Brigade Parade Ground political rally: ব্রিটিশ আমলের সামরিক প্যারেড থেকে স্বাধীন ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক সমাবেশ, লক্ষ মানুষের জনজোয়ার তৈরি হয় ব্রিগেডে। ইতিহাস, জনসমাবেশের শক্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ব্রিগেডের গুরুত্ব জানুন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে আসে—এই শহরের সঙ্গে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সম্পর্ক শুধু একটি খোলা মাঠের নয়, বরং এটি শহরের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক স্মৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-উত্তর ভারত—কলকাতার এই বিশাল ময়দান বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
ইতিহাসের ধারায় ফিরে তাকালে দেখা যায়, পলাশীর যুদ্ধের পর থেকেই কলকাতা ধীরে ধীরে ব্রিটিশ শাসনের প্রশাসনিক ও সামরিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। সেই সময়ই কলকাতার ময়দান এলাকা এবং তারই অংশ হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের গুরুত্ব তৈরি হতে শুরু করে। প্রথমদিকে এটি ছিল মূলত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্যারেড ও মহড়ার জায়গা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মাঠের চরিত্র বদলে যায়।
স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড হয়ে ওঠে জনসভা এবং রাজনৈতিক সমাবেশের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু থেকে শুরু করে ইন্দিরা গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই এই মাঠকে তাদের রাজনৈতিক সভার জন্য বেছে নিয়েছেন।
রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড যেন এক বিশেষ রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বহু সময়েই দেখা গেছে, বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে বা জনসমর্থনের শক্তি দেখাতে রাজনৈতিক দলগুলো ব্রিগেডকেই বেছে নেয়। কারণ এই বিশাল মাঠে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ সম্ভব, যা অন্য অনেক জায়গায় এত সহজে করা যায় না।
তাই প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে—কেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডই রাজনৈতিক নেতাদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় মঞ্চ হয়ে উঠল? কেন অন্য কোনো জায়গা সেই জায়গা নিতে পারেনি? আজকের প্রতিবেদনে সেই ইতিহাস, কারণ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকগুলোই খতিয়ে দেখা হবে।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কেন পছন্দ ব্রিগেড?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এতটা গুরুত্ব দেন মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হলো এই মাঠের বিশাল আকার। বাংলায় এমন খোলা জায়গা খুব কমই আছে যেখানে লক্ষাধিক মানুষের বিশাল জনসমাবেশ একসঙ্গে করা সম্ভব। সেই দিক থেকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড দীর্ঘদিন ধরেই জনসভা আয়োজনের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে পরিচিত।
এর পাশাপাশি ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বাংলার রাজনীতিতে এক ধরনের প্রতীকী কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। কলকাতার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মাঠে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সহজেই পৌঁছতে পারেন। রেল, বাস, মেট্রোসহ বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধা থাকায় বড় জনসমাবেশ সংগঠিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সভা ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি রাজনৈতিকভাবে এক ধরনের ঐতিহ্য ও গৌরবের জায়গা হয়ে উঠেছে।
এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেতারা শুধু বক্তৃতাই দেন না, বরং তাদের রাজনৈতিক শক্তি এবং জনসমর্থনের প্রদর্শনও করেন। একইসঙ্গে দলের ভাবমূর্তি এবং রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সুযোগ পান। তাই স্বাভাবিকভাবেই বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে বা নিজেদের সংগঠনের শক্তি দেখাতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ব্রিগেডের ইতিহাস: ব্রিটিশ সামরিক প্যারেড থেকে ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চ
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই মাঠের সঙ্গে কলকাতার ইতিহাস প্রায় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলের গুরুত্ব তৈরি হয়। সেই সময় মূলত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্যারেড, মহড়া এবং আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির জন্য এই বিস্তীর্ণ মাঠ ব্যবহার করা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জায়গার চরিত্র বদলাতে শুরু করে। স্বাধীনতার আগে যেমন এই ময়দান রাজনৈতিক আন্দোলন ও জনসভার সাক্ষী ছিল, তেমনই স্বাধীনতার পর এটি ধীরে ধীরে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জনসমাবেশের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায়, পলাশীর প্রান্তরে পরাজয়ের পর ১৭৫৮ সালে ব্রিটিশরা কলকাতায় তাদের সামরিক শক্তিকে আরও সুসংগঠিত করার জন্য ফোর্ট উইলিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু করে। সেই দুর্গ নির্মাণের জন্য আশেপাশের বিস্তীর্ণ জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়। সেই জঙ্গল কেটে তৈরি হয় যে বিশাল খোলা অঞ্চল, সেটিই পরে “ময়দান” নামে পরিচিত হয় এবং তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে আজকের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।
এই ময়দান এবং ব্রিগেড ধীরে ধীরে শুধু সামরিক কার্যকলাপের স্থানই নয়, বরং জনজীবন ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার আগে এখানেই দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস-এর সভা তৎকালীন মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তার বক্তৃতা শুনতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাতেন এই ময়দানে। স্বাধীনতার পরও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু-র সঙ্গে ব্রিগেডের একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৪৯ সালে কার্ফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও লক্ষাধিক মানুষ নেহেরুর ভাষণ শুনতে ব্রিগেডে উপস্থিত হয়েছিলেন। বলা হয়, এই জায়গাটি নেহেরুর এতটাই প্রিয় ছিল যে তার মৃত্যুর পর তার চিতাভস্মও এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-ও এই ব্রিগেডেই তার গুরুত্বপূর্ণ জনসভা করেছিলেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই মঞ্চকে বেছে নিয়েছেন।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বাম আমলেও ব্রিগেড এক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু-র সময় এই মাঠে একাধিক বিশাল সমাবেশ হয়েছে। আবার একই মঞ্চে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী-ও কংগ্রেস বিরোধী রাজনৈতিক স্লোগান তুলেছিলেন।
শুধু ভারতীয় নেতারাই নন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এই ময়দান ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে। বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-ও এই ময়দানেই ভাষণ দিয়েছিলেন, যা ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড যেন ভারতের রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী রাজনীতির ময়দানে ছিলেন, তখনও বারবার তিনি এই ব্রিগেডকেই বেছে নিয়েছিলেন বিশাল জনসমাবেশের জন্য। ক্ষমতায় আসার পরও সেই ঐতিহ্য বজায় রয়েছে।
আজকের দিনে এসে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-ও এই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকেই তার রাজনৈতিক জনসভার অন্যতম প্রধান মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড শুধু একটি মাঠ নয়—এটি ইতিহাস, রাজনীতি এবং জনসমর্থনের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র, যা বহু দশক ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তগুলোর সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
পরিবেশগত গুরুত্ব (Brigade Parade Ground political rally)
কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড শুধু রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেই পরিচিত নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও এই অঞ্চলটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দ্রুত কংক্রিটে ভরে ওঠা এই মহানগরে যে অল্প কয়েকটি বড় সবুজ এলাকা এখনও টিকে রয়েছে, তার মধ্যে ময়দান ও ব্রিগেড অন্যতম। এই বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ এবং তার আশেপাশের সবুজ অঞ্চলকে অনেক সময় কলকাতার “সবুজ ফুসফুস” বলেও অভিহিত করা হয়। কারণ এই বিশাল খোলা জায়গা শহরের বায়ু চলাচলকে সহজ করে এবং শহরের তাপমাত্রা ও জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিবেশবিদদের মতে, এমন বড় সবুজ খোলা জায়গা শহরের কার্বন শোষণে সাহায্য করে। গাছপালা এবং খোলা ঘাসের মাঠ বায়ুদূষণ কিছুটা হলেও কমাতে সহায়তা করে এবং শহরের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও উষ্ণ আবহাওয়ার শহরে এই ধরনের খোলা সবুজ অঞ্চল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ব্রিগেড ময়দান এবং তার আশেপাশের এলাকায় বহু গাছপালা রয়েছে, যা শুধু শহরের পরিবেশকে সুস্থ রাখতেই সাহায্য করে না, বরং বিভিন্ন পাখি ও ছোট প্রাণীর জন্যও একটি আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। ফলে এই অঞ্চলটি নগর জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া, যখন এখানে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ হয়, তখনও এই বিশাল খোলা জায়গা এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ দূষণের প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সংকীর্ণ বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার তুলনায় খোলা মাঠে মানুষের জমায়েত হলে বায়ু চলাচল অনেক বেশি স্বাভাবিক থাকে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড শুধু রাজনৈতিক সভার মঞ্চ নয়—এটি কলকাতার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বহুদিন ধরে।
ব্রিগেডে কীভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়? (Brigade Parade Ground political rally)
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কোনো বড় রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন করা হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া এবং বহুলস্তরীয়ভাবে সাজানো হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পুলিশ প্রশাসন আগেভাগেই গোটা এলাকাকে বিভিন্ন সেক্টর ও জোনে ভাগ করে পরিকল্পনা তৈরি করে।
সাধারণত পুরো ব্রিগেড এলাকা একাধিক সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকেন একজন করে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)। কয়েকটি সেক্টর মিলিয়ে একটি বড় জোন তৈরি করা হয়, যার দায়িত্বে থাকেন যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার কোনো পুলিশ আধিকারিক। সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকির জন্য সাধারণত অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (এডিজি) পদমর্যাদার কোনো উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তা পুরো অপারেশনের নেতৃত্ব দেন।
নিরাপত্তা জোরদার করতে গোটা এলাকাজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ব্রিগেড এবং তার আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয় এবং আশেপাশের বহুতল ভবন থেকেও নজরদারি চালানো হয়। এই ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে পুরো সমাবেশ এলাকাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
সমাবেশের সময় ব্রিগেড ও তার আশপাশের আকাশসীমাকে “নো-ফ্লাই জোন” হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফলে ওই সময়ে কোনো ধরনের ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে। এছাড়াও মিছিল বা সমাবেশের সম্ভাব্য রুট জুড়ে প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি পুলিশ পিকেট, চেকিং পয়েন্ট এবং ব্যারিকেড বসানো হয়। বিশেষভাবে ভিআইপি চলাচলের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়।
শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাও সেই অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যাতে জনসমাগমের সময় যানজট বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। পাশাপাশি পুলিশের টহলদারি আরও বাড়ানো হয় এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ মানেই একটি সুপরিকল্পিত এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য একটাই—লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতির মধ্যেও যাতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
ভবিষ্যতের রাজনীতিতেও ব্রিগেডের গুরুত্ব অটুট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনেও কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস ও রাজনৈতিক পটভূমিকায় একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর প্রধান কারণ হলো মানুষের সরাসরি উপস্থিতি এবং জনজোয়ারের শক্তি।
ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের ধরন অনেক বদলে গেলেও, মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার জন্য এখনও বৃহৎ জনসমাবেশের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। রাজনৈতিক দলের নেতাদের মতে, মাঠে নেমে মানুষের সামনে বক্তব্য রাখা, তাদের প্রতিক্রিয়া সরাসরি দেখা এবং জনসমর্থনের বাস্তব চিত্র উপলব্ধি করার জন্য এই ধরনের সভা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিশাল সমাবেশ অনেক সময় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণকেও প্রভাবিত করে। তাই আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরেও ব্রিগেডে হওয়া সমাবেশ এবং সেখানে মানুষের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশের ধরনেও কিছু পরিবর্তন আসছে (Brigade Parade Ground political rally)। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, সভা থেকে লাইভ স্ট্রিমিং করা হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেই বার্তা আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে মাঠে উপস্থিত জনতার পাশাপাশি ভার্চুয়াল মাধ্যমেও এই সমাবেশের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আরও বিস্তৃত পরিসরে। অবশ্যই পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে নানা উদ্বেগও রয়েছে। কিন্তু সেই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই প্রশাসন এবং আয়োজকেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, রাজনৈতিক ঐক্য এবং জনসমর্থনের প্রকাশ—এই তিনের মিলিত কেন্দ্র হিসেবেই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড আগামী দিনেও ভারতের রাজনৈতিক জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে।
#BrigadeParadeGround #KolkataPolitics #PoliticalRally #BengalPolitics
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বৃদ্ধ বয়সে ডিভোর্স চাইছেন পঙ্কজ-ডিম্পল! মাঝখানে ফেঁসে গেলেন অপরশক্তি খুরানা?
- ‘গুজারিশ’-এর ইথান মাসকারেনহাস আজ বাস্তব! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশে প্রথমবার ইউথেনেশিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যুর) অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
- স্বেচ্ছামৃত্যু কি ভারতে বৈধ? স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন কে করতে পারেন? ভারতে ইউথানেসিয়া নিয়ে কী বলছে আইন
- মাছ-মাংস না খেলেও শরীর থাকবে ফিট! জেনে নিন, ৩টি হেলদি সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি
- যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?

