Commercial Gas Price Hike: মে দিবসের সকালেই পকেটে কোপ, হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পে চরম হাহাকার
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ১ মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস। খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবেই গোটা বিশ্ব এই দিনটি পালন করে। কিন্তু ২০২৬ সালের এই মে দিবস বাংলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়ে এল এক চরম দুঃসংবাদ। দ্বিতীয় দফার লোকসভা নির্বাচন মিটতে না মিটতেই যেন খড়্গ নেমে এল আমজনতা ও ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে। এক ধাক্কায় ১৯ কেজি বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম (Commercial Gas Price Hike) বাড়ল ৯৯৪ টাকা! কলকাতায় এখন একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৩,২০২ টাকায়। ভোটের কারণে এতদিন যে মূল্যবৃদ্ধিকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল, ব্যালট বক্সে মানুষের রায় বন্দী হতেই তা যেন স্বমূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করল। আর এই বিপুল দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে চলেছে আপনার দৈনন্দিন খাবারে। পাড়ার চপ-কাটলেটের দোকান থেকে শুরু করে শহরের নামী রেস্তোরাঁ— সর্বত্রই এখন চরম হাহাকার।
‘ভোট মিটেছে, তাই ভর্তুকির নাটক শেষ!’
এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্ক কাজ করছে, তা নিয়ে বিরোধী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সকলেই সরব। গত কয়েক মাস ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়ছিল। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সেই দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারে পড়তে দেয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা ছিল এক ধরনের ‘রাজনৈতিক ভর্তুকি’। কিন্তু কয়েক দফার ভোট মিটে যেতেই সেই ছদ্মবেশ খসে পড়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনের আগে মানুষকে শান্ত রাখার যে নাটক চলছিল, তা শেষ। এখন সেই জমে থাকা ঘাটতি মেটাতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধিকে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই ‘চুনাবি বিল’ (Chunavi Bill) বা নির্বাচনী কর বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন।
রেস্তোরাঁ মালিকদের মাথায় হাত: ‘ফের কয়লার উনুনে ফিরতে হবে’
বাণিজ্যিক গ্যাসের এই আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধির পর সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে রাজ্যের রেস্তোরাঁ এবং হোটেল শিল্প। করোনার পর থেকে এমনিতেই এই শিল্প ধুঁকছিল, তার ওপর কাঁচামাল, ভোজ্যতেল এবং সবজির দাম আকাশছোঁয়া। এবার গ্যাসের দামে এই প্রায় হাজার টাকার লাফ যেন কফিনের শেষ পেরেক পুঁতে দিল।
কলকাতার হাতিবাগান এলাকার একটি জনপ্রিয় বাঙালি রেস্তোরাঁর মালিক অনির্বাণ সেনগুপ্ত চরম হতাশার সুরে বলেন, “আমরা তো ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে গেছি। আগে একটা সিলিন্ডার ২২০০-২৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন সেটা ৩২০০ টাকা হয়ে গেল। সারাদিনে আমাদের অন্তত তিনটে কমার্শিয়াল সিলিন্ডার লাগে। একদিনেই যদি গ্যাসের পেছনে ৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়, তাহলে আমরা কর্মচারীদের বেতন দেব কোথা থেকে? আর নিজেদেরই বা লাভ (Profit) কী থাকবে? খাবারের দাম তো আমরা রাতারাতি আকাশছোঁয়া করতে পারি না, তাহলে খদ্দের আসবে না। বাধ্য হয়ে আমাদের আবার সেই পুরোনো আমলের কয়লার উনুনেই ফিরে যেতে হবে। এছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না।”
একই সুর শোনা গেল যাদবপুরের এক বিরিয়ানি বিক্রেতা সুমিত দাসের গলাতেও। তিনি বলেন, “দাদা, আমরা খুব সামান্য লাভে ব্যবসা করি। এমনিতেই মাংসের দাম বেশি। এখন গ্যাস ৩২০০ টাকা হলে এক প্লেট বিরিয়ানির দাম অন্তত ২০-৩০ টাকা বাড়াতে হবে। খদ্দেররা তো আমাদের সঙ্গে এসে রোজ ঝগড়া করবে। সরকারের উচিত আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের কথা অন্তত একবার ভাবা।”
কালোবাজারির ছায়া: ‘৪৫০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হবে এবার’
দামের এই আনুষ্ঠানিক বৃদ্ধির বাইরেও রয়েছে এক চরম বাস্তব, যা সাধারণ খবরের শিরোনামে খুব একটা আসে না। রাজ্যের অনেক জায়গাতেই বাণিজ্যিক গ্যাসের প্রবল সংকট বা কালোবাজারি (Black Market) চলে।
সল্টলেক সেক্টর ফাইভের এক কর্পোরেট ক্যান্টিন চালক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে জানান, “কাগজে-কলমে তো দাম ৩২০০ টাকা দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা অনেক ভয়ঙ্কর। এমনিতেই সব সময় ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যায় না। যখন সরকারি দাম ২২০০ টাকা ছিল, তখন এজেন্টদের কাছে গ্যাস না থাকায় আমাদের কালোবাজারি করে ৩০০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হতো। এখন যখন সরকারি দামই ৩২০০ টাকা হয়ে গেছে, তখন তো এই অসাধু চক্র আমাদের কাছ থেকে চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার (৪০০০-৪৫০০) টাকা হাঁকবে। এই দামে গ্যাস কিনে ব্যবসা চালানো একেবারেই অসম্ভব। এর চেয়ে ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া অনেক ভালো।”
আরও পড়ুন: ভোট মিটতেই পকেটে ‘বুলডোজার’! গোটা দেশের মধ্যে বাংলাতেই কেন সবচেয়ে বেশি বাড়ল গ্যাসের দাম?
আমজনতার পাতে আগুন: প্রাতরাশ থেকে ডিনার, সব মহার্ঘ্য
হোটেল বা রেস্তোরাঁর মালিকরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের লোকসান ঠেকাতে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হবেন। আর তার সম্পূর্ণ দায় এসে পড়বে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। সকালের প্রাতরাশ (Pratorash) বা টিফিনের কচুরি থেকে শুরু করে দুপুরের অফিসের থালি কিংবা সন্ধের চায়ের আড্ডা— সব কিছুর জন্যই এবার থেকে আপনাকে গাঁটের কড়ি বেশি খসাতে হবে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আবহে রাজনীতির এই চরম খেলা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কতটা বিপর্যস্ত করতে পারে, মে দিবসের এই মূল্যবৃদ্ধি তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ। রাজনৈতিক দলগুলো যখন একে অপরের দিকে কাদা ছোঁড়াছুড়িতে ব্যস্ত, তখন সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং ছোট ব্যবসায়ীদের পিঠ একেবারে দেওয়ালে ঠেকে গেছে।
হোটেল বা রেস্তোরাঁর খাবারে এই আসন্ন দাম বৃদ্ধি নিয়ে আপনার কী মতামত? আপনার পাড়ার দোকানে কি ইতিমধ্যেই খাবারের দাম বেড়েছে? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। নিত্যদিনের অর্থনীতি এবং বাজারের বাস্তব চিত্র জানতে নিয়মিত চোখ রাখুন NewsOffBeat-এ।
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই

