Cathedral Road Rally: ক্যাথেড্রাল রোডের ছাত্র সমাবেশে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ মমতার, অভিষেকের, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এল একের পর এক রাজনৈতিক আক্রমণ, আত্মবিশ্বাসী বার্তা এবং সরাসরি চ্যালেঞ্জ। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, রাজনৈতিক লড়াই থেকে পিছিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। তাঁর বক্তব্যে যেমন বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ ছিল, তেমনই ছিল দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা। বিশেষ করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অভিষেকের একটি মন্তব্য ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, “যতদিন না আমার মৃতদেহ দেখবেন আর মৃতদেহের উপর জোড়া ফুলের পতাকা দেখবেন, কোনও কথা বিশ্বাস করবেন না।”
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও গুজব বা রাজনৈতিক প্রচারে যেন তাঁরা বিভ্রান্ত না হন। তিনি রাজনৈতিক লড়াই থেকে সরে যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই বলেই বার্তা দিয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দলীয় কর্মীদের মধ্যেও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার আহ্বান হিসেবেই সামনে এসেছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি দলীয় স্লোগানও দেন। তাঁর কথায় উঠে আসে “জয় বাংলা, জয় হিন্দ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ”-এর মতো স্লোগান। অর্থাৎ নিজের বক্তব্যের শেষপর্বেও দলীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি আনুগত্যের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে দলীয় কার্যালয় সংক্রান্ত একটি ঘটনাও বিশেষভাবে উঠে আসে। তাঁর দাবি, আগের দিন তাঁদের দলীয় কার্যালয়ের বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড খুলতে আসা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দেন।
অভিষেকের বক্তব্য, “গতকাল অবৈধভাবে আমাদের পার্টি অফিসের বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড খুলতে এসেছিল।”
‘চিনির দাম চল্লিশ থেকে সত্তর’—দ্রব্যমূল্য নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্রকে নিশানা
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত দ্রব্যমূল্যের প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্যে চিনি, পেঁয়াজ, লেবু, সরষের তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির উদাহরণ উঠে আসে।
তিনি বলেন, “এক তারিখে চিনির দাম ছিল চল্লিশ টাকা। আজকে চিনির দাম সত্তর টাকা।” তাঁর দাবি, পেঁয়াজের দামও কুড়ি টাকা থেকে বেড়ে সত্তর-আশি টাকা হয়েছে। লেবু এবং সরষের তেলের দাম বৃদ্ধির কথাও তিনি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিতও স্পষ্টভাবে ছিল। তিনি রাজ্যের মানুষকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের তুলনা টানেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, মানুষ কোন ধরনের সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বেছে নেবেন, সেই প্রশ্ন।
তিনি বলেন, “আমরা বাংলার মানুষকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কী চাই, দ্বৈত ইঞ্জিন না একক ইঞ্জিন। মোদীজির গ্যারান্টি না দিদির ওয়ারেন্টি। বাংলার মানুষ বলেছিল দিদির ওয়ারেন্টি।” ‘বাকি পাঁচ বছর পর দূরবীন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না’—বিরোধীদের কড়া আক্রমণ
বিরোধী দল এবং বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তীব্র আক্রমণ শোনা যায় অভিষেকের বক্তব্যে। তিনি বিজেপির রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অতীতের নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ সামনে আনেন।
অভিষেক বলেন, বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বড় সংখ্যক আসন জয়ের দাবি করা হচ্ছে। এর জবাব দিতে গিয়ে তিনি অতীতের বামফ্রন্ট শাসনের উদাহরণ টেনে আনেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় বামফ্রন্টও দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার পর শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ে।
এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “আপনাদের শেষটা শুরু হয়ে গেছে। বাকি পাঁচ বছর পর দূরবীন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না।” তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে তেমনই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তিনি। “মাথা নত হবে না”—এই বার্তাও তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সুর হয়ে ওঠে।
#MamataBanerjee #CathedralRoadRally #TrinamoolCongress #TMC #TrinamoolChhatraParishad #BJP #WestBengalPolitics #PoliceControversy #StudentRally #BengalPolitics #Abhishekbanerjee
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

