভয়াবহ? ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ধর্ষণের কনভিকশন রেট বা আইনি শাস্তি পাওয়ার হার মাত্র ২২.৭ শতাংশ! অর্থাৎ, ১০০ জন ধর্ষকের মধ্যে প্রায় ৭৭ জনই প্রমাণের অভাবে বা আইনের ফাঁক গলে বীরদর্পে বেরিয়ে যায়। আর প্রিজন স্ট্যাটিস্টিকস অনুযায়ী, দেশের জেলগুলোতে এখন প্রিজন অকুপেন্সি রেট ১১২.৭%, যার মধ্যে প্রায় ৭২.৬% বন্দিই বিচারাধীন বা আন্ডারট্রায়াল। সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জেলের ভেতরে একজন বন্দির পেছনে বছরে প্রায় ৮৫,০০০ টাকার বেশি খরচ করে রাষ্ট্র। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জনগণের ঘাম-শ্রম দিয়ে উপার্জন করা কষ্টের করের টাকায় কেন আমরা একটা ১২ বছরের বাচ্চার ধর্ষক ও খুনিকে বছরের পর বছর ভাত, রুটি খাওয়াবো? কেন তার পেছনে জনগণের টাকায় উকিল খরচ হবে, তার মানবাধিকারের জন্য কেন এই তথাকথিত সমাজকর্মীরা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে ছুটে যাবেন? সমাজ ও রাষ্ট্রের কি কোনো দায় নেই সাধারণ মানুষের প্রতি?
এবার আসা যাক বিরোধী ও তৎকালীন শাসক দলের নির্লজ্জ ভণ্ডামির কথায়। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে যখন বছরের পর বছর এত এত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, তখন কোথায় ছিল এদের এই মানবতা? পার্কস্ট্রিট থেকে কামদুনি, কখনো খোদ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘ছোট ঘটনা’ বা ‘সাজানো ঘটনা’, কখনো বলা হয়েছে ‘লাভ অ্যাফেয়ার’ বলে উল্টে ধর্ষিতার দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে। হাঁসখালি কাণ্ডে তো খোদ নির্যাতিতা মেয়েটির চরিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছিল! আর আর জি করের মতো এত বড় প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ ঘটে যাওয়ার পরও কীভাবে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে, কীভাবে ক্রাইম সিন নষ্ট করা হয়েছে, তা গোটা বাংলা নিজের চোখে দেখেছে। তাদের যদি লজ্জা নামক কোনো বস্তু সত্যিই থাকত, তবে এই বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে আজ অন্তত তাদের মুখ খোলার কথা নয়। আজ যখন বর্তমান সরকার ও পুলিশ আত্মরক্ষা করতে গিয়ে একটি জঘন্য অপরাধীকে নির্মূল করেছে, তখন তাদের হৃদয় হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ছে। মানবাধিকারের মুখোশে লুকিয়ে থাকা এই রাজনৈতিক অসুখ আজ সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত নোংরা ভাবে ধরা পড়ে গেছে। মানবাধিকারের মুখোশে লুকিয়ে থাকা এই অসুখ আজ সাধারণ মানুষের কাছে ধরা পড়ে গেছে। কোনো সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার হলে, কোনো মেয়ে ধর্ষিতা হলে বা খুন হলে এই ‘সেঁকু-মাকু’ বা মানবাধিকার কর্মীদের দেখা যায় না, কিন্তু কোনো ধর্ষক, খুনি বা সন্ত্রাসী ধরা পড়লেই তাদের মানবাধিকার প্রেম উথলে ওঠে।
একবার শুধু চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো সেই ১২ বছরের ছোট্ট মেয়েটির কথা। যখন ওই পাশবিক রাক্ষসগুলো তার ছোট্ট শরীরটাকে ছিঁড়ে খাচ্ছিল, যখন সে ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে জীবন ভিক্ষা চেয়ে কাঁদছিল, তখন কোথায় ছিল তার মানবাধিকার? তার আর্তনাদ কি সেদিন পৌঁছেছিল এই বুদ্ধিজীবীদের কানে? পৌঁছায়নি। তাই সাধারণ মানুষের চোখে বারুইপুর পুলিশ যা করেছে, তা কোনো ‘জঙ্গলের রাজত্ব’ নয়, তা হলো একদম খাঁটি ‘ইনস্ট্যান্ট জাস্টিস’ বা তাৎক্ষণিক বিচার। দেশের প্রাতিষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থা যখন অপরাধীদের শাস্তি দিতে বছরের পর বছর সময় নেয়, যখন ৭৩ শতাংশ কেসে ধর্ষকরা হাসতে হাসতে খালাস পেয়ে যায়, তখন বারুইপুর পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপ সত্যিই মানুষের মনে ভরসা জোগায়। অপরাধ করলে মানবাধিকারের ছাতা মাথায় দিয়ে আর আড়াল করা যাবে না, সমাজ আজ এই নিষ্ঠুর কিন্তু সঠিক বাস্তবটাই মেনে নিয়েছে এবং রাস্তায় নামা ভণ্ড মানবাধিকার কর্মীদের মুখোশ এক ঝটকায় ছিঁড়ে ফেলে যোগ্য জবাব দিয়েছে।
#BaruipurEncounter #HumanRightsProtest #WestBengalPolitics #PoliceEncounter #BaruipurCase #KolkataNews #CrimeNews #PoliticalDebate #BreakingNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা
রাতভর খোলা থাকবে দোকান! জানলে অবাক হবেন বদলে যাচ্ছে কলকাতার চেনা ছবি, নতুন নিয়মে চমক

